প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সে ওই তরুণী তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পাশের নৌকা ঘাটে বেড়িবাঁধে বেড়াতে বের হয়েছিলেন।
একপর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। তার বান্ধবী চলে যাওয়ার পর ঐদিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোরপূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় ওঠায়। এরপর বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন।
পরে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। তারপর তারা ওই নারীকে ছালাম কন্ট্রাকটারের বাড়ির একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করান।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।