লাইফস্টাইল
পহেলা ফাল্গুনে ব্যতিক্রমী আনন্দে রঙিন ‘বেলা শেষে’ বৃদ্ধাশ্রম
জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী আবহে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আর বসন্ত উৎসব একসঙ্গে এসে যেন রঙ ছড়িয়ে দিল নড়াইলের এক নিরিবিলি কোণে। বসন্তের রঙ ছড়িয়ে গেল তরুণ থেকে বয়স্ক, আদরে লালিতদের থেকে অবহেলিত—সবার হৃদয়ে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল সদরের গোপিকান্তপুর গ্রামের ‘বেলা শেষে’ বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে দেখা যায় এমনই এক ভিন্ন ছবি। নিঃসঙ্গতার চেনা পরিসর ভেঙে সেখানে হচ্ছে প্রাণের বিচ্ছুরণ; হাসি আর গানে সব দুঃখ, ক্লেশ ভুলে আনন্দে মেতে উঠেছেন আশ্রমের বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দারা।
তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নের খোঁজে ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ছিল কেক কাটা, নতুন পোশাক উপহার, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, খেলাধুলা, পুরস্কার বিতরণ ও গান; সব মিলিয়ে এক আন্তরিক, হৃদয়ছোঁয়া মিলনমেলা। নবীন-প্রবীণের এই মিলন এমন এক সেতুবন্ধন তৈরি করে, যেখানে সময়ের ব্যবধান মুছে গিয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিল প্রজন্মের দূরত্ব।
এদিন সকাল থেকেই সাজ-সজ্জায় রঙিন করে তোলা হয় বৃদ্ধাশ্রমটি। রঙিন কাগজ, বেলুন আর ব্যানারে সেজে ওঠা প্রাঙ্গণ অপরিচিত আগন্তুককেও বুঝিয়ে দিচ্ছিল—আজকের দিনটি অন্যরকম। দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে সেখানে শুরু হয় এক আনন্দোৎসব। প্রবীণদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফুল, কাঁধে জড়িয়ে দেওয়া হয় ভালোবাসার স্পর্শ। কেক কাটার মুহূর্তে করতালিতে খান খান হয়ে যায় বৃদ্ধাশ্রমের নিঃসঙ্গতার আবেশ।
শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই আয়োজন। গান গেয়ে, বেলুন ফাটিয়ে, হাসি-ঠাট্টা আর গল্পে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন সবাই। নিদারুণ বর্তমানের মধ্যে এক টুকরো স্মৃতি যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল সবার হৃদয়ে। একসময় যারা সংসার, সমাজ ও পরিবারের কল্যাণে ব্যস্ত ছিলেন, বৃদ্ধাশ্রমে আসার পর মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেও বিশেষ এই দিনে তারা ফিরে গিয়েছিলেন ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোতে। মুহূর্তের জন্য হলেও ভুলে যান বার্ধক্যের একাকিত্ব, অবহেলার বোঝার ভার নেমে যায় তাদের কাঁধ থেকে।
৬ দিন আগে
পৌষ সংক্রান্তিতে নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়, দর্শনার্থীর ঢল
টগবগিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটছে গ্রামের একঝাঁক তরুণ। প্রথম পুরস্কার নেওয়ার আশায় অংশগ্রহণকারীদের চেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। যে যেভাবে পারছে তার ঘোড়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে চলে তাদের প্রতিযোগিতা।
সম্প্রতি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার দেখা মিলেছে নড়াইল সদর উপজেলা বিছালী চাকই গ্রামে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে এই ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক।
দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে পৌষ সংক্রান্তি উদ্যাপন উপলক্ষে প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঘৌড়দৌড় উপলক্ষে একপ্রকার মেলা বসে সেখানে। বাহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে দোকান নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র দোকানিরা। ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে মাঠের দুই পাশে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো নারী-পুরুষ ভিড় করেন। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, আমি প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়।
বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বলেন, কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় এখনও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জারিগান এবং আগামীকাল শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা, বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক বলেন, চাকই রুখালী গ্রামের ঘোড়দৌড় প্রায় ৪ থেকে ৫ শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। পৌষ মাসের শেষের দিন প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে রয়েছে। আমরা যতদিন এই জনপদে আছি ততদিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এটিকে আরও বড় করে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তার দৌড়ানোর যে অংশ, সেটিও আমি সংস্কার করেছি যাতে এই অঞ্চলে উৎসবটি টিকে থাকে। লাখো মানুষের পদচারণায় আমাদের উৎসব সফল হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এ বছর নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর বিএনপি সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কাজী হাসরাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মোল্যা, মো. আমিনুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, পারভিন বেগম, মুরাদ হোসেন প্রমুখ।
৩৭ দিন আগে
অপারেশন থিয়েটারে রান্না: ফেনী সদর হাসপাতালের ২ নার্স বরখাস্ত
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) এক আদেশের মাধ্যমে তাদের বরখাস্তের পর গতকাল (সোমবার) থেকে হাসপাতালে তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।
তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করে নার্স ও চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ২৫০ শয্যা নোয়াখালী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— নোয়াখালী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব আহমেদ চৌধুরী এবং ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অপারেশন থিয়েটারে রান্নাঘর স্থাপনসহ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে শাস্তির সুপারিশ করতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ সাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া নার্সরা হলেন, নার্সিং সুপার ভাইজার কল্পনা রানী মণ্ডল ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার।
আদেশে বলা হয়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে গ্যাসের চুলায় রান্না করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চরম দায়িত্বহীনতা, শৃঙ্খলাবিরোধী ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় রোগীর নিরাপত্তা এবং নার্সিং পেশার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এটি হাসপাতালের সংবেদনশীল অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ, রোগীর নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, তারা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে অপারেশন থিয়েটারের সার্বিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাগত মান রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও এই অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবে কাম্য নয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ। এজন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ (খ) বিধির আলোকে উক্ত বিধিমালার বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার স্বার্থে এবং এই মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদেশ জারির তারিখ থেকে কল্পনা রানী মন্ডল ও রানী বালা হালদারকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
তবে বরখাস্ত হলেও বিধি মোতাবেক তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দুজনের সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থার গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে গ্যাসের চুলায় রান্নাবান্না, অবাধ যাতায়াত এবং শৃঙ্খলাহীনতার কারণে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি নিয়ে ইউএনবিসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
৩৯ দিন আগে
ফেনী সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এখন ‘রান্নাঘর’
