সড়ক দুর্ঘটনা
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৪
দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩১ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আফ্রিকার প্রাদেশিক পরিবহনমন্ত্রী ভায়োলেট ম্যাথিয়ে জানিয়েছেন, বাসটি যখন দক্ষিণ আফ্রিকার গাউতেং প্রদেশ থেকে জিম্বাবুয়ের দিকে যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি সীমান্তের কাছাকাছি এন১ মহাসড়কের পাশের একটি খাদে পড়ে যায়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসিকে ম্যাথিয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। আরও কিছু লোককে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জানাব।’ বাসটি যখন খাদে পড়ে যায়, তখন এতে আরও যাত্রী ছিল বলেও জানান তিনি।
লিম্পোপো পরিবহ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।
২০২৫ সালে অক্টোবর মাসে যেখানে আরেকটি বাস দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত হয়েছিল, সেই একই এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
২ দিন আগে
দিনাজপুরে বাসচাপায় শিশু নিহত, আহত ৫
দিনাজপুরে বাসচাপায় জুনায়েদ (৬) নামের এ শিশু নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও ৫ শিশু আহত হয়েছে। তারা সবাই একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে চিরিরবন্দরের আমতলী ব্রিজের ওপর এ দু্র্ঘটনা ঘটে।
নিহত জুনায়েদ চিরিরবন্দরের পলাশডাঙ্গী গ্রামের জুয়েলের ছেলে ছিল। আহত অপর ৫ শিক্ষার্থীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
চিরিরবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাইনুল জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আহাদ পরিবহনের একটি বাস দিনাজপুর শহরে যাওয়ার সময় আমতলী ব্রিজের ওপর থেকে শিশুদের বহন করা স্কুলগামী একটি অটোভ্যানকে চাপা দেয়। এতে আমতলীর মোল্লা স্কুলের কেজি শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় দুজন গুরুতর আহতসহ মোট ৫ শিক্ষার্থীকে দিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসের চাপায় অটোভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর চালক বাসসহ পালিয়ে গেছেন।
২ দিন আগে
জানুয়ারিতে ৫৫৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৭
নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৪০.২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেলের সম্পৃক্ততার হার ৩৭.২০ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৭.১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন (১৩.৭৫ শতাংশ)।
এ সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হন। এছাড়া ৪১টি রেল দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানি
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ১৯৬ জন (৪০.২৪ শতাংশ), বাসযাত্রী ২১ জন (৪.৩১ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫.৭৪ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ আরোহী ৯ জন (১.৮৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন (১৫.৮১ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন (২.৬৬ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন (২.২৫ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার স্থান ও ধরন
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৫৬টি (২৭.৯০ শতাংশ) দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি (৩৭.০৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি (১৫.২০ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি (১৮.৪২ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৮টি (১.৪৩ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩৫টি (২৪.১৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি (৩৭.৩৮ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি (২৪.৫০ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৭২টি (১২.৮৮ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি (১.০৭ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
সম্পৃক্ত যানবাহন ও সংখ্যা
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক-রোড রোলার ২৮.৫৮ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১২.২০ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৪.৬৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪.৫১ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৮.৫৩ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩.৯৫ শতাংশ, বাইসাইকেল-রিকশা ২.১৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৫.৪২ শতাংশ।
মোট ৮৮৫টি যানবাহন দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, ট্রলি ১৮টি, লরি ৪টি, ড্রাম ট্রাক ১১টি, ট্যাংকার ৩টি, ময়লাবাহী ট্রাক ২টি, রোড রোলার ২টি, মাইক্রোবাস ১৪টি, প্রাইভেটকার ১৭টি, অ্যাম্বুলেন্স ৪টি, জীপ ৬টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত ৪৮টি।
সময় ও বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণ
