যুক্তরাষ্ট্র
ইরানকে সীমিত হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হতে পারে বলে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক জানালেও তেরানে সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেই হামলার বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বলতে পারেন, আমি বিষয়টি (হামলা) বিবেচনা করছি।’ কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আরও বলেন, ইরানকে ‘একটি ন্যায্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, তার দেশ ‘আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে’ একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করে ওয়াশিংটনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আরাগচি এমএসএনবিসির ‘মর্নিং জো’-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই চুক্তি করতে বেশি সময় লাগবে না। হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা চুক্তির মূল বিষয় নিয়ে বাস্তব ও গুরুতর আলোচনা শুরু করতে পারব এবং একটি সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পারব।’
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে চুক্তিসংক্রান্ত দাবি আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। এখনো আরও যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে দেশটি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত জাহাজের ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগর থেকে পাঠানো ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোল্ড নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
এমন বাস্তবতায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে গেলে তারা উভই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমরা যেমন কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং ঠিক একইভাবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।’
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি ভাইজ বলেন, ইরান যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখবে।
ভাইজের মতে, প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের নেতারা দ্বিতীয়বার ভাববেন না এবং তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা হলেও তারা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
যা নিয়ে চলছে আলোচনা
এসব ঘটনার এক দিন আগে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনই ‘যথেষ্ট সময়’। জেনেভায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আলোচনাসহ বিভিন্ন বৈঠকে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম হলেও আলোচনা চলছে।
তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালে যে পারমাণবিক হয়, তা থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়। তারপর থেকেই এই আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
তারপর থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর দাবিগুলো, যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল ইরান।
যদিও প্রকাশ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিন্ন কথা বলেছেন, আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেন, সর্বশেষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান আস্থা বৃদ্ধিমূলক কিছু পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করবে।’
আরাগচির এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা রাখতে পারবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও করতে পারবে না।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যেকোনো আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হওয়া উচিত। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছে তেহরান।
সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে তেহরান বাধা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ মনে করে, এর লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত অস্ত্র উন্নয়ন।
মার্কিন কংগ্রেস যা বলছে
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন শুক্রবার জানান, তিনি একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ প্রণয়ন করেছেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের একক সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ এটিতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পেরই সই লাগবে। তবুও অতীতে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সিনেটে যেসব রেজল্যুশনের ওপর ভোট হয়েছিল, সেগুলোর মতোই এই উদ্যোগে উভয় দলের কিছু সমর্থন তৈরি হয়েছে। যদিও সেসব রেজল্যুশন পাস হয়নি, তবু তা ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ তুলে ধরে।
এক সংবাদ বিবৃতিতে কাইন বলেন, ‘যদি আমার কিছু সহকর্মী যুদ্ধকে সমর্থন করেন, তাহলে তাদের উচিত সেই যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার সাহস দেখানো এবং ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করা—ডেস্কের নিচে লুকিয়ে থাকা নয়।’
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইলামের মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিবের শোক
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কূটনীতিক উইলিয়াম বি মাইলাম মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। এই কূটনীতিক চলতি বছরের মার্চ মাসেও ঢাকা সফর করেছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকবার্তায় উইলিয়াম বি মাইলামের মৃত্যুতে গভীর শোক জানান এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মাইলামের ছিল গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। ১৯৬২ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেওয়া এই পেশাদার কূটনীতিক ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নিষ্ঠাবান নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার পর হাজারো মানুষের জীবনরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’ সংগঠনে উইলিয়াম বি মাইলামের অবদান স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের এক অভিজ্ঞ ও পরিচিত কূটনীতিকের জীবনাবসান হলো।