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে দুই বছর ধরে রান্নাবান্না চলছে। প্রতিদিন এখানে গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হলেও কয়েকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি রান্নাবান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের নার্সদের দুজন অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে শীতের পিঠা তৈরি করছেন। অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। তার ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজনদের অবাধ চলাফেরা করতে দেখা যায়।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে কমিটি। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ডা. জামাল হোসেন, ডা. আদনান আহমেদ ও ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ গত দুই বছর ধরে নিয়মিত রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম। স্বাস্থ্যঝুঁকির এই চরম অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিভিন্ন সময়ে সেখানে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ভোজের আয়োজনও করে থাকেন।
বৃহস্পতিবার রাকিব নামের এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার বোনের প্রসববেদনা উঠলে তাকে আজ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শুনছি, নার্সরা নাকি অপারেশন থিয়েটারে রান্না করেন! এটা কেমন কথা? তাও দুই বছর ধরে এটা চলে আসছে, ভাবা যায়?’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করছেন জেনে নূর জাহান নামে একজন নার্স খুব দম্ভ করে বলেছেন, “খাইছি; আরও খামু। কনে কিয়া (কে কী) কইরবো দেখা যাবে।”’
অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এই প্রতিবেদককে এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিব মেডিকেল কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
আরএমও ডা. রোকন-উদ-দৌলা বলেন, ‘ওটির (অপারেশন থিয়েটার) ভেতর রান্নাবান্না! এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কীভাবে রান্নাবান্না করে? সংক্রমণের অনেক বিষয় আছে এখানে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। এটা আমাদের দুর্বলতা, আমরা স্বীকার করছি। এ বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখব এবং অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। আমাদের পাঁচটা দিন সময় দিন। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় রান্না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ সময় তিনি সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
বিষয়টি নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পরে তাকে এ সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হলে প্রতিক্রিয়ায় এই চিকিৎসক বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি তাৎক্ষণিক হাসপাতালের কর্মচারী মোশারফকে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখার জন্য পাঠান। তবে মোশাররফ সেখানে যাওয়ার আগেই রান্নার সামগ্রী লুকিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ফিরে এসে জানান।
ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে তাতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
৩৯ দিন আগে
১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে ইতিহাস গড়লেন নাজমুন নাহার
প্রথম বাংলাদেশি ও মুসলিম নারী হিসেবে ১৮৪টি দেশ ভ্রমণ করে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন নাজমুন নাহার।
সর্বশেষ বাহামা সফরের মাধ্যমে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য বাহামার ফার্স্টস লেডি প্যাট্রিসিয়া মিনিস তাকে অভিনন্দন জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে গত বছরের জুন থেকে শুরু করে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণ করেন নাজমুন। এই সময়ে তিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের সামোয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিমুর-লেস্তে, ক্যারিবীয় অঞ্চলের অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলা এবং দ্বীপরাষ্ট্র বাহামা ভ্রমণ করেছেন।
তিনি ২০০০ সালে ভারতের আন্তর্জাতিক অভিযাত্রা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব ভ্রমণ শুরু করেন।
একক ভ্রমণকারী হিসেবে প্রধানত সড়কপথে বিশ্ব ভ্রমণ করেন নাজমুন। এই যাত্রাপথে অসংখ্য ঝুঁকি ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মোকাবিলাও করতে হয় তার। এখনও যেসব দেশ ভ্রমণ করা হয়নি, সেসব দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
তার এই অর্জন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে। ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলার লা নাসিওন, ক্যারিবিয়ান ডব্লিউআইসি নিউজ, তিমুর-লেস্তের সুয়ারা তিমুর লোরোসা’য়ে, পর্তুগালের লুসাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার কৃতিত্বের সংবাদ গুরুত্বসহ প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন ম্যাগাজিন তাকে নিয়ে ফিচারও ছাপিয়েছে।