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৬.৬১ শতাংশ, সকালে ২৬.৬৫ শতাংশ, দুপুরে ১৫.৫৬ শতাংশ, বিকালে ১৩.৯৫ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৩.৫৯ শতাংশ এবং রাতে ২৩.৬১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৫.৫৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ২৪.৪৩ শতাংশ; চট্টগ্রামে দুর্ঘটনা ২০.৩৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ২০.৭৩ শতাংশ; রাজশাহীতে দুর্ঘটনা ১৩.৭৭ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৪.৯৮ শতাংশ; রংপুরে দুর্ঘটনা ১১.০৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯.৮৫ শতাংশ; ময়মনসিংহে দুর্ঘটনা ৮.৯৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.২১ শতাংশ; খুলনায় দুর্ঘটনা ৮.৫৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯.৪৪ শতাংশ; বরিশালে দুর্ঘটনা ৭.৩৩ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.৬২ শতাংশ এবং সিলেটে দুর্ঘটনা ৪.২৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ৩.৫৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়
নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক-বীমা খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ২৭ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং ৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
কারণ, সুপারিশ ও পর্যালোচনা
প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুপারিশের মধ্যে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ, সার্ভিস রোড নির্মাণ, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন, রেল ও নৌপথ সংস্কার, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৯.৬১ জন নিহত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ হার ১৫.৭০ জনে নেমেছে, যা ১৯.৯৩ শতাংশ কম। তবে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করছে, এ হার টেকসই উন্নতির সূচক নয়; কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো কাঠামোগত উন্নতি হয়নি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখি প্রচারণা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২ দিন আগে
ময়মনসিংহে সেনা ট্রাক-বাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫ জন
ময়মনসিংহে সেনাবাহিনী সদস্যবহনকারী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে উভয় গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় কাকলি রাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সেনাবাহিনীর ট্রাকচালক সার্জেন্ট রেজাউল (৩৬) ও বাসচালক আব্দুল বাসেত (৫০)। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, আজ (বুধবার) সকালে সেনাবাহিনী তাদের ক্যাম্প কার্যক্রম শেষ করে ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহ ফেরার পথে বালিয়া মোড়ে পৌঁছালে শেরপুরগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ১৫ জন।
আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৬ জনকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে ট্রাকটির ড্রাইভার সার্জেন্ট রেজাউল করিম (৩৬) এবং যাত্রীবাহী বাসের চালক আব্দুল বাসেত (৫০) মারা যান।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে দুর্ঘটনার শিকার যান সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৩ দিন আগে
সিলেটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা ও বিয়ানীবাজার উপজেলার আছিরগঞ্জ এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
আজ সকাল ৯টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার আছিরগঞ্জ এলাকার বসন্তপুরে হাইড্রোলিক ট্রাক্টর ও টমটমের সংঘর্ষে কামাল হোসেন নামের এক টমটমযাত্রী নিহত হন।
নিহত কামাল হোসেন (৪২) বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া ইউনিয়নের বড়াউট গ্রামের মক্তার আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, ঘটনার পর পুলিশ ট্রাক্টরটি জব্দ করলেও চালক পালিয়ে গেছেন।
এর আগে, সকাল ৮টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় অপর সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক ফরহাদ হাসান (৩০) নিহত হয়েছেন।
ফরহাদ বিয়ানীবাজার উপজেলার মাটিজুরা গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সকালে দুর্ঘটনার শিকার মোটরসাইকেল ও চালকের নিথর দেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
৩ দিন আগে
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ বাংলাদেশি নিহত
সৌদি আরবে ওমরাহ করে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ মোট ৫ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) আবহা নামক এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্বজনদের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
নিহতরা হলেন— মিজানুর রহমান (৪২), তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি (৩০), দুই মেয়ে মোহনা (১৩), ও সুবাহ। তারা উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় তাদের আরও একটি মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের লোকজন।
এছাড়া একই দুর্ঘটনায় গাড়িচালক একই উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরের আবুল হোসেন পাটোয়ারীর ছেলে হোসেন মোহাম্মদ জিলানী ওরফে বাবর (৩০) নিহত হন।
