ইসলামাবাদ
ইসলামাবাদে মসজিদে বোমা হামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ ৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে প্রদেশের নওশেরা জেলার হাকিমাবাদ এলাকায় অভিযান চালায় দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়। এতে পুলিশের ১ জন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত এবং ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে যুক্ত আফগান মাস্টারমাইন্ডও রয়েছেন।
নওশেরা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ইসলামাবাদে বোমা হামলায় সহায়তাকারীদের সন্ধানে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গোলাগুলিতে পুলিশের ১ জন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হন।
এ বিষয়ে গতকাল (শনিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী বলেন, ‘হামলার পেছনের জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে গতরাতজুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে।’ সন্ত্রাস দমন বিভাগ (সিটিডি) এবং খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরীক্ষামূলক ঘটনা।’ তবে অভিযানে সাফল্যের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন তিনি। ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নকভী বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর নওশেরা এবং পেশোয়ারে অভিযান চালিয়ে হামলায় সহায়তাকারী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন একজন আফগান নাগরিক। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় প্রাদেশিক পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হয়েছেন এবং অন্যরা আহত হয়েছেন। মূল পরিকল্পনাকারী দায়েশের সঙ্গে যুক্ত এবং আমাদের হেফাজতে রয়েছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ ‘দায়েশ আফগানিস্তান’ নামের জঙ্গি গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশেই (ভারত) তা পরিচালিত হয়েছে। আমাদের কাছে লোক আছে যারা আমাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছে। হামলাকারীরা কীভাবে সেখানে গিয়েছিল এবং কীভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, সব জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরে বলে আসছি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), আফগান তালেবান, দায়েশ বা অন্যান্য খারজি সন্ত্রাসী সংগঠ সবাই একসঙ্গে কাজ করছে।
‘জনসাধারণের কাছে আমার দুটি অনুরোধ রয়েছে। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি; সেটা বেলুচিস্তান, খায়বার পাখতুনখোয়া বা অন্য যেখানেই হোক। এই সময়ে জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ তাদের সম্প্রদায়ে বসবাসকারী কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পর্কে জানতে পারবেন, তখনই পুলিশে খবর দিন।’
এই ব্যবস্থা সক্রিয় হলে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
এ সময় পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, গতরাতে আমি একজনের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছি, যেখানে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কোথায় ছিল এবং কেন এ ঘটনাটি ঘটেছে। আমি আপনাকে বলতে পারি, যদি একটি বিস্ফোরণ ঘটে থাকে, তবে আরও অন্তত ৯৯টি বিস্ফোরণ ঘটতে দেয়নি আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
‘আমি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের বলেছি যে তাদের এসব সাফল্যের কথা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া উচিত। এটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মাঝে একটি শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দায়েশ এবং তালেবানের নাম উঠে আসছে, কিন্তু এর পেছনে কেউ রয়েছে, যারা তাদের অর্থায়ন করছে। আগে তারা ৫০০ ডলার পেত, কিন্তু এখন তারা ১৫০০ ডলার পাচ্ছে। তাদের বাজেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি, তাদের সমস্ত অর্থায়ন ভারত থেকে আসে। ভারত তাদের সমস্ত লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে দিচ্ছে; তারা পর্দার আড়ালে প্রতিটি পরিকল্পনা করছে। এই সংগঠনগুলো সামনে রেখে ভারত পেছনে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব আপাতত চুপ থাকতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে একমত হবে। বিনামূল্যে কিছুই ঘটে না এবং এসব হামলার জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন হয়। আমরা এই বিষয়টি জানি এবং এই বিষয়টি সকল আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া আমাদের কর্তব্য।’
এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করবেন বলে জানান, যাতে বিদেশি মিশনগুলো ভারতের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে অন্যান্য দেশগুলোকে অবহিত করতে পারে।
জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি ভারত এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে, তাহলে তাদের ছেড়ে দিন। কিন্তু আমরা এসব হামলা বন্ধ করব; এমনকি যদি তারা তাদের বাজেট দশ গুণ বৃদ্ধি করে, তবুও আমাদের পদক্ষেপে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া দায়েশের কর্মীর পদমর্যাদা সম্পর্কে জানতে চাইলে নকভী বলেন, যথাসময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইসলামাবাদের খাদিজা আল-কুবরা এলাকার ওই মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৬৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যদিও ইসলামাবাদে সচারচার হামলা হয় না, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানজুড়েই জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে ‘বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এবং ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানদের দায়ী করা হয়। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবানদের কোনো শাখা না হলেও তাদের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সখ্যতা রয়েছে। এছাড়া ইসলামিক স্টেটের একটি আঞ্চলিক সহযোগীও পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। পাকিস্তানে বর্তমানে পশ্চিমা মিত্র সরকার দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ন্ত্রণে আানার চেষ্টা করছে।
২০০৮ সালে রাজধানীর ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর ইসলামাবাদে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ওই হামলায় ৬৩ জন নিহত এবং আড়াই শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ ছাড়া গত নভেম্বরেও ইসলামাবাদের একটি আদালত চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন নিহত হয়।
১৩ দিন আগে
ইসলামাবাদে ‘জুলাই বিয়ন্ড বর্ডার’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘জুলাই বিয়ন্ড বর্ডার’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে আয়োজিত ১ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৫ পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান।
এ উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণ ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে সুসজ্জিত করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে নির্মিত পোস্টার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এর পর মিশনের কর্মকর্তারা জুলাই-আগস্ট পুনর্জাগরণে ছাত্র-জনতার ভূমিকার স্মৃতিচারণ করে আলোচনা করেন। বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুথান বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাইকমিশনার। বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গঠনে সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ করেন তিনি।
আলোচনা শেষে ২৪ এর জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
২০৩ দিন আগে
ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিজয় দিবস উদযাপন
যথাযথ মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ-মুখর পরিবেশে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশন মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।
এ উপলক্ষে শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) হাইকমিশন প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করা হয়।
এছাড়া হাইকমিশনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন।
দূতাবাস প্রাঙ্গণ বিজয় দিবসের ব্যানার, পোস্টার ও রঙিন বেলুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
শনিবার সকালে হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে হাইকমিশনার রুহুল আলম সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসে বিজয় দিবস উদযাপিত
পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু হয়।
৫২তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
আলোচনা পর্বে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও এর তাৎপর্য তুলে ধরেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে ড. জয়নুল আবেদীন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের সম্মান বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি গৌরবান্বিত বোধ করেন। পাকিস্তানে কর্মকালীনও তিনি বাংলাদেশি হিসেবে অনুরূপ সম্মান পাচ্ছেন।
সমাপনী বক্তব্যে হাইকমিশনার আলম সিদ্দিকী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির মুক্তির মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের। বিশেষভাবে স্মরণ করছি দুই লাখ মা-বোনদের, যারা মুক্তিযুদ্ধকালে সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন বা নির্যাতিত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিজয় দিবস উদযাপিত
হাইকমিশনার গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধু, শহিদ পরিবারের সদস্য ও সব স্তরের জনগণকে, যারা এ বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন।
হাইকমিশনার বলেন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্যমে তা পূর্ণতা পায়। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এ দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাঙালি জাতি। পৃথিবীর বুকে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের।
হাইকমিশনার আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা, দারিদ্র ও শোষণমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে সারাজীবন উৎসর্গ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বনির্ভর, উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে সকলকে যার যার অবস্থানে থেকে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশনার তার বক্তব্য শেষ করেন।
পরিশেষে, জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন আনন্দ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ এবং অতিথিদের মাঝে দেশীয় খাবার পরিবেশন করা হয়।
