গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় ছিনতাইকারী সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দ কোমরপুর ইউনিয়নের জাওলার বাজারে ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম লেবু মণ্ডল; অপরজন ময়নুল ইসলাম। উভয়ের বাড়িই পলাশবাড়ি উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (শুক্রবার) ফজরের নামাজের পর ঢাকা থেকে নাসিমা ও তার স্বামী নিজের বাড়ি সাদুল্লাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা খোর্দ্দ কোমারপুর মাদারহাট সেতুতে পৌঁছালে দুই যুবক তাদের পথরোধ করে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন এসে ওই দুই যুবককে ধাওয়া করে। তারা জাওলার বাজার এলাকায় আশ্রয় নিলে লোকজন তাদের দুইজনকে পিটুনী দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাদের পিটুনী দেওয়া হলে তারা নিহত হন। নিহত লেবু মন্ডলের নামে হত্যা, ডাকাতি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
১ দিন আগে
গাইবান্ধা কারাগারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির মৃত্যু
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীকুল ইসলাম লিপন জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে তিনি মারা যান।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাইবান্ধার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান কারা কর্তৃপক্ষ। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন সেখানকার ডাক্তাররা। সেখান থেকে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি একটি মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা সদর থানার হাজতি ছিলেন। এর আগেও কারাগার থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরি হরিণ মারী গ্রামের মরহুম জোব্বার সরকারের সেজ ছেলে। পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি।
শামিকুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০১৮ সাল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
৬ দিন আগে
গাইবান্ধা-৪: ভোট জালিয়াতির অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি জামায়াতের
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ১০টি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি, অনিয়মের প্রতিবাদ ও নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের দারুল আমান ট্রাস্ট ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার বলেন, ভোটের সময় পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মারা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ১০টি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে অনিয়ম না হলে আমিই বিজয়ী হতাম।
এ সময় ওই ১০টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান গাইবান্ধা-২ আসনের এ জামায়াত প্রার্থী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুর করিম সরকার, গাইবান্ধা-৩ আসনে নির্বাচিত আবু কাওসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচিত মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৫ আসনে নির্বাচিত জামায়াত নেতা ওয়ারেস আলীসহ অন্যান্য জামায়াত নেতারা।
৭ দিন আগে
গাইবান্ধায় বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মোটরসাইলে অগ্নিসংযোগ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় মামলার আসামি এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তারের পর গভীর রাতে গাইবান্ধা-৫ আসনের (সাঘাটা-ফুলছড়ি) বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুরজামান নিশাতের সমর্থকদের সাতটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের নুরুজামান হাজী বাদী হয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে সাঘাটা থানায় মামলা করেন। মামলার পর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফয়সাল নামের এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তারের পর গতকাল (মঙ্গলাবার) গভীর রাতে ফয়সালের লোকজন কচুয়া ইউনিয়নের নুরুজামান হাজীর বাড়িতে রাখা সাতটি মোটরসাইকলে অগ্নিসংযোগ করে।
এ ঘটনায় নাহিদুরজামান নিশাত বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা ঠেকাতে প্রতিপক্ষের লোকজন এ ধরনের হামলা করছেন।’
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফয়সাল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
আ.লীগ নেতাকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার, ৩ পুলিশ সদস্য আহত
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা, কায়েস ও মমিনুল।
পুলিশ জানায়, গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় বাড়ির ভেতরে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে মারধর শুরু করে হামলাকারীরা। সেই সঙ্গে পুলিশের দুটি মোটরসাইকেলেও ভাঙচুর চালানো হয়।
হামলায় এসআই সেলিম রেজা এবং এসআই কায়েস আহত হন। পরে পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীনের নির্দেশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এবিএম রশীদুল বারীর নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি দল গিয়ে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় সেনাবাহিনী।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
২৬ দিন আগে
গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যানচালকসহ নিহত ২
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ট্রাক্টরের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উপজেলার ফাসিতলা কলাহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ জানায়, গোবিন্দগঞ্জ থেকে একটি আলুবোঝাই ভ্যান ফাসিতলার দিকে যাচ্ছিল। ভ্যানটি ফাসিতলা কলাহাটিতে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্রাক্টরের সঙ্গে ভ্যানটির ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানের মালিক মুনছর আলী ও সহকারী রানা মিয়া নিহত হন।
নিহতদের বাড়ি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জে। গতকাল (শনিবার) রাতেই মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক্টরচালক পালিয়ে যান।
