ট্রেন
৯ ঘণ্টা পর রহনপুর-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর-রাজশাহী রুটে প্রায় ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্রেনের ৪টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রহনপুর-রাজশাহী রুটে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পরে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে কাজ সম্পন্ন করলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ২টার দিকে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
আমনুরা রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান জানান, খুলনা থেকে আমনুরা পাওয়ার প্লান্টের উদ্দেশে তেলবাহী একটি ট্রেন আসছিল। বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা রেলওয়ে জংশনের কছেই ট্রেনটির ৪টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এতে রহনপুর-রাজশাহী রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্টেশন মাস্টার আরও জানান, খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর দুপুর সোয়া ২টার দিকে লাইনচ্যুত ওয়াগনগুলো সরিয়ে লাইন সচল করা সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
২ দিন আগে
বিকল্প পথে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন চলাচল শুরু
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেললাইন খুলে নেওয়ার ঘটনায় ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টা পরে বিকল্প পথে ময়মনসিংহ-ভৈরব হয়ে ঢাকাগামী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর সোয়া ৫টার দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের ২ কিলোমিটার আগে সালটিয়া মাঠখোলা নামক স্থানে লাইনচ্যুত হয় অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি।
রেলওয়ে স্টেশন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারাকান্দি থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে যায়। রেলপথের ওই স্থানটিতে ২০ ফুটের একটি লোহার দণ্ড দুপাশ থেকে নাট খুলে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ সামনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ট্রেন লাইচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
এদিকে, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ময়মনসিংহ স্টেশনে এসে অস্থান করে। এরপর বিকল্প রুট হিসেবে গৌরীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব হয়ে ঢাকা পাঠানো হয় ট্রেনটিকে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপার আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে ট্রেনটি ময়মনসিংহ ছেড়ে যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে জামালপুর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ভৈরব হয়ে ময়মনসিংহে আসবে বলেও জানান তিনি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ বন্ধ হয়ে পড়ায় ঢাকা-তারাকান্দি রুটের আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৫ নম্বর) ট্রেন, তারাকান্দি-ঢাকা রুটের আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৬ নম্বর) ট্রেন, দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটের আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (৭৪৪ নম্বর) ট্রেন, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটের আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৮ নম্বর) ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এসব ট্রেনের জন্য কাটা টিকিটের মূল্য ফেরত পেতে অনলাইনে লগইন করে রিফান্ড গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
দুপুর আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ের পরিবহন পরিদর্শক শাহীনুর ইসলাম বলেন, উদ্ধারকারী ট্রেন উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকাজ শেষ হতে আরও ২ থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
৫৪ দিন আগে
গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৩
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলার আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের পাশের এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওয়ালেরটেক গ্রামের মোবারক হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া বেগম (২৪) ও একই এলাকার বাবু মিয়ার মেয়ে অনাদি আক্তার (১৩) এবং নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মরজালের কমলা বেগম (৫৫)। অনাদি ও কমলা সম্পর্কে নাতনি ও নানী। সাদিয়া বেগম ছিলেন তাদের প্রতিবেশি।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করছিল। এ সময় নানী-নাতনি ও সাদিয়া বেগম একসঙ্গে হাঁটতে বের হয়ে অসাবধানতাবশত ট্রেনে কাটা পড়েন। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অনাদি আক্তারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মারা যান।
রেলওয়ের নরসিংদী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) দিলীপ চন্দ্র জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলোর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের লোকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
৫৭ দিন আগে
৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর এলাকায় তেলবাহী মালগাড়ি ৯৫২-এর একটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার চার ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওয়াগনটি লাইনচ্যুত হওয়ায় সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কুলাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে লাইনচ্যুত তেলবাহী ওয়াগন ট্রেনটি উদ্ধার করার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী দুটি ট্রেন ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে শনিবার ভোরে সিলেটে পৌঁছে তেল আনলোড করা বিশেষ ট্যাংক ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ফিরছিল। রাত সাড়ে ৯টায় মল্লিকপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি ওয়াগনের চাকা লাইনের বাইরে চলে যায়।
