বিয়ানীবাজার
বিয়ানীবাজারে জমিয়ত ও ফুলতলী মসলকের সমর্থন পেল বিএনপি
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলাম। নির্বাচন কমিশনে অনিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রয়াত আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী। তার প্রতিষ্ঠিত এই দলের অনুসারীদের সংক্ষেপে ‘ফুলতলী মসলক’ বলে সম্বোধন করা হয়।
এদিকে স্থানীয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছে। জমিয়তের প্রার্থী বিদ্রোহ করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও নির্বাচনি মাঠে বেশ প্রভাব ফেলেছেন তারা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পৌরশহরের সুপাতলা এলাকার লতিফিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের উন্নয়ন স্বার্থে এমরান আহমদ চৌধুরীকে বিজয়ী করার জন্য আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলাম এবং তাদের অনুসারীরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। এ সভায় বিএনপির পক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা, যুগ্ম সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন, আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামের পক্ষে আল-ইসলাহর সংগঠক আব্দুর রহমান নিজামী, উপজেলা শাখার সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গৌছ উদ্দিন, পৌর সভাপতি হাজী বদরুল ইসলাম, উপজেলা তালামীযে ইসলামিয়ার সভাপতি হাফিজ জফরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হিফজুর, পৌর শাখার সভাপতি রিফাত আহমদ, কলেজ সভাপতি মফিজ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, বিয়ানীবাজার জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা-কর্মীরা সিলেট-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ মতবিনিমিয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিলেট জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুল মতিন, উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক কাসেমী, উপজেলা যুব জমিয়তের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, পৌর ছাত্র জমিয়ত নেতা তোফায়েল আহমদ ও জমিয়ত নেতা রাজু আহমদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
মধ্যরাতে সিলেট অঞ্চলে দুইবার ভূমিকম্প
সিলেট ও মৌলভীবাজারে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে এবং এর পাঁচ মিনিট পর ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে এ কম্পন অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিসমিক অবজারভেটরির তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৫ এবং উৎপত্তিস্থল সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলায়। পরের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩.৩ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল বিয়ানীবাজারের পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায়।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারি আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসেন সিসমিক সেন্টারের বরাতে এ সকল তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ভূমিকম্পের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ও পরদিন শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারবার ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
শুক্রবারের ভূমিকম্পে দুই শিশুসহ ১০ জন প্রাণ হারান। এর মধ্যে ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচজন ও নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় কয়েকশ’ মানুষ আহত হন।
৭২ দিন আগে
বিয়ানীবাজারের সবুজ দুনিয়া সংকুচিত, অতিথি পাখি উধাও
শীতের মৌসুম চলে এলেও সিলেটের বিয়ানীবাজারে এবার কোথাও অতিথি পাখির দেখা মিলছে না। জলাশয়, জলাধার, খালবিল, নদীনালা—কোথাও এ বছর অতিথি পাখির কলরব নেই।
১০ বছর আগেও উপজেলার বিভিন্ন বিল, ঝিল, নদীনালা ও খালগুলোতে শীতের মৌসুম আসতে না আসতেই নানা জাতির ও আকৃতির অতিথি পাখির কলরবে মুখরিত হয়ে উঠত পুরো উপজেলা। কিন্তু অরণ্যাঞ্চল সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পরিযায়ী পাখিরা তাদের গন্তব্য বদলেছে।
বিয়ানীবাজারে গত কয়েক বছর ধরেই বনভূমি উজাড়ের মহোৎসব চলছে। কংক্রিটের ভারে হারিয়ে যেতে বসেছে গাছগাছালি। ফসলের খেতে কীটনাশক ও ঘাস মারার বিষ প্রয়োগের ফলে ঘাসজমির দেখা পাওয়াও এখন অনেকটা দুর্লভ। ফলে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য হারিয়ে পাখিদের কোলাহল ক্রমেই কমে আসছে।
স্থানীয়রা জানান, এখানকার গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মতো পাখির ডাকে মানুষের ঘুম ভাঙে না। বাড়ির আঙিনায় পাখিদের কিচিরমিচির ডাক, গাছের ডালে ডালে ঝাঁক বেঁধে উড়ে আসা পাখিদের সেই কলকাকলি আর নেই। অথচ একসময় ছিল যখন গাছে গাছে, ঝোপ-ঝাড়ে, মাঠ-ঘাটে, বিলে-ঝিলে, বাগানে কিংবা বাড়ির আঙিনায় দোয়েল, টিয়া, ঘুঘু, কাক, কোকিলসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির পাখির বিচরণ চোখে পড়ত।
শীতের আমেজ শুরু হলেই উপজেলার মুড়িয়ার হাওরসহ ছোট-বড় বিলে আগে বিভিন্ন অতিথি পাখির ঢল নামত। আশ্বিন মাসের শেষের দিকে হাওর ও বিলের পানি শুকাতে শুরু করলে সেখানে পুঁটিসহ ছোট ছোট মাছ খেতে ঝাঁকে ঝাঁকে নামত দেশি বকসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিতে শীতের ছোঁয়া গায়ে লাগিয়ে বসন্তে আবারও নিজ দেশে পাড়ি জমাত অতিথি পাখিরা। কিন্তু উপজেলার চিরচেনা অভয়ারণ্যগুলোতেও এবার পাখির বিচরণ নেই। অতিথি পাখি আসার হার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
৭৬ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে প্রতিবেশীর হামলায় একজন নিহত, আটক ১
