জাতীয় পার্টি
‘দুর্গ’ রংপুরে অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে রংপুরকে নিজেদের রাজনৈতিক ‘দুর্গ’ হিসেবে দাবি করে আসা দলটি এবার সেখানেই চরম ভরাডুবির মুখে পড়েছে। একসময় দলের প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে এই অঞ্চলে জাপার যে শক্ত ভিত গড়ে উঠেছিল, এবারের নির্বাচনে তা কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দলটির প্রার্থীরা জামানতও হারিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী বলেন, আমরা হেরেছি বেশ কিছু কারণে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি একেবারেই নেই। এছাড়া আমরা ক্ষমতার অংশ থাকলেও রংপুর অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারিনি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতেই লাঙ্গল সামনে রেখে ‘জাতীয় পার্টির জানাজা’ শিরোনামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূলে নেতৃত্ব সংকট, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, ভোটারদের সঙ্গে মৌসুমি যোগাযোগ, আস্থাহীনতা, জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ এবং বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে না পারা—এসব কারণেই এমন ভরাডুবি হয়েছে। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থাকার অভিযোগও দলটির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু একটি পরাজয় নয়; বরং এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ঘুরে দাঁড়াতে হলে জাপাকে তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠন, তরুণ নেতৃত্ব তৈরি এবং স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় ‘দুর্গ’ স্থায়ীভাবে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিভিন্ন আসনের ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেছে, রংপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট। সেখানে জামায়াতের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট।
রংপুর-৩ আসনে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট।
রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৫ আসনে জাপার এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট। জামায়াতের গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট।
রংপুর-৬ আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। অথচ এই আসনে এক সময় শেখ হাসিনা লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন।
একইভাবে কুড়িগ্রামের চারটি, গাইবান্ধার পাঁচটি, লালমনিরহাটের তিনটি, নীলফামারীর চারটি, পঞ্চগড়ের দুটি, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি এবং দিনাজপুরের ছয়টি আসনেও জাতীয় পার্টির একই চিত্র দেখা গেছে।
অতীতের শক্ত ঘাঁটি থেকে অস্তিত্ব সংকটে
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাপা রংপুর অঞ্চল থেকে ১৭টি, ১৯৯৬ সালে ২১টি, ২০০১ সালে ১৪টি এবং ২০০৮ সালে ১২টি আসন পায়। ২০১৮ সালে রংপুর বিভাগে পায় ৭টি আসন, আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ৩টি।
জোট-মহাজোট রাজনীতিতে প্রভাব কমতে থাকলেও আসনগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের দখলে যায়। তবে আওয়ামী লীগের পতনের পর ‘দোসর’ ইমেজও এবার দলটির বিপক্ষে কাজ করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব সংকট
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে জাপার সাংগঠনিক কাঠামো আগের মতো সক্রিয় ছিল না। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মীসংকট, প্রচারণায় শিথিলতা এবং নির্বাচনি কৌশলে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মাঠপর্যায়ে উপস্থিতিও কম ছিল।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলকে যে আবেগভিত্তিক সমর্থন দিয়েছিল, তার মৃত্যুর পর তা ধরে রাখতে পারেনি জাপা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জিএম কাদের ও রওশনপন্থী বিভাজন তৃণমূলেও প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূল সংগঠন ভেঙে পড়া এবং কমিটিগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে জাপার কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছায়নি। সরকারে থেকেও বিরোধী ভূমিকা—এই দ্বৈত অবস্থান ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