নাজমুন ভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন। পাশাপাশি শান্তি স্থাপন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বাল্যবিবাহ বন্ধের মতো সামাজিক বার্তা প্রচারেও কাজ করেন তিনি।
ভেনিজুয়েলার সফর স্মরণ করে নাজমুন নাহার বলেন, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ভ্রমণ ছিল। সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়ে আমি ১৭টি শহর পরিদর্শন করেছি। এর মধ্যে আন্দিজ পর্বত, সবুজ উপত্যকা, নির্মল সমুদ্র, মরুভূমি এবং স্থানীয় মানুষের উষ্ণতা ভেনেজুয়েলাকে একটি অনন্য সৌন্দর্যের সংমিশ্রণ হিসেবে গড়ে তুলেছে। সামোয়া থেকে বাহামাস পর্যন্ত প্রতিটি দেশ আমাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে, তবে পাশাপাশি এর অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে বিস্মিত করেছে।
এর আগে ২০১৮ সালের জুনে জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি শততম দেশ ভ্রমণ পূর্ণ করেন। তার আগে ২০২১ সালের অক্টোবরে সাওটোমে ১৫০তম দেশ এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ১৭৫তম দেশ হিসেবে প্রিন্সিপে ভ্রমণ করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামাতে পৌঁছে ১৮৪তম দেশ হিসেবে ইতিহাস রচনা করেন এই পরিব্রাজক।
নাজমুন যুক্তরাষ্ট্রে পিস টর্চ বেয়ারার অ্যাওয়ার্ড, যুক্তরাজ্যের ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসহ ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
তিনি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন শেষ করে তিনি সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ‘এশিয়ান স্টাডিজ’ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে ‘হিউমান রাইটস অ্যান্ড এশিয়া’ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
নাজমুন গবেষক, মোটিভেশনাল বক্তা ও বিভিন্ন সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করেন। বিশ্বজুড়ে শিশু ও যুবকদের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে স্বপ্ন দেখাতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।
বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে ভ্রমণের মাধ্যমে নাজমুন নাহার আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের পরিচিতি বাড়িয়েছেন। সেইসঙ্গে আগামী প্রজন্মের জন্য সাহস, অধ্যবসায় ও প্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
৪৬ দিন আগে
সিলেটে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হাসনাজি গ্রামের পূর্বের মাঠে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড়কে ঘিরে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সব বয়সী হাজারো দর্শক দৌড় উপভোগ করেন। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে প্রতিটি দৌড় হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। প্রতিযোগিতায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, ছাতক ও চুনারুঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক বাহারি নাম ও রঙের ঘোড়া নিয়ে সৌখিন ঘোড়ার মালিকরা অংশ নেন।
দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘মাহিন রাজা’, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ‘লাল চান’ ও ‘আর্জেন্টিনা’ নামের ঘোড়া।
দর্শকরা জানান, একসময় ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় উৎসব বিরাজ করত। এখন আর আগের মতো এই প্রতিযোগিতা চোখে পড়ে না। এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ‘লিভারপুল’ নামের ঘোড়ার মালিক আনোয়ার আলী বলেন, ঘোড়ার প্রতি তার ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। শখের ঘোড়া নিয়ে তিনি বিভিন্ন দৌড়ে অংশ নেন। জয়-পরাজয় যাই হোক, প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও সৌহার্দ্যই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আয়োজক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন ধন মিয়া বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে।
৬১ দিন আগে
গুলশান লেক পার্কে আয়োজিত হয় পৌষ উৎসব
