আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়েছে। তাই আমাদের নিকট জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশা পূরণে আমরা দ্রুত আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই, প্রথমে তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন ও নৈতিকতা উন্নতকরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। এখানে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট মঞ্জুরির বিষয়ও রয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এবং সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।
তিনি বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যুগোপযোগী উন্নয়নে আমাদের একটি সঠিক পরিকল্পনা দরকার। মন্ত্রী এসময় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের পরামর্শ ও সুপারিশমালা তৈরির নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা যে সংস্কার করতে চাই, তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (নিয়মিত দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, আইজিপি বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনু্বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
ফ্যাসিবাদের পরিণতির কথা মাথায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়েছিল অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মদদদাতা, ইন্ধনদাতা, পক্ষপাতিত্বকারী, সহায়তাকারী, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ অনেকেরই পূর্বপরিচিত। তারা সরকার যন্ত্রেরই অংশ ছিল। আজকে তাদের অনেকের করুণ পরিণতি সম্পর্কে সবাই অবহিত আছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত, অনেকে পলাতক, দেশান্তরিত, জেলে আছেন, আইন-আদালত সামলাচ্ছেন। এমনকি তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও আজ কঠিন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি আশা করি।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
তিনি বলেন, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
উপদেষ্টা এ সময় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি যাতে নির্বাচন তথা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে না পারে এবং জনগণের আস্থা হারাতে না পারে, সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগ এই সেলে করা যাবে।
তিনি জানান, এই সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার, যেটি জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) প্রস্তুত করেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষও যুক্ত থাকবে। অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং এর দ্রুত প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদেরও দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারেন। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের ‘স্টিল ফ্রেম অব ব্যুরোক্রেসি’ নিশ্চিত করতে হবে যাতে কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ফাঁকি দিতে না পারে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই বিদেশ সফর ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স—এসআইএফ-এর (সাবেক র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
সভায় খুলনা বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক,জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবির খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবারে তিনটি বিষয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সম্ভব হয়নি। সেগুলো হলো: নির্বাচন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার।
উপদেষ্টা এগুলোর সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৭ দিন আগে
রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোস্ট গার্ড অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান, ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ড বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা নীতিবিবর্জিত কাজ করবে, লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবে, দায়িত্ব এড়িয়ে চলবে, দায়িত্ব অবহেলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোস্ট গার্ড সদস্যদের অবদান তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, উপকূলীয় এলাকা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, ডাকাতি ও জলদস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ড সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান ও নাবিকদের উদ্ধার কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালনা করছে বাহিনীটি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে উপকূলীয় জনগণকে সচেতন করা, উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র ও লাইফ জ্যাকেট বিতরণ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসন কার্যক্রমে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বাহিনীটির প্রশংসা করেছে এবং যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
এ সময় দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের আস্থা ধ্বংস করে দেয়।
অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্ট গার্ড সদস্যদের পদক প্রদান করা হয়। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি।
১৮ দিন আগে
আসন্ন নির্বাচন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অ্যাসিড টেস্ট: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রংপুর জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সবকিছুর ভিত্তি আইনশৃঙ্খলা। শুরুতে সমস্যা থাকলেও এখন অবস্থা ভালো। পুলিশ গুছিয়ে উঠে নিজেরা সংহত হতে পেরেছে। সামনে নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় টেস্ট (পরীক্ষা)। কেননা অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, সামনের নির্বাচন একটি আদর্শ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান সুসংগঠিত করেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, আমাদের অ্যাসিড টেস্ট। নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। আমরা চাই, ভালো একটা নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব দিয়ে চলে যেতে।’
তৌহিদ হোসেনের মতে, ‘দুটো সেক্টরে (খাতে) বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। বাইরের দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু আমরা পারছি না। আমরা চেষ্টা করছি। ডাক্তার, নার্সের সমস্যা নিরসনের অংশ হিসেবে (অন্তর্বর্তী সরকারের) এই স্বল্প সময়ে সাড়ে ৩ হাজার নার্স ও ৩ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই খাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর তা দেখা যাবে। আমরা কিছু প্রকল্প শুরু করেছি। আশা করছি, পরের সরকার তা ধরে রাখবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রাথমিক শিক্ষার খুব ভয়ঙ্কর বাজে অবস্থা। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা প্রাইমারি শিক্ষকদের অনেক বেশি বেতন দিই, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো কর্মস্পৃহা দেখতে পাই না।’
৭৭ দিন আগে