এ অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াত সাংগঠনিকভাবে মাঠে সক্রিয় হওয়ায় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ে। সাবেক ভোটব্যাংকের একটি অংশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছে। বিতর্কিত বা অজনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলটির প্রভাব কমেছে।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার রাশেদা বেগম বলেন, জাপা বহু বছর আমাদের এলাকার এমপি দিয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান বা শিল্পকারখানার মতো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগের সময় সরকারি দল না বিরোধী দল—তা বোঝা যেত না। এলাকার মানুষের জন্য কার্যকর কিছু হয়নি, তাই মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে।
তরুণ ভোটার সোহেল রানা জানান, আমরা উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান দেখতে চাই। জাপা এবার আর বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে সরাসরি ১৭টিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং ২টি আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ব্যবধানে জয় এবং জাতীয় পার্টির আসনশূন্য অবস্থান রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই দুই বড় ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে জাপা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জায়গা হারিয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ তীব্র হওয়ায় রংপুরেও তার প্রভাব পড়েছে। ভোটাররা কৌশলগত ভোট দিয়েছেন। জাপা ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য বার্তা পৌঁছাতে পারেনি।
রংপুর জেলা জাপার সভাপতি আজমল হক লেবু বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে জাপা হেরেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। এছাড়া আমাদের কিছু সাংগঠনিক সমস্যাও রয়েছে।’
৫ দিন আগে
রাজশাহীতে জাপা প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা এনসিপি নেতার
রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ চলাকালে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আফজাল হোসেনের অংশগ্রহণের সময় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
প্রতীক বরাদ্দের সময় আফজাল হোসেনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাতে উঁচু করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু।
এ সময় মাইক নিয়ে নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ কীভাবে খুনি ও দোষীদের সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সহযোগিতা করেছে, তাদের যদি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা ডিসি অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেব। জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতীক বরাদ্দ দিলে রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ করব।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার তার অভিযোগ গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দেবে, আইন মেনে সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতীক গ্রহণ করেন। এ সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সভাকক্ষে কিছু সময়ের জন্য হৈচৈ সৃষ্টি হয়।
পরে নাহিদুল ইসলাম সাজু সাংবাদিকদের জানান, তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা প্রতিহত করার কর্মসূচি নেবেন।
৩১ দিন আগে
জাপায় ফিরেছেন রাঙ্গা ও নূর মোহাম্মদ, স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য
উত্তরে জাতীয় পার্টির ‘ঘাঁটি’ খ্যাত রংপুরে নড়েচড়ে বসেছে দলটি। ফিরিয়ে আনা হচ্ছে দলের হেভিওয়েট নেতাদের। ক্ষমা চেয়ে আবার জাতীয় পার্টিতে (জাপা) ফিরেছেন দলের সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। একই সঙ্গে রংপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ মন্ডলও ফিরেছেন দলে। তাদের ফিরে আসা জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
সবাই একসঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাপার ‘দুর্গ’ উদ্ধারে নামবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এই দুই নেতা দলে ফেরায় নেতা-কর্মীদের মাঝেও প্রাণ ফিরেছে।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে দলের কো-চেয়ারম্যান রংপুর মহানগর জাপা সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. আজমল হোসেন লেবুর হাতে ফুল তুলে দিয়ে জাপায় ফেরেন নুর মোহাম্মদ।
অবশ্য ওই রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে নূর মোহাম্মদ মন্ডল দাবি করেন, তিনি এমনিতেই সাবেক মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তবে জাপায় যোগ দেননি।