আজ শনিবার সকালে (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫) গুলশান লেক পার্কে আয়োজিত হয় পৌষ উৎসব। এই উৎসবের আয়োজন করে গুলশান সোসাইটি ও ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এফডিসিবি)।
উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল নৃত্য, লোকগীতি, লালনসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীতের পরিবেশনা। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দুই পর্বে আয়োজিত দেশীয় বয়নশিল্পের ফ্যাশন শো, যেখানে ১৮ ফ্যাশন ডিজাইনারের তৈরি পোশাক প্রদর্শিত হয়।
ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের (এফডিসিবি) প্রেসিডেন্ট ও স্টুডিও মায়াসিরের স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার মাহিন খান বলেন, ‘পৌষ উৎসব নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা অনেক দিনের। এ সময়টা বাংলার উৎসবমুখর সময়। গ্রামগঞ্জে পৌষকে ঘিরে নানা আনুষ্ঠানিকতা থাকে। গ্রামে গ্রামে পৌষ মেলা হয়। উৎসবটি যেন পরিপূর্ণ মনে হয়, তাই আমাদের কারুশিল্প ও বয়নশিল্পের উপকরণ যেমন আছে, তেমনি সাংস্কৃতিক পর্বে রয়েছে দেশীয় পরিবেশনা।’
আরো পড়ুন: অফিসে কাজের ফাঁকে হালকা ক্ষুধা মেটাতে পুষ্টিকর শুকনো খাবার
পৌষ উৎসবের স্টলগুলোয় ছিল দেশের নানা প্রান্তের লোকজ ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের সমাহার।এ ছাড়া ছিল পাট ও কাঁসা–পিতলের সামগ্রী, সোনারগাঁয়ের কাঠের পুতুল, জামদানি ও হাতপাখা, সিরাজগঞ্জের তাঁত, টাঙ্গাইলের শাড়িসহ বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের প্রদর্শনী।
গ্রামবাংলার শীত মানেই পিঠাপুলি—সেই রেওয়াজ ধরে উৎসবে রাখা হয়েছে দুধ–চিতই, নকশি পিঠাসহ নানা পিঠার আয়োজন।
ডিজাইনার শৈবাল সাহা বলেন, ‘নতুন ধান কাটার পর আমাদের গ্রামবাংলায় যে পিঠাপুলির উৎসব হয়, শহরের যান্ত্রিক জীবনে সেই আমেজ আমরা অনেকটাই ভুলতে বসেছি। গ্রামবাংলার সেই উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এই আয়োজন।’
পৌষ উৎসবের স্টলগুলোয় সাজানো ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজ ঐতিহ্য ও কারুশিল্প। সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে কেউ হাতে বোনা শীতলপাটি নিয়ে এসেছেন তো রাজশাহী থেকে শখের হাঁড়ি নিয়ে অংশ নেন কেউ।
বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই উৎসব চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সৌজন্যে আয়োজিত এই আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল রাঁধুনী, বার্জার ও বাটা।
আরো পড়ুন: মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আম কেন এত দামি
৬৮ দিন আগে
ফ্রিদা কাহলো: বিশ্বশিল্প ও নারীবাদী আন্দোলনের এক চিরকালীন প্রতীক
মেক্সিকোর চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো কেবল একটি শিল্পীর নাম নয়; তিনি নারীর স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও আত্মপ্রকাশের এক প্রতীক হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
১৯০৭ সালের ৬ জুলাই মেক্সিকো সিটির কায়োআকান অঞ্চলে জন্ম নেওয়া ফ্রিদা শিশুকাল থেকেই দুর্বল স্বাস্থ্য, পোলিও আক্রান্ত পা ও খেলাধুলায় অস্বাভাবিক আগ্রহের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন।
ফ্রিদার বাবা গুইলার্মো কাহলো একজন জার্মান বংশোদ্ভূত ফটোগ্রাফার এবং মা মাতিল্দে কালদেরন ই গনজালেস আংশিক আমেরিন্ডিয়ান ও স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত। চার বোনের মধ্যে তৃতীয় ফ্রিদার পরিবার ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তার শিল্পচেতনার ভিত্তি গড়ে তোলে।
শিক্ষাজীবনে ফ্রিদা প্রথমে স্থানীয় স্কুলে এবং পরে ন্যাশনাল প্রিপারেটরি স্কুলে ভর্তি হন, যেখানে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৮ বছর বয়সে ঘটে যাওয়া এক মারাত্মক বাস দুর্ঘটনা তার জীবনকে চিরতরে বদলে দেয়। মেরুদণ্ড, পেলভিস ও পায়ে গুরুতর আঘাতের পর দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকতে হয় তাকে। আর সেই সীমাবদ্ধ সময়েই শুরু হয় তার শিল্পচর্চার অবিস্মরণীয় যাত্রা।
ফ্রিদা নিজের ভাঙাচোরা শরীর, তীব্র যন্ত্রণা এবং আবেগকে ক্যানভাসে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশের এক অনন্য ভাষা তৈরি করেন। তার কাজগুলোতে মেক্সিকান সংস্কৃতি, নারীর অভিজ্ঞতা, দুঃখ, শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা এবং আত্মপরিচয়ের রাজনৈতিক প্রশ্নই বারবার দেখা যায়। যদিও অনেকে তাকে সুররিয়ালিস্ট বলে অভিহিত করেন, ফ্রিদার নিজের ভাষায়, ‘আমি স্বপ্ন আঁকি না, আমি আঁকি আমার বাস্তবতা।’
