কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় বেকারত্বজনিত হতাশায় আবুল কালাম আজাদ (১৯) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের গণকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন। কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও সফল হতে না পারায় তিনি চরম হতাশায় ভেঙে পড়েন। মৃত্যুর আগে পরিবারের উদ্দেশে একটি আবেগঘন চিরকুট লিখে যান তিনি।
চিরকুটে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় পরিবার। আমি অনেক ভাগ্যবান যে তোমাদের মতো পরিবার আমি পেয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয়, আমার মতো ছেলে পেয়ে তোমরা একটুও সুখী নও। কারণ আমি বেকার। আমি সারাজীবন শুধু তোমাদের খেয়ে গেছি, কখনও তোমাদের খাওয়াতে পারি নাই। তোমরা সবাই আমাকে মাফ করে দিও। আর আমার জন্য দোয়া করো। আর আমিও দোয়া করি, আমার মতো ছেলে যেন কোনো পরিবারে না জন্মে।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দীক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যুবকটি আত্মহত্যা করেছেন। তার কাছ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা মনে করেন, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাব তরুণ সমাজকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কর্মসংস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার দাবি জানান তারা।