কিন্তু তার নিবার্চনি এলাকা পীরগঞ্জে উঠেছে আলোচনার ঝড়। জাপা নেতারা বলছেন, নুর মোহাম্মদ মন্ডলের সিগন্যাল পেয়ে ইতোমধ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন।
অন্যদিকে, সোমবার রংপুর-১ আসন থেকে জাপার তিনবারের সাবেক এমপি, দলের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা করে আবারও জাতীয় পার্টিতে ফিরেছেন।
সেদিন ফেসবুক লাইভে এসে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কাছে ক্ষমা চেয়ে দলে ফেরার কথা জানান তিনি। এ ঘটনায় রাঙ্গার নিজ উপজেলা গংগাচড়ায়ও নড়েচড়ে বসেছে ঝিমিয়ে থাকা জাপা নেতা-কর্মীরা।
এ ব্যাপারে জানতে বুধবার দুপুরে যোগাযোগ করা হয় মসিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান আমাকে ক্ষমা করেছেন। আমি জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসেছি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ আসন থেকে অবারও দলের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চাই। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি। আর যদি মনোনয়ন না পাই, তারপরও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না।’
দলের কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর জাপা সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘আমরা তাকে (রাঙ্গা) দলে আবারও সাদরে গ্রহণ করেছি। দলে তার অবদান ভোলার মতো নয়। আমরা আশা করি, শক্তিশালী জাপা মাঠে ভোটারদের মন জয় করবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ আসনে মসিউর রহমানকে ব্যাপক ভোটে হারিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান। মসিউর রহমানও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন।
২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য হন মসিউর রহমান। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফের এই আসনে ক্ষমতায় আসে জাপা। সেবার সংসদ সদস্য হন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মসিউর রহমান আবারও এই আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হন। ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আরও একবার জয়ী হয়ে তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হন।
২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মসিউর রহমান। তবে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রওশন এরশাদের পক্ষ নেওয়ায় দলের সব পদ-পদবি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অপরদিকে, তিন বড় রাজনৈতিক দলের ছায়ায় রাজনৈতিক অভিযাত্রা, দুর্নীতি মামলা ও জেল জীবনের মধ্য দিয়ে যাওয়া রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ মন্ডল আবারও ফিরেছেন তার রাজনৈতিক প্রথম ঠিকানা জাতীয় পার্টিতে।
স্থানীয় পর্যায়ে ‘দল পরিবর্তনে সেরা’ হিসেবে পরিচিত মন্ডলের এই দল পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
নূর মোহাম্মদ মন্ডলের রাজনৈতিক জীবন জাতীয় পার্টির হাত ধরেই শুরু হয়। এই দল থেকেই ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
নব্বইয়ের দশকের গণঅভ্যুত্থানের পর হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের পতন হলে ২০১৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দলটির টিকিটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন।
জানা গেছে, নূর মোহাম্মদ মন্ডল শুধু দল পরিবর্তনের জন্যই নন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্যও আলোচিত। আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গত ১৯ জুন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে পীরগঞ্জে বন বিভাগের ৩ হাজার ১৩০ একরেরও বেশি জমি দখল করে নির্মিত ‘আনন্দনগর’ নামের একটি পিকনিক স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র, আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ৯ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।
তবে এরই মধ্যে জাতীয় পার্টিতে ফিরে সংসদ সদস্য পদে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। ইউএনবিকে নুর মোহাম্মদ মন্ডল বলেন, ‘জাপা থেকে মনোনয়ন পেলে ভোট করতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’ মাঠে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে বলে দাবি করেন এই নেতা।
৬৫ দিন আগে
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ফের হামলা, অগ্নিসংযোগ
কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফের হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এর আগে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাবেশ শেষে তারা গণঅধিকার পরিষদের পল্টন কার্যালয়ে ফিরে যান। এর অল্প সময় পরেই জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এ হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, রাত সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পড়ুন: মৌচাকে লড়ির ধাক্কায় শিশুসহ ৫ জন আহত
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, শাহবাগে যারা সমাবেশ করেছে, তারাই এ ঘটনার জন্য দায়ী।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় পার্টি বাংলাদেশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট একই কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছিল।
১৬৯ দিন আগে
জিএম কাদের ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের ও তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইউএনবিকে তিনি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৫ মার্চ সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দলের ভেতরে ‘পদ বাণিজ্যের’ মাধ্যমে কাদের অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন— এমন অভিযোগে জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এ দম্পতির বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের বিনিময়ে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মূল সুবিধাভোগী ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার স্থলে সংসদ সদস্য হন শেরীফা কাদের।
আরও পড়ুন: জিএম কাদের ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জিএম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হন এবং দলীয় পদ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন যা পরবর্তীতে বিদেশে পাচার করা হয়। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট হলেও বর্তমানে এতে ৬০০ থেকে ৬৫০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন অভিযোগ, কাদের ভিন্ন ভিন্ন নামে সিঙ্গাপুর, লন্ডন ও সিডনিতে অর্থপাচার করেছেন।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জিএম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি জিপ গাড়ি রয়েছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নামে নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং ৮০ লাখ টাকার একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। এছাড়া তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে লালমনিরহাট ও ঢাকায় জমি এবং ফ্ল্যাট অন্তর্ভুক্ত।
১৯৯৬ সাল থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া কাদের বর্তমানে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
১৭০ দিন আগে
সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারা এলিয়েন: জিএম কাদের
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের ৫০ ভাগ মানুষকে বাদ দিয়ে সংস্কার প্রস্তাব করছে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, ‘এটি কখনোই বাস্তবায়ন হবে না। (আসন্ন) নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন, তারাই প্রয়োজন মতো সংস্কার করবেন। এখন যারা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন, তারা তো এলিয়েন। তারা অন্য গ্রহ থেকে এসেছেন।’
রবিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে বর্ধিত সভার দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সিদ্ধিরগঞ্জে জিএম কাদের ও শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া এই দেশের মঙ্গল হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। গ্রহণযোগ্যতা না পেলে দেশে বিনিয়োগ হবে না, কর্মসংস্থান হবে না, শুধু বেকারত্ব বাড়বে। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলেও কেউ এখানে বিনিয়োগ করবে না।’
‘দেশের কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে, কৃষকরা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। যারা আলুর দাম কম দেখে খুশি হচ্ছেন, তারা কৃষকের কান্না দেখেননি। এখন রেমিট্যান্স আসছে, রেমিটেন্সের ওপর একটা দেশ চলতে পারে না। দেশের মানুষের হাতে টাকা নেই, সরকারের হাতেও টাকা নেই। মানুষের ব্যবসা নেই, ট্যাক্স দেবে কে? মানুষ ট্যাক্স দিতে পারছে না, তাই সরকার মালামালও আমদানি করতে পারছে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মার্কিন শুল্কনীতিতে (দেশের) রপ্তানি খাতের অবস্থা কেমন হবে, আমরা জানি না। আইএমএফ টাকা দেবে কিনা তাও পরিষ্কার নয়। এ অবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে রাস্তায় রাস্তায় লুটতরাজ চলবে। আপনি বেতন দিতে না পারলে পুলিশ অথবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের কথা শুনবে কেন?’