সিলেটে প্রতিবেশীদের হামলায় একরাম আলী (৫৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৭ এপ্রিল) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
এর আগে শনিবার (২৬ এপ্রিল) উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে গাড়ি রাখার স্থান নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন একরাম আলী।
একরাম আলী ইউনিয়ন দফাদার ছালেহ আহমদের ছেলে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: উত্তরায় ট্রাকের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত
এদিকে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্দ এলাকাবাসী হামলাকারীদের বাড়ি ঘেরাও করে একজনকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ উজ্জামান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান পচিালনা করা হচ্ছে।’
৩০০ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগ নেতা ফাহিমকে পুলিশে দিল ছাত্র-জনতা
সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে ফাহিম নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় ছাত্র জনতা। সে পৌরসভার দক্ষিণ ফতেহপুর দাসগ্রাম এলাকার সফিক উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পৌরশহরের পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় ছাত্র জনতা।
আটক ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম আহমদ (২৫) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি। পরে সেই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করার চেষ্টাকালে ফাহিম আহমদকে স্থানীয় লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে সে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করেন। এক পর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ফাহিম সরকার পতনের পর বিয়ানীবাজার থানা প্রাঙ্গণে গুলিতে নিহত ময়নুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২৬ নম্বর আসামি। নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম ওই মামলার বাদী।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগ পাইনি। খেলার মাঠ থেকে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে আমাদের থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৩০২ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে ‘ঠিকানা’র ধারেকাছে যান না মুক্তিযোদ্ধারা
কয়েক বছর আগে বিয়ানীবাজারে নির্মিত হয়েছে আধুনিক মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। তিনতলা বিশিষ্ট এ ভবন নির্মাণের পর থেকেই অনেকটা পরিত্যক্ত। কমপ্লেক্সটি নির্মিত হওয়ার পর থেকে এটি মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রমের চেয়ে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিরোধী রাজনীতিক নেতাকর্মীদের অভিযোগ।
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অঘোষিত কার্যালয় হিসেবে এই ভবনটি ব্যবহারের কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অতি রাজনীতিকরণের ফলে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিজস্ব ঠিকানায় বসতে অনীহা প্রকাশ করতেন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা।
আরও পড়ুন: সরকারি সুবিধাবঞ্চিত গেজেটের ১৩৯৯ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার
তাছাড়া নির্বাচন না হওয়ায় বিগত সাড়ে ৭ বছর থেকে অকার্যকর হয়ে পড়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের ক্যাম্পাস মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবন। নির্বাচিত কমিটি না থাকায় উপজেলা সংসদের নেই কোনো কার্যক্রম। প্রশাসনিকসহ যতটুকু কার্যক্রম রয়েছে তাও চলছে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে।
বিয়ানীবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিসে প্রয়োজন ছাড়া না যাওয়ায় অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে কার্যালয়। ফলে এক সময়ের জমজমাট এই সংগঠনটি ক্রমেই অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ নিচ্ছে।
নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধারা না আসায় এবং কোনো কার্যক্রম না থাকায় অনেকটা ভুতুড়ে প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে সংগঠনটি। ভবনের অধিকাংশ রুমের দরজা-জানালা ভাঙা।
সরেজমিনে বুধবার প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেও কার্যালয়ের আশপাশে দেখা মেলেনি একজন মুক্তিযোদ্ধারও। কোনোদিন হাতেগোনা দুই-এক মুক্তিযোদ্ধা এলেও তাদের পরামর্শ দেওয়ারও কেউ নেই।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৩ মে সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু পরবর্তীতে সেই নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এরপর নির্বাচন নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকটি সূত্র বলছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাচাই করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা পুননির্ধাারণ করে জামুকা অধ্যাদেশ তৈরি করা হচ্ছে। অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই বড় পরিসরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু করা হবে দেশজুড়ে। এই কাজে মাঠপর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত করা হবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে।
আরও পড়ুন: ৩৬ মিনিট পর নিয়ন্ত্রণে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের আগুন
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম মুস্তাফা মুন্না বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে সক্রিয় করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই ভবনটি সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের। তাদের জন্য ভবনের দরজা সবসময় খোলা।’
তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এই ভবন ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
৩০৯ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠছেন ‘শেষ ঠিকানা’র কারিগররা
কোনো মুসল্লির মৃত্যু হলে মৃতের গোসল, কাফন, জানাজা, লাশ বহন ও দাফন করা অপর মুসলমানের জন্য অবশ্যক হয়ে যায়। কেউ মারা গেলে যত দ্রুত সম্ভব এই কাজগুলো সম্পাদন করতে হয়।
সিলেটের বিয়ানীবাজারে কারও মৃত্যুর খবর পেলেই তড়িঘড়ি করে খুন্তি-কোদাল, দা, চাকু, স্কেল ও করাতসহ কবর খোঁড়ার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে ছুটে যান ১০-১২ জন তরুণে একটি দল। কবর খোঁড়ার পর মৃত ব্যক্তির পরিবারের কারও কাছ থেকে নেন না কোনোরকম পারিশ্রমিক বা যাতায়াত খরচ।
এলাকার সবার কাছে বিশেষ সম্মানের পাত্র তারা। পরিচিতি পেয়েছেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ হিসেবে। কবর খোঁড়ার নিখুঁত, সুদক্ষ ও সুনিপুণ কারিগর হিসেবে তারা সর্বত্র পরিচিতি পেয়েছেন। এমন আত্মিক কাজে তৃপ্ত হয়ে তারা বিয়ানীবাজার পৌরশহরের কসবা-খাসা গ্রামে গড়ে তুলেছেন ‘শেষ ঠিকানা’ নামের একটি সংগঠন।
বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৫০-এর কাছাকাছি। এক দিনে একাধিক কবর খোঁড়ার প্রয়োজন হলে তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে যান। মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে বাঁশ কাটা, কবর খোঁড়া শেষ করে দাফন পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন তারা।
সংগঠনের ডায়েরিতে লেখা তথ্য অনুযায়ী, তারা এ পর্যন্ত ৪ হাজারের ওপর কবর খুঁড়েছেন। শুধু দুই গ্রামেই নয়, পৌরশহরে কোথাও মৃত্যুর খবর শুনলেও ছুটে যান সংগঠনটির সদস্যরা।
নিজেদের কর্মকাণ্ডের প্রচারের জন্য সংগঠনের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদায় তারা মাইক সেট কিনেছেন। দূর-দূরান্তে যেতে এখন একটি অটোরিকশাও কেনার স্বপ্ন তাদের।
গ্রামবাসী জানায়, শেষ ঠিকানার সদস্যরা এই অঞ্চলের মানুষর হৃদয় জয় করেছেন। তারা দৈনন্দিন কাজ ফেলে মৃত মানুষকে চিরশয্যায় শায়িত করার কাজ করছেন। চাহিদাবিহীন এই সংগঠনের সদস্যদের নীতি-নৈতিকতা এলাকার সবাইকে মুগ্ধ করে।
৩৩৩ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে ৪ ইউপি চেয়ারম্যানকে নোটিশ, বরখাস্তের প্রক্রিয়া
সিলেটের বিয়ানীবাজারের ৪ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
এরা হলেন- সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন জেলার নেতা চারখাইয়ের হোসেন মুরাদ চৌধুরী; উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শেওলার মো. জহুর উদ্দিন এবং সহ-প্রচার সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাথিউরার মো. আমান উদ্দিন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে অসহযোগিতা, ইউপি কার্যালয়ে অনুপস্থিতি, মাসিক উন্নয়ন সভায় গরহাজির, একাধিক মামলায় পলাতক থাকাসহ বিভিন্ন কারণে তাদের বিরুদ্ধে বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে তারা ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্র জানায়, ইউপি চেয়ারম্যানরা মামলায় পলাতক থাকার কারণে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর একাধিক মামলা হলে তারা অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। এ কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকছেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ২
অবশ্য চারখাইয়ের চেয়ারম্যান একটি হত্যা মামলায় কারাবাস শেষে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে বিধি-মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আলোকে উপজেলা প্রশাসন ওই চেয়ারম্যানদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়।
ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী, ইউএনও কারণ দর্শানো ব্যাতিরেকে ইউপি চেয়ারম্যানদের বরখাস্ত করার অধিকার কেউ রাখেন না।
বিয়ানীবাজার ইউএনও গোলাম মুস্তাফা মুন্না জানান, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
৪১৩ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে আ.লীগ নেতা আশরাফুল গ্রেপ্তার
সিলেটের বিয়ানীবাজারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) উপজেলার তিলপারা নামক স্থান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি (তদন্ত) মো. ছবেদ আলি জানান, শুক্রবার রাতে র্যাব- ৯ এর একটি দল বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপারা নামক স্থান থেকে আশরাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে, বিয়ানীবাজার থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এখন তাকে সিআইডিতে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর বিকালে একদল লোক বিয়ানীবাজার থানায় হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়। এই হত্যা মামলা আশরাফুল ইসলাম এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি মামলার বাদি মামলা প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
৪২৭ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে পুকুরে ডুবে যুবকের মৃত্যু
সিলেটের বিয়ানীবাজারে পুকুরে ডুবে মতিউর রহমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের বিবিরাই গ্রামে এক পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মতিউর দেবারাই মেইনবাড়ি গ্রামের মৃত মিছির আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় পোস্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আরও পড়ুন: নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
৪৮২ দিন আগে