জামায়াতে ইসলামী
৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত জোটের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ এনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন: অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, আমরা লক্ষ করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আমরা পরাজিত হয়েছি। আমরা এসব আসনের তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে সেখানে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছি।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভোট গণনার সময় অনেক কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনাকক্ষে উপস্থিত এজেন্টরা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে গেলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট গণনার জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হলে তা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। একইসঙ্গে অনেক স্থানে ফলাফল শিটে ঘষামাজা, কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং আমাদের প্রার্থীর মূল এজেন্টের স্বাক্ষর না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হলেও তাদের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। তিনটি আইনি ধাপ রয়েছে—নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট।
গেজেট প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায়, অর্থাৎ নির্বাচনের মাত্র এক দিন পরই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীরা অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা কমিশনকে অভিযোগগুলো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। আইনি পথ খোলা থাকলেও আমাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।’
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে ১১ দলীয় জোট।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ার মতো ঘটনার উদাহরণ দেন। ২০১৮ সালের মতো ঘটনা আবারও ঘটছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। আমার নিজ আসনেই তিনজন নারী আহত হয়েছেন। আমরা ৫৪ জেলার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধ না হলে জোট রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাশাপাশি সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
জোটের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন জানিয়ে আজাদ বলেন, শপথ নেওয়ার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শপথ নিয়ে সংসদে যাব এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। একইসঙ্গে রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকবে।
৬ দিন আগে
নাটোরে পৃথক নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে ১৪ জন আহত
নাটোরের বড়াইগ্রাম ও সিংড়ায় পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ সেতুর নিকট একটি হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াতের পক্ষে ভোট করা নিয়ে সাবেক বিএনপি কর্মী সাব্বিরকে মারপিট করে বিএনপি সমর্থক ফয়সাল ও ফাহিম। এর জেরে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমানের নেতৃত্বে আজ (শনিবার) দুপুরে ধানাইদহ সেতুর কাছে জামায়াত সমর্থকরা জড়ো হন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ফাহিমের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের লোকজনের ওপর হামলা চালান। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে হাসিনুরসহ ৫ জন আহত হন।
আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও ঈশ্বরদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে, সকালে সিংড়া উপজেলার পারসিংড়া এলাকায় ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ নারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুন নূর জানান, এ ঘটনায় নেহাল নামের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের এক সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
গাইবান্ধা-৪: ভোট জালিয়াতির অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি জামায়াতের
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ১০টি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি, অনিয়মের প্রতিবাদ ও নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের দারুল আমান ট্রাস্ট ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার বলেন, ভোটের সময় পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মারা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ১০টি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে অনিয়ম না হলে আমিই বিজয়ী হতাম।
এ সময় ওই ১০টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান গাইবান্ধা-২ আসনের এ জামায়াত প্রার্থী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুর করিম সরকার, গাইবান্ধা-৩ আসনে নির্বাচিত আবু কাওসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচিত মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৫ আসনে নির্বাচিত জামায়াত নেতা ওয়ারেস আলীসহ অন্যান্য জামায়াত নেতারা।
৭ দিন আগে
দিনাজপুরের ছয়টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ, একটিতে স্বতন্ত্রের জয়
দিনাজপুরের ৬টি নির্বাচনি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক। আর একটি আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ- কাহারোল) আসনে বিএনপি প্রার্থী মনজুরুল হক ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা মতিউর রহমান।
দিনাজপুর-২ (বিরল- বোচাগঞ্জ) আসনে ধানের শীষে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আলম দাঁড়িপাল্লায় পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ ভোট।
দিনাজপুর সদর-৩ আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। এর আগে তিনি দিনাজপুর পৌরসভায় পরপর তিনবার মেয়র ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী সরকার আমলে তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের হুইপ ইকবালুর রহিমের বিপরীতে এমপি পদে নির্বাচন করেছিলেন। তবে জয় মিলেনি তার। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা অ্যাডভোকেট মাঈনুল আলম ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন।
দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর - খানসামা) আসনে বিএনপির ধানের শীষে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান মিয়া। বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর আফতাব উদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট।