‘শান্তির জন্যই অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে এবটি বৈধ সরকার আনতে হবে। পুলিশ কিছুটা বিএনপি, কিছুটা জামায়াতের কথা শুনে হা-হুঁতাশ করছে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচন দিলে সবাই পিটিয়ে পাটিয়ে নির্বাচন করবে। এমন নির্বাচন বৈধতা পাবে না। সকল সমস্যা সামধানের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হবে। সরকারকে বৈধ করতেই সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে।’
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, ‘সরকার একটি দল গঠন করেছে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সংস্কার চালাচ্ছে। যেনতেনভাবে নির্বাচনে তাদের পাস করাবেন, তা কি হাসিনার নির্বাচনের চেয়ে ভালো হবে? শেখ হাসিনা সবকিছু হাতে নিয়েও থাকতে পারল না, আপনারা কত দিন থাকতে পারবেন? যাদের নির্বাচন থেকে বাদ দেবেন, তারা ঘরে বসে আঙ্গুল চুষবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ গড়তে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলতে হবে। সবাই মিলে আধপেট খেয়ে হলেও দেশ গড়তে হবে। আমরা সবাই একত্রিত হয়েছিলাম, বর্তমান সরকার জাতিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে, যেন দেশের অর্ধেক লোক বাদ দিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারে।’
আরও পড়ুন: আমরা মরতে চাই, দেখি কত লোক মারতে পারে: জিএম কাদের
‘ফ্যাসিবাদ থেকে যারা শিক্ষা নিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদ হয়েছেন, আপনাদেরও পতন হবে। ফ্যাসিবাদের দোসররা মারতে আসবে, পুলিশ তাদের সহায়তা করবে। তারপরও প্রতিবাদ করতেই হবে। নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ লোক প্রতিবাদ করবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রমুখ।
৩০৭ দিন আগে
জাতীয় পার্টির শনিবারের সমাবেশ স্থগিত
কাকরাইলে ডিএমপির সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজকের সমাবেশ স্থগিত করেছে জাতীয় পার্টি।
শুক্রবার(১ নভেম্বর) রাতে জাপা প্রধানের প্রেস সচিব খন্দকার দেলোয়ার জালালীর সই করা এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ শনিবার কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করায় জাতীয় পার্টি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এর আগে শুক্রবার সকালে জাপা চেয়াম্যান জানান, হামলার পরও আগামীকাল পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই রাজধানীর কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করে ডিএমপি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলমেট পরা ও লাঠিসোঁটা হাতে একদল ব্যক্তি মূল ফটক দিয়ে জাপা কার্যালয়ে প্রবেশ করে। স্লোগান দিতে দিতে তারা ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং এরপর ভবনের সামনের অংশ ও ভেতরের কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: আমরা মরতে চাই, দেখি কত লোক মারতে পারে: জিএম কাদের
৪৭৬ দিন আগে
মাইলসের শাফিন আহমেদ: পপসংগীতের আকাশে চির উজ্জ্বল নক্ষত্র
সংগীতের পথে জীবনের প্রথম পদক্ষেপ, আবার সেই পথেই শেষ। কথাটি যেন অবিকল মিলে গেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীত শিল্পী শাফিন আহমেদের সঙ্গে। গত ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৪ জুলাই ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন শাফিন আহমেদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও কিডনিসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চলুন, দেশ বরেণ্য এই পপ-তারকার বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ব্যক্তি জীবনে শাফিন আহমেদ
শাফিন আহমেদ ১৯৬১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মা দেশের স্বনামধন্য সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার ও সঙ্গীতজ্ঞ কমল দাশগুপ্ত। স্বভাবতই শাফিনের বেড়ে ওঠাটা হয়েছে গানের মাঝেই। পারিবারিক গন্ডিতে তার ডাক নাম ‘মুনা’। এ ছাড়া সংগীতাঙ্গনের যারা তাকে ছোটবেলা থেকে চেনে তারা দেখা হলে প্রথমেই ‘মুনা’ নামেই ডাকতেন।