মিজানুর রহমানের বড় ভাই বাহারুল আলম বলেন, আমার ছোট ভাই দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবের আবহা শহরে হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী জানান, বিষয়টি শুনেছি। মরদেহ দেশে আনার ব্যপারে সিদ্ধান্ত হলে পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৫ দিন আগে
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় চাকরিজীবী নিহত
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামের একজন চাকরিজীবী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা রুপসা সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর বাগেরহাটের সরুয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (সোমবার) সকালে খুলনা থেকে বাগেরহাটে যাওয়ার পথে রুপসা সেতুর পূর্ব পাশে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা ট্রাকের চাপায় জাহাঙ্গীর নিহত হন।
হরিণটানা থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক ইমরান হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
৫ দিন আগে
জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত, আহত অন্তত ১৫
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্ধ্যা রানী (৬০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার উথলী মালোপাড়ার কাছে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সন্ধ্যা রানী দর্শনার রামনগর গ্রামের বাগদি সম্প্রদায়ের দুলাল ওরফে ঘইটের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা রামনগর এলাকার বাগদি সম্প্রদায়ের অনেকেই মাঠে পড়ে থাকা ধান, গম, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার ভোরে ১৫ জনের একটি দল আলমসাধু (মোটর ভ্যান) খালিশপুর এলাকায় ফসল কুড়াতে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে উথলী মোল্লাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপার হওয়া একটি শেয়ালকে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সন্ধ্যা রানী নিহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— বাদলি রানী (৩০), বিকাশ মণ্ডল, রিকা রানী (৪০), শেফালী (৪৫), সন্ধ্যা (৫০), জোসনা (৫০), চায়না ও টুকুল (৩০), অশোক (৪০) এবং আলমসাধুচালক মিলনসহ (৩০) আরও কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের পরিবারের দাবি, তারা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
নিহত সন্ধ্যা রানীর মরদেহ রাতেই বাড়িতে নেওয়া হয়। আজ (সোমবার) পরিবারের সদস্যদের তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
৫ দিন আগে
শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ নিহত ২
শেরপুরে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালনের জন্য আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর-জামালপুর সড়কের সদর উপজেলার শিমুলতলি এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান (৩১) ও গৃহবধু মাহফুজা বেগম (১৯)।
রোকনুজ্জামান জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে চাকরি করছিলেন। শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব ছিল তার। অপরজন মাহফুজা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কাতলামারি গ্রামের নীরব মিয়ার স্ত্রী ছিলেন।
আহতরা হলেন— শ্রীবরদী উপজেলার দয়ারচর গ্রামের শাহীন মিয়া (৩০), শহরের চকপাঠক এলাকার রায়হান মিয়া (৩০), নিহত মাহফুজার ৩ মাস বয়সী ছেলে আব্দুর রহমান, সদরের গাজীর খামার এলাকার মোহাম্মদ আলী (২৮) ও জামালপুরের উপজেলার খইর এলাকার সুরাইয়া বেগম (২২)। আহতদের মধ্যে ৩ জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ও ২ জন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশ ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ (বুধবার) রোকনুজ্জামান জামালপুর ব্রিজ মোড় থেকে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে শেরপুর শহরে আসছিলেন। পথিমধ্যে শিমুলতলি এলাকায় একটি পিকআপের সঙ্গে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এ সময় অটোরিকশার যাত্রী রোকনুজ্জামান ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাহফুজা নিহত হন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, শিমুলতলির ওই দুর্ঘটনায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
শেরপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত, আহত ৩
শেরপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনাদুটি ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের রাঙাডুবা তিন রাস্তার মোড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের ধাক্কা লাগে। এতে অজ্ঞাত এক নারী (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহত নারীর বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও তিনি পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।
এর আগে, সকাল ১০টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া এলাকার মিয়া খালি মোড়ে বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ৩ যাত্রী আহত হন বলে জানান স্থানীয়রা।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অপর ২ জনকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
১১ দিন আগে