২৭ দিন আগে
ভোট এলেই দেওয়া হয় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
ভোট এলেই কদর বাড়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা এলাকার দশ গ্রামের মানুষের। আর ভোট শেষ হলেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে আর পাত্তা পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের মুখে একই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে গ্রামগুলোর ভোটাররা এখন চরমভাবে বিরক্ত। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না। ভোট দেব তাকেই, যিনি লিখিতভাবে অঙ্গীকার করবেন, সাঁকোর জায়গায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দেবেন।’
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের আলাই নদীতে একটি সেতু না থাকায় দশ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। নদী পার হতে হয় নড়বড়ে কাঠ ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে। অসুস্থ রোগীকে ঘাড়ে করে পার করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোর কারণে নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত সাড়ে তিনশ দরিদ্র শিশু-কিশোর নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় অনেকেই।
আলাই নদীবেষ্টিত এই এলাকায় রয়েছে জামাইপাড়া, মফুরজান, গোয়ালবাড়ি, রামনাথের ভিটা, পোড়াগ্রাম, সর্দ্দার পাড়াসহ অন্তত দশটি গ্রাম। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের নদী পার হওয়ার একমাত্র ভরসা রামনাথের ভিটা স্টেশন বাদিয়াখালী এলাকার পাকা সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সাঁকো। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। কেউ কৃষিশ্রমিক, কেউ ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালান, কেউ পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় নদীবেষ্টিত এসব গ্রামেই তাদের বসবাস। পান না উল্লেখযোগ্য কোনো নাগরিক সুবিধা।
কিছু পরিবারের সামান্য জমিজমা থাকলেও উৎপাদিত ফসল বিক্রির মতো কাছাকাছি কোনো হাটবাজার নেই। এলাকায় তরিতরকারি ও সবজির আবাদ ভালো হলেও যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে, পায়ে হেঁটে বা ঘাড়ে করে সবজি বহন করতে হয়।
স্টেশন বাদিয়াখালীর বাসিন্দা ও মানবাধিকারকর্মী কাজী আব্দুল খালেক বলেন, ‘এসব গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কাঠ ও বাঁশের তৈরি সাঁকো। দশ গ্রামের মানুষ নিজেরাই চাঁদা তুলে প্রতি বছর সাঁকো তৈরি করেন। ভেঙে গেলে গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে সেটি মেরামত করেন। নিজেদের টাকায় বাঁশ ও কাঠ কিনে সাঁকো বানানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার নারী-পুরুষের দাবি থাকা সত্ত্বেও এখানে দীর্ঘদিনেও একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। ভোট এলেই প্রার্থীরা এসে বলেন—ভোট দিলে সেতু করে দেব। সেই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে মানুষ এখন ক্লান্ত।’
তিনি জানান, এই গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়, অথচ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা হাটবাজার নেই। তেল-লবণ কিনতে হলেও যেতে হয় স্টেশন বাদিয়াখালী হাটে। মাথাব্যথা, পেটব্যথাসহ জরুরি ওষুধ কিনতেও সাঁকো পার হয়ে ওই হাটে যেতে হয়। দশ গ্রামের অন্তত সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে এপারের সরকারি স্কুলগুলোতে আসতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবী, আলাই নদীতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে গ্রামগুলোর মানুষের জীবনধারায় বড় পরিবর্তন আসবে। শত শত শিশু নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে। গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গরুর দুধ হাটবাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা সহজ হবে। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব অবহেলিত গ্রামে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই দ্রুত নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে হাজারো গ্রামবাসীর দুর্দশা লাঘবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সুপারিশে সেখানে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে। তবে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হলেও এখনও প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া যায়নি।
৩২ দিন আগে
গাইবান্ধায় স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী ও সৎ ছেলে গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শিউলী বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ফরিদ উদ্দীন (৪৫) ও সৎ ছেলে মো. হৃদয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাগদা বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের বাজারস্থ কাটাবাড়ী গ্রামের বাগদা বাজার টাওয়ার এলাকা থেকে শিউলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার স্বামী ফরিদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ কলাবাগানে ফেলে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।
এরপর রোববার ভোরে এক অভিযানে ফরিদ ও তার অন্য স্ত্রীর ছেলে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: সিলেটে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা
স্থানীয়রা জানান, নিহত শিউলী বেগম ফরিদ উদ্দীনের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রায় ১২ বছর আগে শিউলী ও ফরিদের বিয়ে হয়। ফরিদের প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হচ্ছিলো না ।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শিউলীকে মারধর করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন ফরিদ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়ির পাশে কলাবাগানে ফেলে রেখে তিনি গা-ঢাকা দেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামী ও অন্য স্ত্রীর ছেলেকে বাগদা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১৫৩ দিন আগে