আরও পড়ুন: ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত
৭৯৮ দিন আগে
ইমরান খানকে ২ সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি হাইকোর্ট শুক্রবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার থেকে দুই সপ্তাহের জন্য অব্যাহতি দিয়ে জামিন দিয়েছেন।
খানের আইনজীবী বাবর আওয়ান বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার একদিন পর শুক্রবার আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, খান এখন ‘মুক্ত মানুষ’ এবং আদালতের এ রায় ন্যায়সঙ্গত।
খানকে আদালতে উপস্থিত করার পর তাকে ফের পুলিশ হেফাজতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, নাকি তাকে জামিন দেওয়া হবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
আদালতের এই রায়ের পর কয়েকদিন ধরে সরকার এবং খান সমর্থকদের মধ্যে চলা সহিংস সংঘর্ষ প্রশমিত হয়।
৭০ বছর বয়সী খান দেশটির একজন জনপ্রিয় বিরোধী নেতা, গত মঙ্গলবার একই আদালতে তিনি হাজির হন; যেখান থেকে তাকে টেনে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তাকে গ্রেপ্তারের ফলে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হয় এবং তার সমর্থকরা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স পুড়িয়ে দেয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর লুট করে। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার প্রায় তিন হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবারের আদালতের অধিবেশন জটিল আইনি কৌশলের একটি সিরিজের অংশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন, খানের গ্রেপ্তার বেআইনি ছিল, কিন্তু তারপরেও ইসলামাবাদ হাইকোর্ট একটি নিম্ন আদালতকে গ্রেপ্তার বহাল রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, শুক্রবার ইসলামাবাদের আদালত যা রায় দেবে তা তারা মেনে নেবেন।
সরকার বলেছে, ইসলামাবাদ হাইকোর্ট তার আগের আদেশ বহাল রাখলে তারা ফের দ্রুত খানকে গ্রেপ্তার করবে।
শুক্রবার ইসলামাবাদ আদালতের একটি প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে, বিচারকরা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা চেয়ে খানের একটি অনুরোধের শুনানি করেন। আদালত কক্ষে খানের সমর্থকরা স্লোগান দেওয়ায় বিচারক অধিবেশন দুই ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, খানকে দুর্নীতির মামলায় জামিন দেওয়া হলেও অন্যান্য অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেন তিনি।
সরকারের দাবি, খানের মুক্তি জনতার সহিংসতাকে উৎসাহিত করবে।
শুক্রবার আদালতে খানের প্রধান আইনজীবী বাবর আওয়ান সাংবাদিকদের বলেন, সরকার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করতে অনড় বলে মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে ইমরান খান
১০১৬ দিন আগে
ইসলামাবাদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ বছর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস দুই পর্বে উদযাপন করা হয়েছে।
উদযাপনের দ্বিতীয় পর্বে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হ্ইাকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী ও তার সহধর্মিনী মিসেস শামসাদ আরা খানম ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয় অভিজাত হোটেল মেরিয়টে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও নৈশ্যভোজের আয়োজন করেন।
সংবর্ধনায় পাকিস্তানের রাজ্য ও সীমান্ত অঞ্চল বিষয়ক এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব ধর্ম ও ইন্টারফেইথ হারমনি বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মদ তালহা মাহমুদ পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক, মাদক নিয়ন্ত্রন এবং পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রীগণ, পাকিস্তানের অডিটর ও কম্পট্রোলার জেনারেল (কেবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদার), ৩০ জনের অধিক সিনেটর ও জাতীয় সংসদের সদস্য, প্রাদেশিক এসেম্বলীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, পাকিস্তান সরকারের বেসামরিক ও সামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, প্রবাসী বাংলাদেশি সমন্বয়ে সাড়ে পাঁচ শতাধিক অতিথি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থলে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপন করা হয়। সংবর্ধনা হলটি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কৃষ্টি তুলে ধরে ব্যানার ও স্ট্যান্ডিজ দিয়ে সাজানো হয়।
আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘রূপকল্প ২০২১’ অর্জন ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মানে ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও উদ্যোগ বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
অতিথিরা বঙ্গবন্ধু কর্নারে স্থাপিত বই ও প্রকাশনা, সায়য়িকীসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সমৃদ্ধ ব্যানার, স্ট্যান্ডিজ ইত্যাদি অত্যন্ত আগ্রহসহকারে দেখেন।
হাইকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী তার স্বাগত বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
হাইকমিশনার বলেন, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের সরকারি সম্পদ, কৃষি, বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। উপরন্তু মানুষের মৃত্যু, ব্যক্তিগত ঘর-বাড়ি ধ্বংস এবং মানসিক আঘাতের কারণে ক্ষতির পরিমাণ ছিল অপরিমেয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় শূন্য থেকে নয় বরং ঋণাত্বক অবস্থান থেকে।