উল্লেখ্য, কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণের পরেও মাইলাম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মতামতধর্মী ত্রৈমাসিক সাময়িকী সাউথ এশিয়া পার্সপেকটিভসের সম্পাদক ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইট টু ফ্রিডম’–এর প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক চিন্তনপ্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার ছিলেন।
১ দিন আগে
জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে: ইরান
চলমান উত্তেজনার মাঝেও পরমাণু আলোচনায় নির্দেশিকা নীতিমালা সম্পর্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ কূটনীতিকরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে যে কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপই বিকল্প।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয় পক্ষের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মাঝে ওমানের মধ্যস্থতায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দ্বিতীয় ধাপের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা কিছু নির্দেশনামূলক নীতির ওপর বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি, যার ভিত্তিতে আমরা এগোব এবং সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ শুরু করব।’
তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে ওমানে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের আলোচনার তুলনায় এবার ভালো অগ্রগতি হয়েছে। এখন আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট পথ রয়েছে যা আমি ইতিবাচক বলে মনে করি।’
তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্পর্কের ব্যবধান কমাতে যে সময় লাগবে, তা তিনি স্বীকার করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা। আরাগচির বরাত তিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, উভয় পক্ষ যখন চুক্তির খসড়া তৈরি করবে, তখন খসড়া বিনিময় করা হবে এবং তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার দেশ কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এ বিষয়ে একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
দ্য স্টোরি উইথ মার্থা ম্যাককালাম অনুষ্ঠানে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালো হয়েছে। তারা (তেহরান) পরবর্তীতে আবারও বসতে (আলোচনায়) রাজি হয়েছে। কিন্তু অন্য দিক থেকে খুব পরিষ্কার ছিল যে প্রেসিডেন্ট কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, যেগুলো ইরান এখনো স্বীকার করতে বা তা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত নয়।’
ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ‘আমরা কাজ চালিয়ে যাব। তবে কখন কূটনীতি স্বাভাবিক সীমায় পৌঁছেছে, প্রেসিডেন্টই তা ঠিক করার ক্ষমতা রাখেন।’
চ্যালেঞ্জের সামনে ইরান
বছরের পর বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি চেয়ে আসছে ইরান, যার মধ্যে রয়েছে অন্যান্য দেশ থেকে তেল কেনার ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা।
তেহরান বলেছে, চলমান আলোচনা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত এবং যেকোনো চুক্তিতে ইরানের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা থাকতে হবে, পাশাপাশি তাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বজায় থাকতে হবে।
ওয়াশিংটন চায়, ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। এ ছাড়াও ওয়াশিংটন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের মতো অপারমাণবিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনার পরিধি প্রসারিত করার চেষ্টা করেছে।
জবাবে ইরান বলেছে, তারা শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাব মেনে নেবে না। সেই সঙ্গে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও এই আলোচনার বিষয় নয়।
৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা আগে সামরিক মহড়ার জন্য সাময়িকভাবে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘোষণা দেয় তেহরান।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার প্রথম পর্বে ইরানের জলসীমায় বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছিল মার্কিন প্রশাসন। ওই ঘটনার জের ধরেই এবার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অবশ্য প্রণালিটি আসলেও বন্ধ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। কিন্তু ইরানের এমন পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরুর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং ‘নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উদ্বেগের’ কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য এটি বন্ধ রাখা হবে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনও কখনও এমন এক ধাক্কা খেতে পারে, যেখান থেকে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’
আলোচনায় ‘নতুন সম্ভাবনার সুযোগ’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। সেই সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ‘একটি নতুন জানালা খুলে গেছে।’
জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আলোচনা একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এবং বৃহত্তর পরিসরে এই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’ তবে ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তার পরিণতি শুধু দেশটির সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও এ সময় হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে সামরিক মহড়া বা হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেননি আরাগচি।
প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানের সঙ্গে করা আগের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি বারবার হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে বাধ্য করার জন্য তিনি শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। তবে ইরান জানিয়েছে, তেমন কিছু হলে তারাও পাল্টা হামলা চালাবে। ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড ঘিরেও তেহরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