৬২ বছর ধরে স্কুল আছে শিক্ষার্থী নেই, জানেন ঊর্ধ্বতনরাও
প্রতি ক্লাসে ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী, তারপরও খিচুড়ি খাওয়া হলেই ছুটি; বাড়ি চলে যায় তারা। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্র ভি এইড রোডে অবস্থিত কে এন রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্যকার চিত্র এটি। গত ৬২ বছর থেকে এভাবেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চললেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজানা নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও বিদ্যালয়টির সরকারিকরণ করা হয় ১৯৭৩ সালে। শুরু থেকে এমপি মন্ত্রীদের সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়ে আসছে বিদ্যালয়টিতে। এ কারণে প্রথম থেকেই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম থাকলেও শিক্ষক ছিল পর্যাপ্ত।
বিদ্যালয়টি বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সুন্দর মনোরম পরিবেশে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থীর কোলাহলপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে তা নয়, কোমলমতি শিশুদের ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে স্কুলের কার্যক্রম।
প্রতিষ্ঠার ৬২ বছর পরও স্কুলের শিক্ষকের সংখ্যা কম না হলেও শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। কোনো বছর প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীই ছিল না বলেও স্কুলের খাতাপত্র ঘেটে দেখা যায়। আবার কোনো কোনো ক্লাসে ছিল ১০ জন, কোনো ক্লাসে ১৫ থেকে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল না।
আবার দুটি ক্লাস চলে একই কক্ষে। দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা কীভাবে এক সঙ্গে নেওয়া হয়, তা অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ।
আরও পড়ুন: প্রভোস্টবিহীন জাবির কাজী নজরুল হল, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৬২ বছরেও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল দেখাতে পারেনি বিদ্যালয়টি। অথচ শিক্ষকরা তাদের কর্তাব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে মাসিক ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করে বহাল তবিয়তে চাকরি করে আসছেন।
অনিয়মের পাশাপাশি এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় কেউ এখানে ভর্তি হয় না বলে জানান স্থানীয় কাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, পড়ালেখার পরিবেশ নেই, শুধু ফাঁকিবাজি। সব জেনেও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা সব হজম করে পকেট ভরছেন আর ভালো রিপোর্ট দিচ্ছেন।
সম্প্রতি স্কুলের পড়ালেখার পরিবেশ তৈরি করতে ৬ জন শিক্ষিকা ছাড়াও একজন দপ্তরি নিয়োগ করা হয়। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষিকারা কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার্থী পেতে বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন, কিন্তু কাজ হয়নি। বরং শিক্ষার্থী না পেয়ে তারাও হতাশ। অনেক চেষ্টা করে ৬টি শ্রেণির জন্য মাত্র ৬০ জন শিক্ষার্থীকে ধরে রাখতে পেরেছেন তারা। তার মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে ৩ জন আর চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করে।
স্কুলের সামনের বাসিন্দা এবং ওই স্কুলের একসময়ের শিক্ষার্থী দুলাল মিয়া বলেন, ‘স্কুলের চারদিকে ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। শিশুরা সেখানে পড়তে যায়। সেই কারণে কে এন রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদা শিরিন বলেন, ‘স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে আমরা কম চেষ্টা করিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ করেছি, কিন্তু কাজ খুব বেশি হয়নি। তাছাড়া এই স্কুলের চারপাশে কোচিং সেন্টারসহ ভালো কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সে কারণে শিশুরা ওই দিকে ঝুঁকে পড়ছে।’
স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকারা বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে এবং উপস্থিতি বাড়াতে আমরা নিজেদের বেতনের টাকায় ছাত্রছাত্রীদের দুপুরে খিচুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। খিচুড়ি খেয়েই শিক্ষার্থীরা চলে যায়। এই স্কুলের অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন থাকলেও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা তা এড়িয়ে যান। তারা কোনো পরামর্শ দিতেও স্কুলে আসেননি।
গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস স্কুলের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের সভায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আমরা স্কুলে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করছি।’
১৭৭ দিন আগে
গাইবান্ধায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা নজরুল ইসলাম নজিরের (৪০) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের শীতলগ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নজরুল ইসলাম শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শীতলগ্রাম ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত তোফজ্জল ইসলামের ছেলে।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে নৈশপ্রহরীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১৬ আগস্ট) গভীর রাতে শীতল গ্রামে তার দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন নজরুল। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এদিকে, রাতে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাকে খুঁজে না পেলেও আজ সকালে বাড়ি থেকে কিছু দূরে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।
ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, গত রাতে বাড়ির পাশেই দুর্বৃত্তরা তাকে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে তদন্ত চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
১৮৮ দিন আগে