তিনি তার বক্তব্যে বিগত ৫০ বছরে বিশেষ করে স্বাধীনতা পরবর্তী সাড়ে তিন বছর এবং বর্তমান সরকারের অধীনে উনিশ বছরের বেশী সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
হাইকমিশনার বলেন, বিশাল প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে যুদ্ধ বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন এবং বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বঞ্চনাহীন দেশ হিসেবে পরিণত করার কাজ শুরু করেন। দুর্ভাগ্যবশত ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে।
হাইকমিশনার আরও বলেন, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ৫ বছরের জন্য দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা পুনরায় শুরু করেন। তিনি ২০০৯ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হয় এবং বর্তমানে চতুর্থ মেয়াদে দয়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন: কানাডার সংসদে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিল পাশ
তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে মানুষের মাথাপিছু আয় ২৮২৪ মার্কিন ডলার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন এবং মানুষের গড়আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছরসহ বাংলাদেশ এখন একটি জ্ঞানভিত্তিক মধ্যম আয়ের দেশ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশে পরিনত হয়েছে। গত ১৪ বছরে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশ। করোনা মহামারী চলাকলীন গত অর্থবছরে সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দমমিক ৯৪ শতাংশ। বাংলাদেশ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, শতবাগ বাড়ি বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, তথ্য প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ কারণে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত।
এমুহুর্তে যখন বিশ্ব অর্থনীতি নিম্নমুখী, তখন বাংলাদেশ ‘ভিশন-২০৪১’ এর মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি উচ্চ আয়ের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মদ তালহা মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, একইরূপ বিশ্বাস ও সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে দুদেশের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে হাইকমিশনার, ফেডারেল মন্ত্রীগণ, বিশেষ অতিথিগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন, সার্কভূক্ত দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলাদেশি খাবারসহ নানরকম সুস্বাদু খাবার দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়।
১০১৭ দিন আগে
ইসলামাবাদের আদালত থেকে ইমরান খান গ্রেপ্তার
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের আদালত থেকে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দল তেহরিক ই ইনসাফের কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের আদালতে একাধিক দুর্নীতি মামলার অভিযোগে আদালতে হাজির হওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সরকারবিরোধী সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গুলিবিদ্ধ
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, ৭২ বছর বয়সী খানকে মঙ্গলবার আদালতের প্রাঙ্গণে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরোর এজেন্ট গ্রেপ্তার করেছে।
গত বছরের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন খান। তিনি তার ক্ষমতাচ্যুতকে অবৈধ এবং পশ্চিমা ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
আগাম নির্বাচনের দাবিতে তার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছেন।
আরও পড়ুন: দুবাইয়ের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খানের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ভারতের মণিপুরে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৬০, কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত
১০১৯ দিন আগে
ইমরান খানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান সরকার
পাকিস্তানের বর্তমান সরকার দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার ইসলামাবাদের একটি আদালত গত সপ্তাহে বিচারক জেবা চৌধুরীকে ইমরান খানের দেয়া মৌখিক হুমকির বিষয়ে অবমাননার মামলা করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
চৌধুরীকে অপমান করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে রাজনীতি থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কয়েক মাস থেকে ১৪ বছরের জেল হতে পারে, যা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সমতুল্য।
শনিবার আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি তাকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেন। ইমরান খান পুলিশ কর্মকর্তাদের ও দেশটির নারী বিচারক জেবা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে চলতি মাসের শুরুতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহবাজ গিলকে প্রথমবার গ্রেপ্তারের পর শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
সমাবেশে তার দেয়া বক্তব্যের জেরে দেশটির কর্তৃপক্ষ খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ দায়ের করে।