দিনাজপুর ৫ (পাবর্তীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজোয়ানুল হক। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৪। এর আগে বিএনপির হয়ে ৬ বার এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রবীণ এ বিএনপি নেতা। তবে ত্রয়োদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল তারেক রহমানের আইনজীবি ব্যারিষ্টার এ কে এম কামরুজ্জামানকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে লন্ডন থেকে উড়ে এসেছিলেন তিনি। ধানের শীষ মার্কায় ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। নিকটতম দ্বিতীয় অবস্থানে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট।
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট) আসনে বিএনপির ধানের শীষে ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি পরিচিতি রয়েছে তার। জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন।
৮ দিন আগে
ফল ঘোষণায় অনিয়ম হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল গণনা ও ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের মতামতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হলে কঠোর আন্দোলনে যাব।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণের মতামতকে যদি ম্যানিপুলেশন (ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা) করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কর্মসূচি এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের কর্মসূচি নিতে হয়, আমরা সেটা করব। এছাড়া, আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব।
তার দাবি, বিকেল ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরু হলেও গভীর রাত পর্যন্ত অনেক আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। তাদের এজেন্টদের দেওয়া শিট অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল, কিন্তু ভোর ৪টা পর্যন্ত তা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত ফলাফলের শিট পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনে অন্তত ৮টি শিটে ‘ওভাররাইটিং’ করে প্রায় ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এ কাজ করা হয়েছে এবং আমাদের এজেন্টদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ঢাকার প্রায় সবগুলো আসনে আমাদের যারা আছেন সবার ফলাফল দিতেই এ ধরনের গড়িমসি করা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে ইসি ও তার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত আছে তারা এটার সঙ্গে জড়িত। একই অবস্থা ১১ দলের অন্যান্য আসনে। সারাদেশে আসনগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। একই ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ রক্ত দিয়েছে এই ধরনের আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই এই ধরনের প্রক্রিয়া যে তারা করছেন, গণনা করা, রেজাল্ট দেওয়া, রেজাল্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের কলাকৌশল করা। ইচ্ছাকৃতভাবে মনে হচ্ছে কোনো একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা এ কাজটি করছেন। আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবো না। দেশবাসীকে নিয়ে আমরা এই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, এই জাতির যে ভয়ঙ্কর ট্রমা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এ যেটা আমরা দেখেছি এবং যারা এই ধরনের নির্বাচন করেছিলেন তারা এখন কোথায় আছে সেটা আপনারা জানেন। আমরা আশা করব, এই নির্বাচন কমিশনকেও যেন সেই পরিণতি ভোগ করতে না হয়।
৮ দিন আগে
জামায়াত একটি উগ্রবাদী দল: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘উগ্রবাদী দল’ আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানের পেছনে আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, তার আগেও করেছে। জনগণের কল্যাণের জন্য বিএনপি কাজ করেছে, জনগণের সঙ্গে থেকেছে। বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হবে।
জামায়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসন ছিল। যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, তাকে যখন আটকে দেওয়া হয়, তার যখন কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়; তখন অন্য উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং সেটাই এদেশে হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যেটুকু উত্থান হয়েছে জামায়াতের, সেটা আওয়ামী লীগের কারণে। তাদের দমন-পীড়নমূলক যে শাসন, বিরোধী দলকে ফাংশন করতে না দেওয়া, তাদের ইনোসিয়েট করতে না দেওয়া, এর কারণে এমন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে জনগণ তাদের রিজেক্ট (প্রত্যাখ্যান) করেছে। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) পেয়ে গেছে। জনগণ আবারও সুষ্ঠু, সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মধ্য দিয়ে সব অপপ্রবণতাগুলো রুখে দিতে সক্ষম হবে।’
নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
‘জাতীয় পার্টির দূর্গ’ রংপুরের দখল নিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬ টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে জামায়াতে ইসলামী এবং ১টি আসনে তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির দূর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে দখলে নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
রংপুর-১ (গংগাচড়া) আসন
এই আসনের ১৩৯ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রায়হান সিরাজী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসন
এই আসনের ১৩৭ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৯ হাজার ৮৭০ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-৩ (সদর ও রসিক) আসন
এই আসনের ১৬৯টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাচার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। এছাড়া এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৩ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসন
এই আসনের ১৬৩টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়েছেন ।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসন
এই আসনের ১৫২টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন
এই আসনের ১১৩ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রাথী মাওলানা নুরুল আমীন। তিনি ২০২৫ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট পান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন।
জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১০ হাজার পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ করেন।
ফলাফল হাতে পাওয়ার পর প্রার্থীরা ভোটারদের প্রতি সন্তুষ্টি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
৮ দিন আগে
চূড়ান্ত ফল ঘোষণা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান জামায়াত আমিরের
আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ ভোটকেন্দ্র ছাড়বেন না।
তিনি আরও বলেন, মহান রাব্বুল ইজ্জত তাঁর একান্ত মেহেরবানীতে মজলুমদেরকে বিজয় দান করলে মিছিল নয়, স্লোগান নয়, উচ্ছ্বাসও নয়—আমরা সবাই সিজদায় পড়ব। মন ভরে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করব এবং জাতির সেবার জন্য মহান রবের একান্ত সাহায্য কামনা করব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকেই আপনারা সকল গুজবকে পরাজিত করেছেন এবং ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করেছেন। আজ সকাল থেকেই আপনারা উৎসবের মতো করে ভোট দিয়েছেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে।
‘কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে লক্ষ করছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা করে জখম করা হচ্ছে। নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে।
‘আমরা দেশবাসীকে অনুরোধ করব, যেভাবে আপনারা এখন পর্যন্ত ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছেন, সেভাবেই ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত আপনারা আপনাদের ভোটকে রক্ষা করুন। আপনার মূল্যবান ভোটটি যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য আপনারা ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারাদার হয়ে যান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।’
আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংস্কারের জন্য শক্তিশালী জনমত পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সকাল সড়ে ৭টায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৪২ হাজার ৬৫৯টি। এতে প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং আরও প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধানের কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত জানাতে গণভোটেও অংশ নেন ভোটাররা।
৯ দিন আগে
শরীয়তপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৭ লাখ টাকাসহ জামাত নেতা আটক
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও একটি ল্যাপটপসহ স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় ওই বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও একটি ল্যাপটপ, ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মাষ্টার গোলাম মোস্তফা নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
১০ দিন আগে
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গোলাম পরওয়ারের উদ্বেগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের হাতে এখনও ৭ দিন সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার এবং কালো টাকার দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে এ শঙ্কার কথা জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসন (ডুমরিয়া-ফুলতলা) থেকে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সেই আশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের এখনও ১ সপ্তাহ বাকি, অথচ এখনই প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না।’
নির্বাচনের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার দায়িত্ব সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশনের। এ বিষয়ে সরকার নির্লিপ্ত থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ হাতছাড়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একজন রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গেলে নারীদের পোশাক খুলে নিতে হবে। এটা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, এটি নারী মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এ ধরনের হুমকি দেয়, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে সেটা ভেবেই আমরা আতঙ্কিত।’
এ সময় সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, খুলনা-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও মিটিং করতে গেলে তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লার সভায় গেলে খবর আছে। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাবেক জনপ্রতিনিধিদের জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা ভোট নয়, জোর করে রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।’
নিজের নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফুলতলা ও ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তার নির্ধারিত সভা-সমাবেশে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। একাধিক স্থানে চেয়ার-টেবিল ভেঙে সভা ভন্ডুল করা হয়। একটি এলাকায় গণসংযোগ শেষে নির্ধারিত সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রতিপক্ষের লোকজন গিয়ে চেয়ার সরিয়ে নেয় এবং সভা করতে বাধা দেয়। বিষয়টি থানাকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে আটক বা আইনি ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশজুড়ে ছিল কালো টাকা ও ভোট কেনার অভিযোগ। এ বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনা-৫ আসনে সংগঠিতভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ঢালছে একটি পক্ষ। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কালো টাকার দাপটে রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ জামায়াত নেতা বলেন, প্রত্যেক থানার কাছে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা পরিচিত সহিংসদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাইবার হামলার একটি বিস্তারিত অভিযোগও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং পরবর্তীতে তার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে।
তিনি জানান, তদন্তে একটি সরকারি দপ্তরের একজন কর্মকর্তার ই-মেইল থেকে ভারতীয় উৎসের ভাইরাস ব্যবহার করে এই হ্যাকিং করা হয়েছে বলে তাদের সাইবার টিম শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় সাইবার আইনে মামলা করা হয়েছে এবং ডিবি পুলিশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ল্যাপটপসহ আটক করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তাকে ছাড়িয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে মুক্তি দিতে পারেনি।
১৬ দিন আগে