বিশ্ব
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ
ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন সংস্থার মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিয়মিত ব্রিফিং চলাকালে সিনহুয়ার এক প্রশ্নের জবাবে দুজারিক বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে ইরানের স্থায়ী মিশন যে চিঠি পাঠিয়েছে সে প্রসঙ্গে আমি আপনাদের বলতে পারি যে, এই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা, যুদ্ধমহড়া অথবা কেবল সামরিক নৌ-উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে আমরা যে তীব্র ভাষায় বক্তৃতা দেখতে পাচ্ছি। এতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয়কেই মতপার্থক্য মেটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য উৎসাহিত করছি।’
চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাবে দেশটি দৃঢ় ও সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং জাতিসংঘ সনদের অধীনে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘ মহাসচিবকে খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
দুজারিকের মতে, ইরানের স্থায়ী মিশনের অনুরোধ অনুযায়ী চিঠিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ উভয়ের কাছেই পাঠানো হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরানকে সীমিত হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হতে পারে বলে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক জানালেও তেরানে সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেই হামলার বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বলতে পারেন, আমি বিষয়টি (হামলা) বিবেচনা করছি।’ কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আরও বলেন, ইরানকে ‘একটি ন্যায্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, তার দেশ ‘আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে’ একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করে ওয়াশিংটনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আরাগচি এমএসএনবিসির ‘মর্নিং জো’-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই চুক্তি করতে বেশি সময় লাগবে না। হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা চুক্তির মূল বিষয় নিয়ে বাস্তব ও গুরুতর আলোচনা শুরু করতে পারব এবং একটি সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পারব।’
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে চুক্তিসংক্রান্ত দাবি আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। এখনো আরও যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে দেশটি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত জাহাজের ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগর থেকে পাঠানো ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোল্ড নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
এমন বাস্তবতায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে গেলে তারা উভই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমরা যেমন কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং ঠিক একইভাবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।’
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি ভাইজ বলেন, ইরান যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখবে।
ভাইজের মতে, প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের নেতারা দ্বিতীয়বার ভাববেন না এবং তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা হলেও তারা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
যা নিয়ে চলছে আলোচনা
এসব ঘটনার এক দিন আগে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনই ‘যথেষ্ট সময়’। জেনেভায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আলোচনাসহ বিভিন্ন বৈঠকে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম হলেও আলোচনা চলছে।
তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালে যে পারমাণবিক হয়, তা থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়। তারপর থেকেই এই আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
তারপর থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর দাবিগুলো, যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল ইরান।
যদিও প্রকাশ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিন্ন কথা বলেছেন, আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেন, সর্বশেষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান আস্থা বৃদ্ধিমূলক কিছু পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করবে।’
আরাগচির এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা রাখতে পারবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও করতে পারবে না।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যেকোনো আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হওয়া উচিত। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছে তেহরান।
সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে তেহরান বাধা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ মনে করে, এর লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত অস্ত্র উন্নয়ন।
মার্কিন কংগ্রেস যা বলছে
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন শুক্রবার জানান, তিনি একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ প্রণয়ন করেছেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের একক সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ এটিতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পেরই সই লাগবে। তবুও অতীতে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সিনেটে যেসব রেজল্যুশনের ওপর ভোট হয়েছিল, সেগুলোর মতোই এই উদ্যোগে উভয় দলের কিছু সমর্থন তৈরি হয়েছে। যদিও সেসব রেজল্যুশন পাস হয়নি, তবু তা ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ তুলে ধরে।