ভোটের সময় ৮ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আট দিনব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যাচাই-বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ইসি। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির চার কমিশনার, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব কথা বলেন।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘মূলত পাঁচ দিনের ডেপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রাম করা হয়। সেখানে একটা প্রস্তাব এসেছে, এটা যেন আট দিন করা হয়। নির্বাচনের আগে তিন দিন নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তীকালে চার দিন। আমাদের ইনিশিয়াল প্রোগ্রামিং ছিল পাঁচ দিন। এখন প্রস্তাবনাটা আসছে, এটা আমরা পরীক্ষা করে দেখব।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সদস্য মাঠে থাকবে। প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আনসার-ভিডিপি থেকে আসবেন প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ সদস্য।’
এ ছাড়াও নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য মাঠে কাজ করবে। তবে আরপিও সংশোধনের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হবে বলে জানান তিনি।
ইসি সচিব বলেন, আইজিপি মহোদয় জানিয়েছেন যে, দেড় লাখ পুলিশ এই ইলেকশনে কাজ করবেন এবং সবচেয়ে বড় বাহিনীটা আসবে আনসার ভিডিপি থেকে। হোম সেক্রেটারি বলেছেন—বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোনের ব্যবস্থা থাকবে। কাজেই ভিজিলেন্সটা অনেক বেশিই হবে।’
সেনাবাহিনী ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে থাকবে, নাকি তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে থাকবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারে আরপিওটা সংশোধন হয়ে আসুক। দুটো মতামতই আছে, কিন্তু তাদের কন্টিনিউয়েশনের পক্ষেই আলোচনা হচ্ছে। ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার যেটা আছে...তার সঙ্গে আরপিও’র সাংঘর্ষিক যেন না হয়, সে জিনিসটা আমরা লক্ষ্য করব।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে, বৈঠকে কোনো শঙ্কার কথা আসেনি।
‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। নিরাপত্তা পরিকল্পনার অনেক কিছু নির্বাচনে বাজেটের উপর নির্ভর করবে। বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি পরে সিদ্ধান্ত হবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি লেফট্যানেন্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, নৌ-বাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, বিমান বাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দিন আসাদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, এনএসআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদ, ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, আনসার ভিডিপি অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়াল অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা, র্যাব হেডকোয়ার্টার মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান, এসবি’র অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন ও অর্থ) জি এম আজিজুর রহমান, সিআইডি অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. ছিবগাত উল্ল্যাহ।
১২৪ দিন আগে
সচিবালয় ছেড়ে শিক্ষার্থীরা স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায়, পুলিশ জিরো পয়েন্টে
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় থেকে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় তারা গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় অবস্থান করছেন।
বিমান দুর্ঘটনায় হতাহত শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবিতে এবং মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা দেরিতে স্থগিত ঘোষণা করার কারণে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ও শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়েরের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। যদিও এরইমধ্যে শিক্ষা সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘মাইলস্টোন কলেজে এত বড় বিপর্যয়ের পরও আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। রাত তিনটার দিকে কেন এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে? সকালে ঘুম থেকে উঠে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর শুনেছি পরীক্ষা স্থগিত। এমন অবিবেচক শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবকে আর দেখতে চাই না। তাই তাদের পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে এসেছি।’
বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সচিবালয়ের সামনে এসে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে তারা সচিবালয়ের তিন নম্বর ফটকের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। পরে বিকেল পৌনে চারটার দিকে তারা ফটক খুলে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন।
এরপর সচিবালয়ের ভেতর পার্কিং অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গাড়ি ভাঙচুরের জেরে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
আরও পড়ুন: রণক্ষেত্র সচিবালয়, গেট ভেঙে প্রবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা=
২১৪ দিন আগে
বিডিআর বিদ্রোহ: গোয়েন্দা সংস্থার চরম ব্যর্থতার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিশন
জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম অবহেলা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যর্থতার কথা কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে।
বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় নতুন ভবনে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিদ্রোহ চলাকালে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো নিষ্ক্রিয় ছিল, যার সুযোগে হত্যাকাণ্ডসহ ভয়াবহ অপরাধ সংগঠিত হয়।
কমিশনের তথ্যমতে, তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৫৮ জন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৫০ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যে তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে, যা কমিশনের সদস্যরা পর্যালোচনা করছেন।
এ ছাড়া, বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এজন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমার সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘মিলিটারি অ্যাকশন শুরু হলে এত বড় প্রাণহানি, নৃশংসতা ও সহিংসতা এড়ানো যেত। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছেও বিদ্রোহের আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল, কিন্তু তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের অজুহাত দিয়ে প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ সময় গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার পাশাপাশি তৎকালীন দুটি তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি।
তিনি বলেন, “বিদ্রোহের প্রকৃত রহস্য আড়াল করতে পুরনো দুটি তদন্ত কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটিকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া কয়েকটি বক্তব্যে বিদ্রোহের সঙ্গে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
২০০৯ সালের ২৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে সংঘঠিত বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
ওই ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরণ আইনে করা মামলায় ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। এ ছাড়া, আরও অন্তত ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
২৪১ দিন আগে
