হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
হংকংয়ের মিডিয়া মোগল জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড
হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে গণতন্ত্রপন্থী ব্যক্তিত্ব ও অ্যাপল ডেইলি সংবাদপত্রের মালিক জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তার পরিবার এই সাজাকে ‘হৃদয়বিদারক নিষ্ঠুরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা মেয়ে বলেছেন, ‘জেলে তার মৃত্যু হলে তিনি “শহিদ” হবেন।’ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সমালোচকদের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এই সাজা হলো বহু বছর ধরে চলে আসা লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি, যার মাধ্যমে হংকং একটি স্বাধীন শহর থেকে এমন একটি শহরে পরিণত হয়েছে, যেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি-নিয়ন্ত্রিত সরকার ভিন্নমত পোষণকারীদের কঠোরভাবে দমন করছে।
ডিসেম্বরে লাইয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। লাইয়ের এই ২০ বছরের কারাদণ্ড হংকংয়ের ইতিহাসে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক অপরাধের সবচেয়ে বড় সাজা।
লাইয়ের সাজার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাইওয়ান এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষের মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডারস নামের সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বলেছে, ‘হংকংয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আজ পর্দা নেমে এসেছে। আদালতের এ সিদ্ধান্ত হংকংয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পতন এবং সাংবাদিকতার প্রতি চরম অবমাননার সামিল।’
লাইয়ের এই দীর্ঘ সাজাকে ‘সত্যিকার অর্থে মৃত্যুদণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, ‘এই মাত্রার সাজা নিষ্ঠুর ও অন্যায্য। লাইয়ের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা নির্যাতন চীন সরকারের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে চূর্ণ করার এবং কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা করে এমন যে কাউকে চুপ করিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মামলাটিকে ‘আইন দ্বারা শাসিত শহর’ থেকে ‘ভয় দ্বারা শাসিত শহরে’ রূপান্তরের আরেকটি ভয়াবহ মাইলফলক বলে অভিহিত করেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এবং ব্রিটিশ সরকার লাইয়ের মামলাকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত বলে বর্ণনা করে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
তবে লাইকে সরকারবিরোধী উসকানিদাতা এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বর্ণনা করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাদের মতে, লাই একজন ব্রিটিশ নাগরিক যিনি শিশু শরণার্থী হিসেবে চীন থেকে পালিয়ে আসার পর থেকে হংকংয়ে বসবাস করছেন।
লাই হংকংয়ের বিলুপ্ত সংবাদপত্র অ্যাপল ডেইলির প্রতিষ্ঠাতা। এটি একটি জনপ্রিয় হংকংভিত্তিক সংবাদপত্র ছিল। ২০১০-এর দশকে হংকংজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে সমর্থন করে জনপ্রিয়তা পায় সংবাদপত্রটি।
২০২০ সালের জুনে একটি কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই আন্দোলন দমন করেছিল সরকার। সে সময় বেশিরভাগ ভিন্নমত পোষণকারীদের এই আইনের আওতায় ‘অপরাধী’ ঘোষণা করা হয়। লাইকে সে বছরের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে অ্যাপল ডেইলি বন্ধ করে দেয় দেশটির চীন সরকার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, জানুয়ারিতে বেইজিংয়ে চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি লাইয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন যে তিনি লাইয়ের মুক্তি নিশ্চিত করবেন।
কারাগারে থাকা মিডিয়া উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার কারণে লাইয়ের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তার দাঁতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কারাবন্দি এবং অধিকাংশ সময় নির্জন সেলে কাটিয়েছেন।
তবে হংকং কর্তৃপক্ষ বলছে, লাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পেয়েছেন এবং অন্য বন্দিদের থেকে আলাদা থাকার আবেদন তিনিই করেছিলেন। সোমবার সাজা ঘোষণার পর জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ প্রধান স্টিভ লি বলেন, রায় যথাযথ হয়েছে। সেইসঙ্গে লাইয়ের শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে করা অভিযোগকে তিনি অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেন।
এই ঐতিহাসিক জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় লাইয়ের সঙ্গে আরও আটজন অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন অধিকার কর্মী এবং বাকি ছয়জন লাইয়ের মালিকানাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের সাবেক নির্বাহী। মামলায় সংশ্লিষ্ট সবাই দোষী সাব্যস্ত হন।
১২ দিন আগে
মুহিবুল্লাহ হত্যার তদন্ত দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ক্যাম্পে রোহিঙ্গা কর্মীদের ওপর অন্যান্য হামলার দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য মুহিবুল্লাহ ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। তিনি সবসময় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, তাদের অধিকার, জীবনমান ও ভবিষ্যত করণীয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করেছেন।’
আরও পড়ুন: উখিয়ায় শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা
তিনি বলেন, মুহিবুল্লাহর মৃত্যু শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তার হুমকির পাশাপাশি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদে প্রত্যবাসনের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করবে।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিচ এন্ড হিউম্যান রাইট সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে (৪৬) কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা নেতার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের গভীর শোক
১৬০৫ দিন আগে
সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক মামলা বাতিলে দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগকে ‘নিপীড়নমূলক’ উল্লেখ করে মামলা বাতিলে আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, রোজিনার সহকর্মীরা মনে করেন তাকে (রোজিনা) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তার অনুসন্ধানী কাজের জন্য আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক রোজিনার গ্রেপ্তারে জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশ
‘সরকারি নথি চুরি এবং অবৈধভাবে ছবি তোলার’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেসি আইনের ৩ ও ৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে মামলা করে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস্ বলেন, ‘বাংলাদেশের সব জায়গায় সাংবাদিকরা রোজিনার মুক্তির দাবি জানাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিৎ রোজিনা বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে ধরা, নয়তো তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মুক্তি দেয়া। সরকারের দোষ তুলে ধরলেও, সাংবাদিকদেরকে তাদের কাজ করার জন্য আটক করা বন্ধ করতে হবে।’
আরও পড়ুন: প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত
তিনি আরও বলেন, রোজিনা ইসলামের এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের দুর্নীতি তুলে ধরা সাংবাদিকদের প্রতি ভীতিকর বার্তা প্রদান করছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার নিজ দায়িত্ব পালনে সচিবালয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ‘সরকারি গোপনীয় নথি চুরির’ অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে রাত পৌনে ১০টায় তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ওই রাতেই তার বিরুদ্ধে মামলা করে করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: রোজিনার মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল গোয়েন্দা পুলিশ
অভিযোগ আছে, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে মন্ত্রণালয়ের কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
বৃহস্পতিবার রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের শুনানি হবার কথা রয়েছে।
১৭৩৮ দিন আগে