এক সংবাদ বিবৃতিতে কাইন বলেন, ‘যদি আমার কিছু সহকর্মী যুদ্ধকে সমর্থন করেন, তাহলে তাদের উচিত সেই যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার সাহস দেখানো এবং ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করা—ডেস্কের নিচে লুকিয়ে থাকা নয়।’
৪ ঘণ্টা আগে
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডার নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডারসহ আরও ৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েন বলে জানিয়েছে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) প্রাথমিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে জানায়, পূর্ব লেবাননের রিয়াক এলাকায় একটি ভবনে চালানো বিমান হামলায় ১০ জনের বেশি নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
পরে জানা যায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জন। এছাড়া নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।
নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডার ছিলেন। তারা হলেন— হুসেইন মোহাম্মদ ইয়াঘি, আলি জেইদ আল-মুসাওয়ি এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-মুসাওয়ি।
কমান্ডার হুসেইন মোহাম্মদ ইয়াঘির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তিনি লেবানন ও এর জনগণের প্রতিরক্ষায় শহিদ হয়েছেন।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হিজবুল্লাহর অবস্থানসহ পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬ টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যেই লেবাননে হামলা চালিয়ে আসছে।
৫ ঘণ্টা আগে
এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে তুরস্কে ডয়চে ভেলের সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিজান উলুদাগকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্ক সরকার। ওই অভিযোগ একটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উলুদাগকে তার আঙ্কারার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলিজান উলুদাগগ ডয়চে ভেলের তুর্কি সার্ভিসে কাজ করেন। তার বিরুদ্ধে এক্সে করা পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতির মামলার ওপর প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ইস্তাম্বুলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগ আনেন। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে উলুদাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার পোস্টগুলো ছিল একজন বিচারবিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে করা বৈধ সমালোচনা। আদালতের নথি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে কুমহুরিয়েত পত্রিকা।
তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানায়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে তারা।
অন্যদিকে, ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং উলুদাগের মুক্তি দাবি করে এ গ্রেপ্তারকে ‘ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেমূলক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
ইস্তাম্বুলের চাগলায়ান আদালত ভবনের বাইরে সাংবাদিকরা উলুদাগের আটকাদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদমাধ্যম বিষয়ক অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তুরস্ককে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে দমনমূলক দেশগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশটির অধিকাংশ গণমাধ্যম সরকারি নিয়ন্ত্রণে এবং সাংবাদিকরা প্রায়ই আইনি চাপ বা ভয়ভীতির মুখে পড়েন।
তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী দেশটির কারাগারে আছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৪
দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩১ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আফ্রিকার প্রাদেশিক পরিবহনমন্ত্রী ভায়োলেট ম্যাথিয়ে জানিয়েছেন, বাসটি যখন দক্ষিণ আফ্রিকার গাউতেং প্রদেশ থেকে জিম্বাবুয়ের দিকে যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি সীমান্তের কাছাকাছি এন১ মহাসড়কের পাশের একটি খাদে পড়ে যায়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসিকে ম্যাথিয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। আরও কিছু লোককে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জানাব।’ বাসটি যখন খাদে পড়ে যায়, তখন এতে আরও যাত্রী ছিল বলেও জানান তিনি।
লিম্পোপো পরিবহ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।
২০২৫ সালে অক্টোবর মাসে যেখানে আরেকটি বাস দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত হয়েছিল, সেই একই এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
২ দিন আগে
গাজা যুদ্ধের শুরুতে নিহত ছিল প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে ২৫০০০ বেশি: ল্যানসেট
গাজায় দুই বছরব্যাপী যুদ্ধের প্রথম ১৬ মাসে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা সে সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘোষিত মৃত্যুসংখ্যার তুলনায় অন্তত ২৫ হাজার বেশি।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক গবেষণার মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের অনুপাত নিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে তথ্য দিয়েছিল, তা সঠিক ছিল।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা এবং ইসরায়েলের গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ২০০ নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা গাজায় সহিংসতায় নিহতদের মোট সংখ্যার ৫৬ শতাংশ।
দ্যা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এই গবেষণায় অংশ নেওয়া গবেষকদের মধ্যে ছিলেন লেখক, অর্থনীতিবিদ, জনসংখ্যাবিদ, মহামারিবিদ ও জরিপ বিশেষজ্ঞ। তারা বলেছেন, ‘সমন্বিত প্রমাণ বলছে, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গাজা উপত্যকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ আগ্রাসনে নিহত হয়েছে এবং সংঘাতের কারণে পরোক্ষভাবে অ-সহিংস মৃত্যুর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্যসংখ্যক।’