‘কিছু দিক দিয়ে’ আলোচনা ভালো হয়েছে
সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। বৈঠকটি জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী ওমান গত ৬ ফেব্রুয়ারি আলোচনার প্রথম দফার বৈঠকও আয়োজন করেছিল।
জনসমক্ষে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও বহু বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবে যাতে সমঝোতার পর্যায়ে আসা যায়।
ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কথা বলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালোই হয়েছে। তবে অন্য দিক থেকে এটা স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) কিছু বিষয়ে কঠোর সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন, যা ইরান এখনও স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ও বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের দূতদের মধ্যেও আলোচনার আয়োজন করে। প্রতিবেশী ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানি পক্ষের নেতৃত্বদানকারী আরাগচি জানান, তিনি সোমবার জেনেভায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইরানের মন্ত্রী বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।
৩ দিন আগে
হকি ম্যাচ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা, বন্দুকধারীসহ হতাহত ৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের রোড আইল্যান্ডের একটি যুব হকি ম্যাচ চলাকালে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পটাকেটের পুলিশের প্রধান টিনা গনসালভেস সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকেলে হকি খেলার মাঠে মূলত বন্দুক হামলাটি হয়। এ সময় মাঠে উপস্থিত এক ব্যক্তি হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলাকারীদের ভেতর একজন মূলত তার আত্মীয়ের খেলা দেখতে ওই মাঠে এসেছিলেন। পরে তিনি নিজের গুলিতেই নিজে নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি উদ্দেশ্যমূলক হামলা। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।’
হামলাকারীর নাম রবের্ত দোরগান, এই লোকটি রবের্তা এসজোসিত নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে বলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বলে জানান পুলিশপ্রধান টিনা গনসালভেস।
হামলাকারী বা নিহতদের বিষয়ে খুব বেশি তথ্য দেননি পটাকেট পুলিশ। নিহত দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক ধারণার কথা জানিয়েছে তারা।
টিনা আরও জানান, তদন্তদল ঘটনাস্থল ডেনিস এম লিঞ্চ আরেনায় পৌঁছে সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি সেখানকার ভিডিও ফুটেজগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশিকিছু ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শোনার পর খেলোয়াড়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। দর্শকরা হুড়োহুড়ি করে আসন ছেড়ে পালাতে ব্যস্ত।
স্টেডিয়ামের বাইরের ভিডিওতে দেখা যায়, বাসে চড়ে স্বজনদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আগে আতঙ্কিত পরিবারগুলো খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রায় দুই মাস আগে রোড আইল্যান্ডে আরেকটি বন্দুক হামলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বন্দুকধারী সে সময় দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হন।
সেদিনের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপককেও গুলি করে হত্যা করেন হামলাকারী। এরপর নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি গুদামের পাশে ৪৮ বছর বয়সী ক্লাউদিও নেভেস ভালেন্তেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। নিজের গুলিতেই তিনি আত্নঘাতী হয়েছিলেন বলে ধারণা ছিল পুলিশের।
পটাকেটের মেয়র ডন গ্রেবিয়েন বলেন, ‘যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও বিষয়টি মর্মান্তিক।’
পটাকেট শহরটি প্রভিডেন্সের ঠিক উত্তরে এবং ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য সীমান্তের একদম নিচে অবস্থিত। ৮০ হাজারেরও কম জনসংখ্যার এই শহরটি খেলনা, বোর্ড গেম ও মিডিয়া বিনোদন নিয়ে কাজ করা বহুজাতিক কোম্পানি হাসব্রোর সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত।
৪ দিন আগে
বিএনপি ও তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বিএনপি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে একটি সফল ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই শুভাচ্ছে বার্তা জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়েছে, একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি ও তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
৮ দিন আগে
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সই হচ্ছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
আগামীকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বাণিজ্য চুক্তি সই হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পাশাপাশি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন এই চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিশাল রপ্তানি বাজার (প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা) সুসংহত করতে এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ৪৭টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিলেও বর্তমান সরকার আপাতত ২৫টি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, বাণিজ্য সম্পর্ক সুসংহত করার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে শুল্কহার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যেটা আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম। যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো, আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কম পেতাম। দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলি সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) যে