শাফিন আহমেদের গানের হাতেখড়ি হয় তারা বাবা-মায়ের কাছেই। বাবার কাছে তালিম নিয়েছেন উচ্চাঙ্গ সংগীতের, আর মা শিখিয়েছেন নজরুলগীতি। তার আনুষ্ঠানিক গানের শুরুটা হয়েছিল মাত্র ৯ বছর বয়সে। পরে বড়ভাই হামিন আহমেদসহ দুই ভাই পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। সে সময় তার সামনে উন্মোচিত হয়েছিল পাশ্চাত্য সংগীতের বিস্তৃত পরিসর। আর এই অঙ্কুরেই শুরু হয় তার ব্যান্ড সংগীতের যাত্রা।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ বিরতির পর ‘নীল জোছনা’ নিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন শাওন
সংগীতাঙ্গনে শাফিন আহমেদ
১৯৭৯ সালে মাইল্স ব্যান্ড প্রতিষ্ঠার পর হামিন ও শাফিন দুজনেই যুক্ত হন ব্যান্ড দলের সঙ্গে। বেজ গিটার বাজানোর পাশাপাশি দলের প্রধান গায়ক ছিলেন শাফিন।
শুরুর দিকে তারা ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে (বর্তমান ঢাকা শেরাটন) নিয়মিত গান করতেন। তখন তাদের মনোনিবেশ ছিল শুধুমাত্র ইংরেজি গানের প্রতি। ব্যান্ড প্রতিষ্ঠার পর মাইলসের প্রথম অ্যালবামটির সবগুলো গানই ছিল ইংরেজিতে।
১৯৮২ সালে ত্রিশ মিনিটের একটা ইন্সট্রুমেন্টাল শো’র জন্য বিটিভির পক্ষ থেকে ডাক আসে। তখন মাইলসের সেরা ছয়টি সুর রেকর্ড করে পাঠানো হয় বিটিভিতে। এই রেকর্ডগুলো টানা দুই বছর ভোর ৬টা থকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছিল বিটিভির সিগনেচার মিউজিক হিসেবে।
১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় মাইলসের প্রথম বাংলা গানের অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’। সেই থেকে একের পর এক সৃষ্টি হতে থাকে কালজয়ী সব গান। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় গানগুলো হলো- ‘ফিরিয়ে দাও আমারি প্রেম’, ‘আজ জন্মদিন তোমার’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘চাঁদ তাঁরা সূর্য’, ‘নীলা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘পাথুরে নদীর জলে’, ‘ধিকি ধিকি’, এবং ‘সে কোন দরদিয়া’। চার যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে এখনও এই গানগুলো দেশ জুড়ে সমান জনপ্রিয়। এগুলোসহ মাইল্সের প্রায় ৯০ শতাংশ গানের ভোকাল ছিলেন শাফিন।
আরও পড়ুন: আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সক্ষমতার চিত্র
৫৭৪ দিন আগে
পাহাড় সামলাতে ব্যর্থ সরকার: জি এম কাদের
পাহাড় সামলাতে সরকার ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের।
তিনি বলেন, পাহাড়ের সামান্য ঘটনায় যদি সরকার হিমশিম খায়, তাহলে দেশে বড় ধরনের বিপদ হলে জনগণ দাঁড়ানোর রাস্তা খুঁজে পাবে না।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে টাইগাররা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে: জি এম কাদের
রবিবার (৭ এপ্রিল) বিকালে রংপুর সার্কিট হাউসে তিনি এ কথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের হামলা নতুন কিছু নয়। এর আগেও হয়েছে, সেটি আবার সমাধানও হয়েছে। কিন্তু এবারের ঘটনা একেবারেই আলাদা।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ডাকাতি, অপহরণ ও খুনসহ বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এতে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি বাহিনীর সব ধরনের সুযোগ সুবিধা আছে। কিন্তু কাজের ব্যাপারে জবাবদিহি নেই। যে যার ইচ্ছে মতো কাজ করছে।
দেশে গণতন্ত্র না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ায় গণতন্ত্র ভেঙেছে।
তিনি বলেন, মানুষ তার অধিকার হারিয়েছে। জাতীয় পার্টি চেষ্টা করছে অধিকার নিয়ে কথা বলার। কিন্তু সরকার ভেতর থেকে কলকাঠি নেড়ে দলকে দুই ভাগ করার চেষ্টা করছে।
কাদের বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চলছে। জাতীয় পার্টিকে ধরে রাখতে দলীয় নেতা-কর্মীদেরও শক্ত অবস্থান তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মিয়া মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসীরসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: জিএম কাদের
রংপুর-৩ আসনে জাপার মনোনয়ন ফরম নিলেন জিএম কাদের
৬৮৫ দিন আগে
ফিরোজ রশিদ ও সুনীল শুভরায়কে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি
জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়কে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) দলের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।
তবে দলের এই দুই হেভিওয়েট নেতাকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিদ্ধান্তটি ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সংসদে বিরোধী দলে থাকতে চায় জাতীয় পার্টি: জিএম কাদের
সরকার যেখানে যাকে জেতাতে চেয়েছে সে জিতেছে: জিএম কাদের
৭৭০ দিন আগে