গাজায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তবে গত মাসে এক প্রবীণ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সংকলিত মৃত্যুর তথ্য মোটামুটি সঠিক।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাছাড়া এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সরাসরি নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৬০ জন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ৫৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
গত বছর ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় গবেষকরা অনুমান করেছিলেন, যুদ্ধের প্রথম ৯ মাসে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে নিহতের সংখ্যা জানিয়েছিল, তা তাদের হিসাবের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম ছিল।
নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সরকারিভাবে ইসরায়েল প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখানো হয়েছিল এবং হিসাবেও গরমিল করা হয়েছে।
গবেষণাটি গাজায় ২ হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে তৈরি, যেখানে জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। জরিপটি পরিচালনা করেন মূলত অভিজ্ঞ ফিলিস্তিনি জরিপকারীরা, যারা ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য স্থানে জরিপ কাজের জন্য পরিচিত।
বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ পর্যালোচিত গবেষণার অন্যতম লেখক এবং রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মাইকেল স্পাগাট বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি জরিপ এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য এটি মানসিকভাবে কষ্টকর ছিল। তাই জরিপের সময় প্রশ্নোত্তরকালে ওইসব মানুষের মানসিক অবস্থাসহ আরও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদেরই নিযুক্ত করা হয়।’
দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংঘাতে হতাহতের হিসাব নিয়ে কাজ করা স্পাগাট জানান, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৮ হাজার ২০০ মৃত্যুর পরোক্ষ কারণ অপুষ্টি ও চিকিৎসাহীনতা। তিনি ২০২৪ সালে ল্যানসেটে প্রকাশিত আরেক গবেষণার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যেখানে প্রতি একটি সরাসরি মৃত্যুর বিপরীতে চারটি পরোক্ষ মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল।
স্পাগাট বলেন, ‘প্রতিটি সংঘাতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুর ধরনে বড় পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: কসোভো সংঘাতের সব মৃত্যুই ছিল সহিংস, কিন্তু দারফুরের মতো জায়গায় আবার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। গাজায় শুরুতে অন্তত প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও একটি চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি অঞ্চলটি ছোট হওয়ায় সহায়তা পৌঁছালে মানুষকে দ্রুত সাহায্য করা সম্ভব হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটিকে কম সংখ্যক মৃত্যু বলে ভাবার সঙ্গে আমি একমত নই। আমরা এই বিষয় নিয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা কমানোর প্রয়োজন বোধ করছি । তবে হ্যাঁ, অনেকের ধারণার তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হতে পারে।’
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। সেই সঙ্গে ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা অভিযান শুরু করে। ইসরায়েল বিমান হামলা, ট্যাংক গোলাবর্ষণ ও ভারী আর্টিলারি হামলায় গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
গবেষণাটি ইসরায়েলের অভিযানের সবচেয়ে তীব্র ও প্রাণঘাতী সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করলেও, মানবিক সংকটের সবচেয়ে চরম সময়কে অন্তর্ভুক্ত করেনি। গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছিলেন।
গাজায় নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের অনুপাত নিয়েও তীব্র বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের হামলায় উভয় পক্ষের সংখ্যা প্রায় সমান। তবে নতুন গবেষণা সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নভেম্বরে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ-এর একদল গবেষক অনুমান করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজায় ৭৮ হাজার ৩১৮ জন নিহত হয়েছেন যা নতুন গবেষণার সময়সীমার সঙ্গে প্রায় একই। তবে ওই গবেষণায় পরোক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ধরা হয় এবং এতে ২০২৩ সালে গাজায় আয়ুষ্কাল ৪৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
স্পাগাট বলেন, সংঘাতে মোট নিহতের একটি চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল সম্পদ প্রয়োজন হবে। সাম্প্রতিক গবেষণার সংখ্যাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ত্রুটির সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবে কী ঘটেছিল তা পুনর্গঠনের জন্য বহু মিলিয়ন পাউন্ডের গবেষণা প্রকল্প হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। গাজায় নিহত সব মানুষের পূর্ণ হিসাব পেতে অনেক সময় লাগবে, অবশ্য যদি কখনও তা সম্ভব হয়।’
২ দিন আগে
জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে: ইরান
চলমান উত্তেজনার মাঝেও পরমাণু আলোচনায় নির্দেশিকা নীতিমালা সম্পর্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ কূটনীতিকরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে যে কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপই বিকল্প।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয় পক্ষের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মাঝে ওমানের মধ্যস্থতায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দ্বিতীয় ধাপের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা কিছু নির্দেশনামূলক নীতির ওপর বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি, যার ভিত্তিতে আমরা এগোব এবং সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ শুরু করব।’
তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে ওমানে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের আলোচনার তুলনায় এবার ভালো অগ্রগতি হয়েছে। এখন আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট পথ রয়েছে যা আমি ইতিবাচক বলে মনে করি।’
তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্পর্কের ব্যবধান কমাতে যে সময় লাগবে, তা তিনি স্বীকার করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা। আরাগচির বরাত তিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, উভয় পক্ষ যখন চুক্তির খসড়া তৈরি করবে, তখন খসড়া বিনিময় করা হবে এবং তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার দেশ কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এ বিষয়ে একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
দ্য স্টোরি উইথ মার্থা ম্যাককালাম অনুষ্ঠানে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালো হয়েছে। তারা (তেহরান) পরবর্তীতে আবারও বসতে (আলোচনায়) রাজি হয়েছে। কিন্তু অন্য দিক থেকে খুব পরিষ্কার ছিল যে প্রেসিডেন্ট কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, যেগুলো ইরান এখনো স্বীকার করতে বা তা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত নয়।’
ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ‘আমরা কাজ চালিয়ে যাব। তবে কখন কূটনীতি স্বাভাবিক সীমায় পৌঁছেছে, প্রেসিডেন্টই তা ঠিক করার ক্ষমতা রাখেন।’
চ্যালেঞ্জের সামনে ইরান
বছরের পর বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি চেয়ে আসছে ইরান, যার মধ্যে রয়েছে অন্যান্য দেশ থেকে তেল কেনার ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা।
তেহরান বলেছে, চলমান আলোচনা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত এবং যেকোনো চুক্তিতে ইরানের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা থাকতে হবে, পাশাপাশি তাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বজায় থাকতে হবে।
ওয়াশিংটন চায়, ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। এ ছাড়াও ওয়াশিংটন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের মতো অপারমাণবিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনার পরিধি প্রসারিত করার চেষ্টা করেছে।
জবাবে ইরান বলেছে, তারা শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাব মেনে নেবে না। সেই সঙ্গে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও এই আলোচনার বিষয় নয়।
৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা আগে সামরিক মহড়ার জন্য সাময়িকভাবে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘোষণা দেয় তেহরান।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার প্রথম পর্বে ইরানের জলসীমায় বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছিল মার্কিন প্রশাসন। ওই ঘটনার জের ধরেই এবার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অবশ্য প্রণালিটি আসলেও বন্ধ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। কিন্তু ইরানের এমন পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরুর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং ‘নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উদ্বেগের’ কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য এটি বন্ধ রাখা হবে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনও কখনও এমন এক ধাক্কা খেতে পারে, যেখান থেকে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’
আলোচনায় ‘নতুন সম্ভাবনার সুযোগ’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। সেই সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ‘একটি নতুন জানালা খুলে গেছে।’
জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আলোচনা একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এবং বৃহত্তর পরিসরে এই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’ তবে ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তার পরিণতি শুধু দেশটির সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও এ সময় হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে সামরিক মহড়া বা হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেননি আরাগচি।
প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানের সঙ্গে করা আগের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি বারবার হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে বাধ্য করার জন্য তিনি শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। তবে ইরান জানিয়েছে, তেমন কিছু হলে তারাও পাল্টা হামলা চালাবে। ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড ঘিরেও তেহরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
‘কিছু দিক দিয়ে’ আলোচনা ভালো হয়েছে
সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। বৈঠকটি জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী ওমান গত ৬ ফেব্রুয়ারি আলোচনার প্রথম দফার বৈঠকও আয়োজন করেছিল।
জনসমক্ষে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও বহু বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবে যাতে সমঝোতার পর্যায়ে আসা যায়।
ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কথা বলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালোই হয়েছে। তবে অন্য দিক থেকে এটা স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) কিছু বিষয়ে কঠোর সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন, যা ইরান এখনও স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ও বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের দূতদের মধ্যেও আলোচনার আয়োজন করে। প্রতিবেশী ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানি পক্ষের নেতৃত্বদানকারী আরাগচি জানান, তিনি সোমবার জেনেভায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইরানের মন্ত্রী বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।
৩ দিন আগে
হকি ম্যাচ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা, বন্দুকধারীসহ হতাহত ৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের রোড আইল্যান্ডের একটি যুব হকি ম্যাচ চলাকালে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পটাকেটের পুলিশের প্রধান টিনা গনসালভেস সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকেলে হকি খেলার মাঠে মূলত বন্দুক হামলাটি হয়। এ সময় মাঠে উপস্থিত এক ব্যক্তি হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলাকারীদের ভেতর একজন মূলত তার আত্মীয়ের খেলা দেখতে ওই মাঠে এসেছিলেন। পরে তিনি নিজের গুলিতেই নিজে নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি উদ্দেশ্যমূলক হামলা। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।’