চুক্তি হবে, আমরা চেষ্টা করছিলাম শুল্ক আরও কত কমানো যায়। কতটুকু কমবে আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না বা চাচ্ছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখব। আমরা সামগ্রিক শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা নয়, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস (তৈরি পোশাক), এই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়। আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনও রত রয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ কোটি টাকার রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে। এটা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে এমন বড় চুক্তি কেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, সেই নির্বাচিত সরকারকে বাড়তি চাপমুক্ত রাখতেই অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি সম্পন্ন করে যাচ্ছে।’ চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি স্বাক্ষর শেষে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
১৩ দিন আগে
যুদ্ধ শেষ করতে জুনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে জুন মাসের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুনের সময়সীমার মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে ইউক্রেন-রাশিয়া উভয় পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রস্তাব করছে যে গ্রীষ্মের শুরুতেই যুদ্ধ শেষ না করলে তারা এই সময়সূচি অনুযায়ীই যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ওপর চাপ দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে জুনের মধ্যেই তারা এ বিষয়ে সবকিছু সমাধান করতে চায় এবং যুদ্ধ শেষ করতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবই তারা করার জন্য প্রস্তুত। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মূলত সব ঘটনার একটি স্পষ্ট সময়সূচি চায়।’
তবে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল পর্যন্ত তার এ মন্তব্য প্রকাশ করা নিষেধ ছিল।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছে যে পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেন সেখানে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে যুদ্ধরত দেশগুলোর অনঢ় অবস্থান দেখে যুদ্ধ অবসানে সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনে লড়াই ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ডনবাস অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার জন্য রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা কিয়েভ কখনোই মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘জটিল বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমরা আমাদের অবস্থানেই অটল। আমাদের মতে, আজকের দিনে যুদ্ধবিরতির জন্য এটিই উত্তম পন্থা।’
তবে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
১৩ দিন আগে
ওমানে পরোক্ষ বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, যোগ দিয়েছেন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত ঠিক করতে ওমানে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ধরনের আলোচনায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাসকাটে বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ।
আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, নৌবাহিনী অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার উপস্থিত ছিলেন। ইউনিফর্ম পরে বৈঠকে হাজির হন তিনি। এ বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৈঠকে তার অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর শক্তি ও গুরুত্বের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মাসকাটে যখন বৈঠক চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলো আরব সাগরে ইরানের উপকূলে অবস্থান করছিল।
বৈঠকের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতে আরও কয়েকটি আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী মনে হচ্ছে এবং তাদের আগ্রহী হওয়া উচিত।’ তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান আগের আলোচনার অপেক্ষাকৃত আরও বেশি কিছু করতে ইচ্ছুক। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করতে যুক্তরাষ্ট্র কত সময় অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সময়ের অভাব নেই। ভেনেজুয়েলার বিষয়টিই দেখুন, তাদের ব্যাপারে আমরা কিন্তু কম সময় অপেক্ষা করিনি! এ ক্ষেত্রেও (ইরান) আমাদের কোনো তাড়া নেই।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার আগে ক্যারিবীয় সাগরে মাসের পর মাস ধরে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি
ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করতে বাধ্য করতে একাধিকবার শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত এবং আরও অসংখ্য মানুষ গ্রেপ্তার হন। সে সময় আন্দোলনকারীদের ওপর তেহরানের কঠোর দমন-পীড়নের মাঝেই ইরানের সীমান্তবর্তী উপকূলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং সেই যুদ্ধে তারা নিজেরাও জড়িয়ে পড়তে পারে।
ওইসব দেশগুলোর আশঙ্কা অমূলক নয়। শুক্রবার ওমানে বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে ইউএসএস লিঙ্কনের কাছাকাছি চলে যাওয়া একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজের গতিরোধের চেষ্টা চালায় ইরান।
পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি যে পারমাণবিক আলোচনা এবং মূল বিষয়গুলোর সমাধান অবশ্যই শান্ত, উত্তেজনাহীন ও হুমকিমুক্ত পরিবেশে হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো সংলাপের পূর্বশর্ত হলো হুমকি এবং চাপ থেকে বিরত থাকা।’
প্রথম পর্বের এই আলোচনা শেষ হয়েছে জানিয়ে আরাগচি বলেন, কূটনীতিকরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
১৪ দিন আগে
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির অবসান হলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে তিনি প্রস্তুত। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
১৬ দিন আগে