৮৩ দিন আগে
তিন ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা স্টেশনের কাছে সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে করে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে নোয়াপাড়া স্টেশনের মাস্টার মো. মনির হোসেন জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি নোয়াপড়া স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। পরবর্তীতে ইটাখোলা স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে অন্য কোনো ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়নি।
আখাউড়া থেকে রিলিফ ইঞ্জিন এনে বেলা দেড়টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয় বলে জানান তিনি।
৮৬ দিন আগে
ট্রেন সেবা লাভজনক করতে লোকোমোটিভ কেনার উদ্যোগ
বাংলাদেশে ট্রেন সেবা থেকে ক্ষতি কমে এলেও এখনো পুরোপুরি লাভজনক হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী শেখ মঈনুদ্দিন। তাই এ খাতকে আরও লাভজনক করতে আধুনিক লোকোমোটিভ কেনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইউএনবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ মঈনুদ্দিন বলেন, রেল খাতকে লাভজনক করতে হলে আমাদের আরও আধুনিক লোকোমোটিভ কেনা প্রয়োজন। লোকোমোটিভের অভাবই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। নতুন লোকোমোটিভ ক্রয় করা হলে ট্রেন চলাচল বাড়বে, যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং খরচও কমে আসবে।
তার ভাষ্যে, ট্রেনে যাত্রীর অভাব নেই। আমরা যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে চাই। লোকোমোটিভের ঘাটতি পূরণ করতে পারলে ট্রেন সার্ভিস আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
শেখ মঈনুদ্দিন আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট খাত সরাসরি লাভজনক নয়। কিন্তু খরচ কমিয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি টেকসই করা সম্ভব। এজন্য আমাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও নীতিনির্ধারণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শেখ মঈনুদ্দিন জানান, নতুন ট্রেন সংযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে মাস্টার প্ল্যানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কিছু অংশে কাজ শুরু করেছি। ঈশ্বরদী এলাকায় ট্রেনলাইন সোজা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এতে অনেক কিলোমিটার পথ কমে যাবে।
লোকোমোটিভ কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনের চেয়ে কিছু বেশি লোকোমোটিভ কেনার পরিকল্পনা আছে। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
হাই-স্পিড বা পাতাল ট্রেন বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ মঈনুদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে এখনো সে ধরনের অবকাঠামো প্রস্তুত নয়। গ্রীন রেলওয়ে নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এগুলো বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে।
যমুনা ট্রেন প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানান, পুরনো লাইনের সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নতুন প্রকল্পের কাজও আগামী মাসের মধ্যেই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
১২১ দিন আগে
১৯টি বগি পটিয়ায় রেখেই চলে গেল পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের বাফার হুক ও হোস পাইপ ভেঙে ইঞ্জিন থেকে ১৯টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মাঝপথে বগিগুলো রেখেই চট্টগ্রাম পৌঁছে যায় ইঞ্জিন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পটিয়ার কমলমুন্সির হাট স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ১১টা পর্যন্ত বগিগুলো রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থেকে উদ্ধারকারী ইঞ্জিন পাঠানো হয়।
ট্রেনটিতে প্রায় ৯০০ যাত্রী ছিলেন। হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হন তারা। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দর এলাকায় ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকামুখী ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসার পর কমল মুন্সির হাট স্টেশনে পৌঁছালে ইঞ্জিনের বাফার হুক ও হোস পাইপ ভেঙে যায়। এতে বগিগুলো থেকে ইঞ্জিন আলাদা হয়ে যায়। এ সময় চালক ইঞ্জিন নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান, আর যাত্রীবাহী বগিগুলো স্টেশনেই দাঁড়িয়ে থাকে। পরে বগিগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে রাত ১১টার দিকে পাহাড়তলী থেকে উদ্ধারকারী ইঞ্জিন পাঠানো হয়।
পটিয়া রেল স্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ পাভেল জানান, উদ্ধারকারী ইঞ্জিন পৌঁছালে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে, গত ২৬ জুলাই কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের গার্ড ব্রেক বগির হুক ভেঙে গিয়ে মূল ট্রেন থেকে বগিটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডী স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩০ মিনিট ট্রেনটি সেখানে আটকে ছিল। পরে বিচ্ছিন্ন বগি ফেলে মূল ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
একের পর এক এ ধরনের ঘটনায় রেলওয়ের যান্ত্রিক ত্রুটি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা।
১৭২ দিন আগে
আসনবিহিন টিকিট কেটে ‘বসে যাওয়ার অপরাধে’ বৃদ্ধকে মারধর: ট্রেনের কর্মকর্তা বরখাস্ত
আসনবিহিন টিকিট কেটে ‘বসে যাওয়ার অপরাধে’ ট্রেনযাত্রী এক বৃদ্ধকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রেলওয়ের কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রশাসন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ওই বৃদ্ধের এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে ট্রেন আটকায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে অভিযুক্তকে বরখাস্ত করা হয়।
ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার। রবিবার (৩০ মার্চ) বিকাল আড়াইটার দিকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। পরে কসবা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কসবা রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন ৬২ বছর বয়সী উপজেলার সায়েদাবাদ এলাকার বাসিন্দা ফুল মিয়া। কসবা স্টেশন পর্যন্ত আসনবিহীন একটি টিকিট কেটে ট্রেনের পাওয়ার কার বগিতে অবস্থান করেন তিনি। একপর্যায়ে ফাঁকা জায়গা পেয়ে সেখানে বসেও পড়েন।
বেলা আড়াইটার দিকে ট্রেনটি ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনের পাওয়ার কার অপারেটর কাউসার মিয়া এগিয়ে গিয়ে ফুল মিয়ার কাছে টিকিট আছে কিনা জানতে চান। সে সময় আসনবিহীন টিকিট আছে বলে জানান তিনি। আসনবিহীন টিকিট কেটে বসে পড়ার অপরাধে তার কাছে ২০০ টাকা জরিমানা চান কাউসার। টাকা না দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অপমানজনক কথাবার্তার একপর্যায়ে বৃদ্ধ ফুল মিয়াকে মারধর শুরু করেন তিনি।
এ ঘটনার কথা ফুল মিয়ার কাছ থেকে কসবারই আরেক যাত্রী শুনে তার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ভিডিওটি কসবার স্থানীয় জনগণের মাঝে মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কসবা রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান নেন। পরে ট্রেনটি কসবা স্টেশনে পৌঁছালে সেটিকে আটকে দেন স্থানীয়রা।
এরপর ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ শুনে পাওয়ার কার অপারেটর কাউসার মিয়াকে আটক করেন ট্রেনের গার্ড।
তবে স্থানীয় জনতার রোষ না কমলে একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম, স্থানীয় থানা পুলিশ ও সেনা সদস্যরা কসবা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় কাউসার ফুল মিয়ার কাছে ক্ষমা চান। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে জানালে বিকাল ৫টার দিকে স্টেশন ছেড়ে দেন স্থানীয়রা।
ইউএনও ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ট্রেনের ওই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ খবরে উত্তেজিত জনতা শান্ত হলে ট্রেনটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশে কসবা স্টেশন ছেড়ে যায়।’
৩২৭ দিন আগে
যমুনা রেলসেতুর উদ্বোধন, ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে ট্রেন
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে সেতু ‘যমুনা রেলসেতু’। এটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যমুনার বুকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলবে।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হলো এটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে দু’অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় যমুনা রেলসেতুর পূর্বপার ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও জাইকার সাউথ এশিয়া ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল ইতো তেরুকি।
এর আগে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মাসুদুর রহমান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর থেকে সেতুর আপ ও ডাউন দুটি লেন দিয়ে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ সব ট্রেন পূর্ণমাত্রায় চলাচল করবে। একসময় রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের শিল্পসমৃদ্ধ জেলাগুলো থেকে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত করে রাখা প্রমত্তা যমুনা দু’অঞ্চলবাসীর কাছে এখন শুধু কল্পনা মাত্র।
প্রমত্তা যমুনা নদীর ওপর নির্মিত যমুনা সেতু ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পরই ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগও স্থাপিত হয়। চালু হওয়ার প্রায় ১০ বছর পর ২০০৮ সালে সেতুটিতে ফাঁটল দেখা দেওয়ায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হচ্ছিল।
বিশাল এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৩ মার্চ যমুনা বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে আলাদা রেলওয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ওই বছরের ২৯ নভেম্বর রেল সেতুটি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়। এ রেলসেতুর প্রথম পিলার নির্মাণে ২০২১ সালের মার্চে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়।
আরও পড়ুন: যমুনা রেলসেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আজ
দেশের দীর্ঘতম এ রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের প্রথম নির্মাণ ব্যয় ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও পরে তা ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। এর মধ্যে ২৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অর্থায়ন করেছে দেশি উৎস থেকে এবং ৭২ দশমিক ৪০ শতাংশ ঋণ দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
দেশের সর্ববৃহৎ এ রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে জাপানি কোম্পানি ওটিজি ও আইএইচআই জয়েন্টভেঞ্চার। জাপানি ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশাল এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। জাপান, ভিয়েতনাম, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের ৭ হাজারেরও বেশি কর্মীর ৪ বছরের পরিশ্রমে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।