এদিকে, পুলিশ আবারও শাহবাজ গিলের ইসলামাবাদের অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে দেশটিতে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।
২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা ইমরান খান গত এপ্রিল মাসে সংসদে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন।
দেশটির বেসরকারি টিভি চ্যানেল এআরওয়াই টিভিতে একটি শো চলাকালীন তার সাম্প্রতিক সেনা বিরোধী মন্তব্যের জন্য গিলকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে খান অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চক্রান্ত করেছিল।
তবে ওয়াশিংটন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এবং খানের পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া শাহবাজ শরিফের সরকার; সবাই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এছাড়া তার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই খান আগাম নির্বাচনের দাবিও করেছেন এবং ‘জনগণের চাপের’ মাধ্যমে শাহবাজ শরীফের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সর্বশেষ গত শনিবারের সমাবেশে খান ওই নারী বিচারপতির সমালোচনা করে বলেন ‘আপনিও এর জন্য প্রস্তুত হন, আমরাও আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আপনাদের সকলের অবশ্যই লজ্জিত হতে হবে।
আরও পড়ুন:পাকিস্তানে জ্বালানিবাহী ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ২০
খানের হুমকির কারণে শরীফের সরকার তার ওপর অসন্তুষ্ট হয় এবং বিচারককে অপমান করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন।
খান মঙ্গলবার আদালতের শুনানিতে যোগ দেবেন নাকি তার আইনজীবী পাঠাবেন তা স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান একজন আইনজীবী আহসান ভুন বলেন, ‘কাউকেই বিচারকের অবমাননা বা বিচার বিভাগের সুনাম নষ্ট করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন:‘ঝাড়ুর লাঠি’তে পতাকা: পাকিস্তানি ‘হাবিব ব্যাংকে’র বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ
‘বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষা নিতে পারে পাকিস্তানের নেতৃত্ব’
১২৭৮ দিন আগে
পাকিস্তানে তুষারপাত: গাড়িতে আটকা পড়ে ২২ জনের মৃত্যু
পাকিস্তানের পার্বত্য শহর মুররিতে ভারী তুষারপাতের ফলে তাপমাত্রা এক ধাক্কায় মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১৭ দশমিক ৬ ফারেনহাইট) নেমে যাওয়ায়, গাড়ির মধ্যে আটকা পড়ে কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইসলামাবাদের একজন পুলিশ কর্মকর্তা আতিক আহমেদ বলেছেন, নিহত ২২ জনের মধ্যে আটজন তার সহকর্মী পুলিশ অফিসার নাভিদ ইকবালের পরিবারের সদস্য, এর মধ্যে নাভিদ নিজেও আছেন।
উদ্ধারকারী দলের চিকিৎসক আবদুর রহমান জানান, আটকে পড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জন; যার মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ১০ জন শিশু এবং দুইজন নারী রয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ বলেছেন, হাজার হাজার যানবাহন তুষার থেকে সরানো হয়েছে কিন্তু তারপরও শনিবারও ওই এলাকায় এক হাজারেরও বেশি যানবাহন আটকে আছে।
রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ২৮ মাইল (৪৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার) উত্তরে অবস্থিত মুররি একটি জনপ্রিয় শীতকালীন পর্যটন স্থান। বছরে এই শহরে দশ লাখেরও বেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন।
আরও পড়ুন: কাশ্মিরে পাকিস্তানের সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, দুই পাইলট নিহত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ বলেছেন, ওই এলাকায় রাতে চার ফুটের (১ দশমিক ২ মিটার) বেশি তুষারপাত হয়েছে। শনিবার সেখানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আধাসামরিক বাহিনী এবং একটি বিশেষ সামরিক পর্বত ইউনিটকে সাহায্য করার জন্য ডাকা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসক উমর মকবুল বলেন, প্রবল তুষারপাতের কারণে রাতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয় এবং তুষার পরিষ্কারের জন্য আনা ভারী যন্ত্রপাতিও প্রাথমিকভাবে আটকে যায়।
কর্মকর্তারা তাদের বরফের মধ্যে থাকা যানবাহনে যারা মারা গেছেন তাদের সম্পর্কে আর কোনো বিবরণ দেননি। তবে বলেছেন যে তারা পুনরুদ্ধার এবং উদ্ধার অভিযান উভয়েই কাজ করছেন।
মকবুল বলেন, রাতে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে খাবার ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০
পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী কাদির খান আর নেই
১৫০৫ দিন আগে
অব্যবহৃত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ঢাকার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী ইসলামাবাদ
বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি বলেছেন যে তার দেশ সম্পর্ক উন্নয়ন ও অব্যবহৃত সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের সাথে পুরোনো সব যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। যাতে করে বাংলাদেশের উন্নয়ন থেকে পাক্স্তিানও লাভবান হতে পারে।
১৮৩৫ দিন আগে
পাকিস্তানে বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপিত
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন বুধবার যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে ৫০তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।
১৮৯৩ দিন আগে