ইসি যখনই নির্বাচনের তারিখ দেবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: উপদেষ্টা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) যখনই নির্বাচনের তারিখ দেবে, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময়ে পুলিশ বর্তমানে সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে, তাই মানুষ ভাবছে পুলিশ সচল হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব বলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আগের থেকে আরও বেশি সচল।’
পুলিশ পুরোপুরিভাবে সচল হয়েছে কিনা এই প্রসঙ্গে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘গেল পনেরো বছরের মতো পুলিশ আমরা চাচ্ছি না, যে গেল দুইটি পিট্টি মারলো। আমরা মানবিক পুলিশ চাই, যারা সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে, সবকিছু ভালোভাবে চলবে। পুলিশ এখন ভালো ব্যবহার করে, তাই মানুষ ভাবে পুলিশ সচল হয়নি। কিন্তু পুলিশ আগের থেকে আরও বেশি একটিভ (সচল)।’
এদিকে, সম্প্রতি লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক শেষে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানানো হয়।ৎ
আরও পড়ুন: নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব প্রস্তুতি আছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আইনশৃঙ্খলার বাহিনী এজন্য প্রস্তুত রয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচনের তারিখ দেবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখনই প্রস্তুত আছে।’
এ সময় সীমান্তে পুশ ইন সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশ আলোচনা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাছাড়া ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গেও কথা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের দেশের নাগরিক ভারতে থেকে থাকেন, তাহলে প্রোপার চ্যানেলে পাঠালে আমরা নেব। কিন্তু এভাবে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া, নদীর ওপর ফেলে যাওয়া, লেকের ওপর ফেলে যাওয়া— এটা কোনো সভ্য দেশের কাজ হওয়া উচিত না।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করেছি, আমাদের দেশের নাগরিক হলে প্রোপার চ্যানেলে পাঠাও, আমরা নিয়ে নেব।’
আরও পড়ুন: তারেক দেশে ফিরতে পারেন যেকোনো সময়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এ বিষয়ে মিডিয়াকেও প্রচার চালাতে বলেন তিনি। এছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া, ঢাকার উত্তরায় র্যাবের পোশাক পরে কয়েকজন এসে মোবাইলে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদের এজেন্টের কাছ থেকে কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। আমরা সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করছি, এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনার।’
২৫১ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সবসময় সজাগ-সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সবসময় সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর কয়েকটি থানা পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন তিনি।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ফোর্স ও টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত চেকপোস্টগুলোও কাজ করছে। যৌথবাহিনীর অপারেশনও ভালোভাবে চলছে।
থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে। থানাসমূহ সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখতেই তিনি পরিদর্শন করছেন বলে জানান।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোরের দিকে দায়িত্বে শিথিলতা দেখায়। এ সুযোগে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন এসময়েও সজাগ ও সতর্ক থাকে।
চলমান যৌথ অভিযান আর কতদিন চলবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে যৌথ অভিযান বন্ধ করা হবে। তবে অন্যান্য অভিযান চলমান থাকবে।
তিনি আরও জানান, গতকাল গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
উপদেষ্টা তার বারিধারার ডিওএইচএস’র বাসা থেকে বের হয়ে ইসিবি চত্বর, কালশী, পল্লবী, মিরপুর-১০ হয়ে মিরপুর থানায় পৌঁছান। পরিদর্শন শেষে সেখান থেকে মিরপুর-১ হয়ে দারুসসালাম থানায় যান। দারুসসালাম থানা থেকে টেকনিক্যাল মোড়, শ্যামলী হয়ে আদাবর থানা পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে মোহাম্মদপুর থানায় যান। মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে ধানমন্ডি ২৭, সংসদ ভবন, বিজয় সরণি, মহাখালী, বনানী হয়ে বারিধারার বাসায় ফিরে আসেন তিনি।
থানাগুলো পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা থানার অভ্যর্থনা কক্ষ, হাজতখানাসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। তিনি ডিউটি অফিসার-সহ কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: পুলিশের টহল কার্যক্রম পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পথিমধ্যে তিনি জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার চেকপোস্ট ও কালশী মোড় চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলেন। তাছাড়া উপদেষ্টা মিরপুর থানা মোড় ও টেকনিক্যাল মোড়ে উপস্থিত সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।
৩৫৯ দিন আগে
যশোরে ২৭৫ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ হাজার সদস্য
পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে ২৭৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুরো জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে ১৬ হাজার সদস্য।
তিনি জানান, এর মধ্যে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, সেনা সদস্য, ম্যাজিস্ট্রেটসহ গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত নির্ধারিত পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে। যাতে করে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেটরা সাজা নিশ্চিত করতে পারেন।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) জেলা পুলিশ লাইন্সে আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সদস্যদের ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের পুলিশ সুপার (এসপি) প্রলয় কুমার জোয়ারদার এই কথা জানান।
পুলিশ সুপার জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সদস্যদের জন্য এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
এ সময় ভোটারদের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদানের ব্যবস্থা করা এবং শতভাগ নির্বাচনি সরঞ্জাম ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নির্বাচন ২০২৪: বাগেরহাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে
পুলিশ সুপার বলেন, ভোটের দিন পুরো যশোর জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। নির্বাচনে নিরাপত্তা দিতে দুই হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য, ১০ হাজার আনসার সদস্য, ৪৫০ বিজিবি সদস্য, সেনা সদস্য, ম্যাজিস্ট্রেটসহ গোয়েন্দা বাহিনীর ১৬ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
ব্রিফিংয়ে পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) রেশমা শারমিন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ও জেলা আনসার কমান্ডেন্ট সঞ্জয় সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলাল হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনবিরোধী প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার সামর্থ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর: আইজিপি
৭৭৮ দিন আগে