সেতুটিতে ৫০টি পিলার, প্রতি দুই পিলারের মাঝে একটি করে মোট ৪৯টি স্প্যান রয়েছে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার হলেও দুদিকে ৭ দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট এবং লুপ, সাইডিংসহ মোট ৩০ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন পারাপারের মধ্য দিয়ে দেশের বৃহত্তম এই রেলসেতু দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ওইদিন সাধারণ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ৬ মিনিটে ট্রেন সেতু পার হলেও আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর থেকে সেতুর ওপর দিয়ে উভয় লেনে ট্রেন চলবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে।
যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকের এ সেতুর প্রতিটি স্প্যানের ওপর জাপানিদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রেললাইন বসানো হয়েছে। এর ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
যমুনা রেলসেতুর প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মাসুদুর রহমান বলেন, আগের রেলসেতুতে লোডের সীমাবদ্ধতা ছিল। ৪৩ দশমিক ৭ কিলো নিউটন পার মিটারের কম লোডের ট্রেন চলতে পারতো। সেক্ষেত্রে শুধু মিটারগেজ ট্রেনে পণ্য সরবরাহ করা যেত। আমাদের এ অঞ্চলের ব্রডগেজের চাহিদা বেশি। ইন্ডিয়া থেকে প্রচুর মালামাল আমদানি করা হয়। রেল যোগাযোগ চালু হলে ব্যবসায়ীরা সমুদ্রপথে মালামাল আমদানি না করে রেলপথেই করতে পারবেন। শুধু তাই নয় এই সেতুটি দিয়ে এখন সব ধরনের মালবাহী ট্রেন চলাচলও করতে পারবে নির্বিঘ্নে। তবে ডাবল ইস্ট্র্যাক যাকে বলা হয়, অর্থ্যাৎ দুই ট্রেন একইসঙ্গে চলতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শুরুতে এ সেতুর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু রাখা হলেও শেখ হসিনার সরকারের পতনের পর অর্ন্তবতী সরকার গত ডিসেম্বরে প্রজ্ঞাপন জারি করে সেতুর নাম পরিবর্তন করে ‘যমুনা রেলসেতু’ রাখে।
৩৪০ দিন আগে
পাকিস্তানে ট্রেন থামিয়ে প্রায় ৫০০ যাত্রী জিম্মি, দাবি না মানলে হত্যার হুমকি
পাকিস্তানের কোয়েটা থেকে পেশওয়ারমুখী জাফর এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেনের প্রায় ৫০০ যাত্রীকে জিম্মি করছে দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তাদের দাবি না মানা হলে সব জিম্মিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকালে স্থানীয় গুদালার ও পিরু কোনেরি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানভিত্তিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।
খবরে বলা হয়, ট্রেনটি থামানোর আগে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে বন্দুকধারীরা। এতে ট্রেনের চালক আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্কে সময় পার করছেন ট্রেনটির যাত্রীরা। ট্রেনটি বর্তমানে একটি টানেলের মধ্যে আটকা পড়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সেনা অভিযানে নিহত ৩০
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবর বলছে, দুর্গম কারাকোরাম পাহাড়ি এলাকায় ট্রেনটি থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে বন্দুকধারীরা। সেখানে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের রেলওয়ে পুলিশ বলছে, ট্রেনটি থামিয়ে রাখা হয়েছে। সেটিতে প্রায় ৫০০ যাত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যেও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে, তবে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি একপ্রেস ট্রিবিউন।
হাসপাতালের আশপাশে জরুরি প্রটোকল সক্রিয় করা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গম এলাকা বলে পরিচিত কারাকোরাম পর্বতশ্রেণির এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযান চালাতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গোলাগুলি শুরু করার আগে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জানিয়েছে, তারাই ট্রেনটি থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী পিছু না হটলে যাত্রীদের হত্যা করা হবে।
এই হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকবী বলেন, ‘নিরাপরাধ যাত্রীদের ওপর যেসব নরপশু গুলি চালিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলুচিস্তান সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অঞ্চলটিতে কয়েক দশক ধরে সরকার, সেনাবাহিনী ও চীনা স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে প্রায়ই হামলা চালিয়ে আসছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তারা প্রদেশটির খনিজ সম্পদের হিস্যা দাবি করে আসছেন।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা দাবি করা বিএলএ গত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বিচ্ছিন্নতাবদাী গোষ্ঠী। তাদের অভিযোগ, বেলুচিস্তানের গ্যাস ও খনিজসম্পদ অন্যায়ভাবে শোষণ করছে পাকিস্তান সরকার।
আরেক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের তথ্যমতে, গত বছর থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কোয়েটা রেলওয়ে স্টেশনে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৬ জন নিহত ও ৬২ জন আহত হন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ১০ জন নিহত
থিংকট্যাংক পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজের (পিআইপিএস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এবং চলতি বছরের শুরুতে সন্ত্রাসী হামলার কারণে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সেই ২০১৪ সালের পর্যায়ে চলে গেছে।
এতে বলা হয়, যদিও ২০১৪ সালের মতো চলতি বছর পাকিস্তানের কোনো সুনির্দিষ্ট অঞ্চল সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন অংশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। ২০২৪ সালে ওই অঞ্চলটিতেই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সবেচেয়ে বেড়েছে।
বিএলএ ছাড়াও বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ) নামের আরেকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী অঞ্চলটিতে সক্রিয় বলে পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যম-সূত্রে জানা জায়।
৩৪৭ দিন আগে