৭৫ দিন আগে
ঢাকা-সিলেট রুটে বিমানের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ
ঢাকা-সিলেট রুটে বিমান ভাড়ার উচ্চমূল্য নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে ভাড়া পুণর্নিধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানানো যাচ্ছে যে, সিলেট-ঢাকা-সিলেট রুটে যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট রুটে নতুন ভাড়া কাঠামো
সর্বনিম্ন ভাড়া: ২,০২৪ (দুই হাজার চব্বিশ) টাকাট্যাক্সসহ মোট: ৩,১৯৯ (তিন হাজার একশত নিরানব্বই) টাকা।
সর্বোচ্চ ভাড়া: ৭,০২৪ (সাত হাজার চব্বিশ) টাকাট্যাক্সসহ মোট: ৮,১৯৯ (আট হাজার একশত নিরানব্বই) টাকা।
ঢাকা-সিলেট রুটে বিমানের উচ্চ ভাড়া নিয়ে সিলেটজুড়ে কিছুদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। ভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন চলমান ছিল সিলেটে। আন্দোলকারীদের দাবি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দুর্বস্থার সুযোগে দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু সিন্ডিকেট।
৮৫ দিন আগে
বৈশ্বিক টিকাদান অঙ্গনে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে বায়ো ফার্মা ও ডিসিভিএমএন
বিশ্বব্যাপী সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও মানসম্মত টিকার ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর টিকা উৎপাদনকারী নেটওয়ার্ক বা ডিসিভিএমএন-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় ওষুধ ও টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পিটি বায়ো ফার্মা (পারসেরো)।
২০০০ সালে নেটওয়ার্কটি গঠনের পর থেকেই বায়ো ফার্মা উন্নয়নশীল দেশগুলোর টিকা স্বনির্ভরতা ও জনস্বাস্থ্য সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
বায়ো ফার্মা ও ডিসিভিএমএনের এই সহযোগিতামূলক যৌথ কার্যক্রম শুরু হয় নেটওয়ার্কের সূচনালগ্নেই। ২০০০ সালে নেদারল্যান্ডসের নর্ডউইকে অনুষ্ঠিত নেটওয়ার্কটির প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় বায়ো ফার্মা ছিল ১০টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একটি। পরের বছর, অর্থাৎ ২০০১ সালের এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ার ব্যান্ডুংয়ে দ্বিতীয় বার্ষিক সভার আয়োজন করে বায়ো ফার্মা, যেখানে নেটওয়ার্কের কাঠামো ও পরিচালনব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়। বায়ো ফার্মার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর থামরিন পুয়েলোয়েংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি ইন্দোনেশিয়াকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে টিকা সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর শাদিক আকাসিয়া বলেন, বায়ো ফার্মার সক্রিয় অংশগ্রহণ ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় স্বার্থ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
তিনি বলেন, “ডিসিভিএমএন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বায়ো ফার্মার নেটওয়ার্কটিতে সম্পৃক্ত হওয়া কেবল প্রতিনিধিত্বের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক টিকা স্বনির্ভরতা অর্জনে সত্যিকারের অবদান রাখার জন্য। সহযোগিতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা সবার জন্য ন্যায্য ও টেকসই স্বাস্থ্যসমাধান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আকাসিয়া আরও বলেন, “সহযোগিতার মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর টিকা শিল্পের প্রকৃত শক্তি নিহিত। ডিসিভিএমএনে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে প্রত্যেক দেশ নিরাপদ, মানসম্পন্ন ও সাশ্রয়ী টিকার নাগাল পাবে— যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় ইন্দোনেশিয়ার বাস্তব অবদানের প্রতিফলন।”
২০০৪ সালে নেদারল্যান্ডস ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর সহযোগিতার মাধ্যমে বায়ো ফার্মা ডিসিভিএমএনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি–হেপবি–হিব) টিকার প্রাপ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি প্রমাণ করে, এই নেটওয়ার্কে বায়ো ফার্মার অবদান শুধুমাত্র প্রতীকী নয়, বরং প্রযুক্তিগত ও বাস্তবধর্মী।