হামলাকারীর নাম রবের্ত দোরগান, এই লোকটি রবের্তা এসজোসিত নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে বলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বলে জানান পুলিশপ্রধান টিনা গনসালভেস।
হামলাকারী বা নিহতদের বিষয়ে খুব বেশি তথ্য দেননি পটাকেট পুলিশ। নিহত দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক ধারণার কথা জানিয়েছে তারা।
টিনা আরও জানান, তদন্তদল ঘটনাস্থল ডেনিস এম লিঞ্চ আরেনায় পৌঁছে সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি সেখানকার ভিডিও ফুটেজগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশিকিছু ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শোনার পর খেলোয়াড়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। দর্শকরা হুড়োহুড়ি করে আসন ছেড়ে পালাতে ব্যস্ত।
স্টেডিয়ামের বাইরের ভিডিওতে দেখা যায়, বাসে চড়ে স্বজনদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আগে আতঙ্কিত পরিবারগুলো খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রায় দুই মাস আগে রোড আইল্যান্ডে আরেকটি বন্দুক হামলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বন্দুকধারী সে সময় দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হন।
সেদিনের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপককেও গুলি করে হত্যা করেন হামলাকারী। এরপর নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি গুদামের পাশে ৪৮ বছর বয়সী ক্লাউদিও নেভেস ভালেন্তেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। নিজের গুলিতেই তিনি আত্নঘাতী হয়েছিলেন বলে ধারণা ছিল পুলিশের।
পটাকেটের মেয়র ডন গ্রেবিয়েন বলেন, ‘যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও বিষয়টি মর্মান্তিক।’
পটাকেট শহরটি প্রভিডেন্সের ঠিক উত্তরে এবং ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য সীমান্তের একদম নিচে অবস্থিত। ৮০ হাজারেরও কম জনসংখ্যার এই শহরটি খেলনা, বোর্ড গেম ও মিডিয়া বিনোদন নিয়ে কাজ করা বহুজাতিক কোম্পানি হাসব্রোর সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত।
৪ দিন আগে
ভেনিজুয়েলার ‘অবৈধ’ তেল রুখতে ভারত মহাসাগরে আরও একটি ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর অভিযান
ভারত মহাসাগরে আরও একটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অভিযান চালিয়ে সেটির দখল নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পেন্টাগন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে অবৈধ তেল সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ক্যারিবীয় সাগর থেকে জাহাজটিকে অনুসরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর ভারত মহাসাগরে এসে সেটিতে চড়ে তারা।
ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) অপরিশোধিত তেল পাচারের জন্য দেশটি নকল পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারের একটি ‘ছায়া নৌবহর’-এর ওপর নির্ভর করে আসছিল।
গত ডিসেম্বরে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর অবরোধ জারি করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে জানুয়ারিতে এক মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরোকে আটক করা হয়।
অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার উপকূল ছেড়ে কয়েকটি ট্যাঙ্কার পালিয়ে যায়, যার মধ্যে ভারত মহাসাগরে রাতভর যে জাহাজটিতে অভিযান চালানো হয় সেটিও ছিল। যুক্তদরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানায়, মার্কিন বাহিনী ভেরোনিকা-৩ (Veronica III) নামের জাহাজটিতে আরোহন করে ‘রাইট-অব-ভিজিট, সামুদ্রিক বাধা প্রদান ও তল্লাশি অভিযান’ পরিচালনা করেছে।
পেন্টাগন জানায়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা অবরোধ অমান্য জাহাজটি পালানোর চেষ্টা করছিল। আমরা এটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত অনুসরণ করেছি, দূরত্ব কমিয়ে এনে শেষ পর্যন্ত এটিকে থামাতেও পেরেছি।’
পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন সেনারা ট্যাঙ্কারটিতে আরোহন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (ওএফএসি) ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভেরোনিকা-৩ একটি পানামা নিবন্ধিত জাহাজ যা ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
তবে পানামা মেরিটাইম অথরিটি রবিবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, জাহাজটি আর তাদের নিবন্ধনে নেই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাঙ্কারট্র্যাকার ডটকম রবিবার এক্সে জানায়, গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটক করার দিন ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করে ভেরোনিকা-৩। জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি তেল ছিল।
২০২৩ সাল থেকে জাহাজটি রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত বলে জানায় সংস্থাটি।
ট্রাঙ্কারট্র্যাকার ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানুয়ারিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছিলেন, তাদের সংস্থা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভূপৃষ্ঠের ছবি ব্যবহার করে নথিভুক্ত করেছে যে, অবরোধ অমান্য করে অন্তত ১৬টি ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলা উপকূল ছেড়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ট্যাঙ্কার জব্দ করে আসছে। পেন্টাগন তাদের পোস্টে উল্লেখ করেনি যে ভেরোনিকা-৩ আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে কি না। পরে এক ইমেইলে এপিকে জানায়, পোস্টে যা বলা হয়েছে তার বাইরে তাদের কাছে দেওয়ার মতো অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভারত মহাসাগরে আরেকটি ট্যাঙ্কারে, আকিলা-২ (Aquila II) অভিযান চালায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, জাহাজটির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে তা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে আটকে রাখা হবে।
৫ দিন আগে