২০১২ সালে বালিতে পুনরায় ডিসিভিএমএনের ত্রয়োদশ বার্ষিক সভা আয়োজন করে ইন্দোনেশিয়া। সে সময় বায়ো ফার্মার পরিচালক মাহেন্দ্র সুফারদোনো ডিসিভিএমএনের নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে (২০১৩–২০১৪ মেয়াদে) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০২৩–২০২৫ মেয়াদের জন্য নেটওয়ার্কের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয় বায়ো ফার্মা, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর টিকা শিল্পে ইন্দোনেশিয়ার নেতৃত্বের স্বীকৃতি বহন করে।
সহযোগিতার বাইরে বায়ো ফার্মা উদ্ভাবনেও অগ্রগামী। ২০২০ সালে তাদের তৈরি nOPV2 টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি ব্যবহার তালিকায় (ইমার্জেন্সি ইউজ লিস্টিং) অন্তর্ভুক্ত প্রথম টিকা হয়, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটে দ্রুত টিকা ব্যবহারের পথ খুলে দেয়। এই অর্জন কেবল বায়ো ফার্মার বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতার প্রমাণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক তহবিলদাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী ও টিকা নির্মাতাদের সঙ্গে সমন্বিত কার্যকর সহযোগিতার ফলাফল।
এই সাফল্য দেখিয়েছে যে, উন্নয়নশীল দেশের একটি প্রতিষ্ঠানও নিরাপত্তা, মান ও কার্যকারিতার সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান পূরণ করে বিশ্বমানের উদ্ভাবন করতে পারে। nOPV2 কেবল বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়, এটি প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার প্রতীক এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় ইন্দোনেশিয়ার সক্ষমতার প্রতি আস্থার প্রতিফলন। এই অর্জন গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎপাদন সক্ষমতা জোরদারেও ডিসিভিএমএনের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করেছে।
বায়ো ফার্মা বছরে ৩৫০ কোটি (৩.৫ বিলিয়ন) ডোজ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে এবং বর্তমানে ১২ ধরনের টিকার জন্য ডব্লিউএইচও প্রাক-যোগ্যতা (প্রিকোয়ালিফিকেশন) সনদপ্রাপ্ত। প্রতিষ্ঠানটি ১৫০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করে এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর টিকা উন্নয়ন, উৎপাদন ও বিতরণে উৎকর্ষ কেন্দ্র (সেন্টার অব এক্সেলেন্স) হিসেবে স্বীকৃত।
আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর আরও একবার ডিসিভিএমএনের বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করতে চলেছে ইন্দোনেশিয়া। বালিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতিতে নেতৃত্ব পুনর্নিশ্চিত করতে দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বায়ো ফার্মা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টিকা স্বনির্ভরতার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে, যাতে আরও টেকসই ও ন্যায্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
ডিসিভিএমএন
উন্নয়নশীল দেশগুলোর টিকা উৎপাদনকারী নেটওয়ার্ক বা ডিসিভিএমএন ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বৈশ্বিক জোট, যার সদস্য ১৭টি উন্নয়নশীল দেশের ৪৬টি টিকা নির্মাতা সংস্থা। এর লক্ষ্য হলো মানসম্পন্ন টিকার ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করা। সংগঠনটি সদস্যদের মধ্যে যৌথ গবেষণা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রতিটি দেশকে সাশ্রয়ী ও জীবনরক্ষাকারী টিকা উৎপাদনে সক্ষম করে তুলতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, জিএভিআই, সিএপিআই, পিএটিএইচ, সিএইচএআই ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
বায়ো ফার্মা
পিটি বায়ো ফার্মা (পারসেরো) ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জীবনবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম টিকা প্রস্তুতকারক। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ব্যান্ডুংয়ে সদর দপ্তর স্থাপন করার পর থেকে ১৫০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করছে। বায়ো ফার্মা বায়োটেকনোলজি গবেষণা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ডিসিভিএমএনের সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী টিকার ন্যায্য প্রাপ্তি ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অবদান রেখে চলেছে।
সূত্র: এশিয়া নেট
১২১ দিন আগে