ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বাধার মুখে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারলেন না রুমিন ফারহানা, মহাসড়ক অবরোধ
বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা ছিঁড়ে ফেলেছেন রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহিদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উপলক্ষে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে রাত পৌনে ১২টার দিকে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। এ সময় পুষ্পস্তবক নিয়ে শহিদ বেদির সামনে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তখন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রুমিনের উদ্দেশে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুমিনের আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহিদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনার পর ঢাকা সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রথমে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যাই। সে সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তাই যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে তাদের বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর হবে তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
এ বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, শহিদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিও ফুটেজ অ্যানালাইসিস করে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৬ ঘণ্টা আগে
নবীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ইমন (২২) নামে এক যুবককে গুলি করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নবীনগর উপজেলার বরিকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাদ্যকর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ইমন একই এলাকার জসিম মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, বরিকান্দি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় ইমন ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হঠাৎ তাকে ঘিরে ফেলেন এবং খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে তার শরীরে পরপর ৩ রাউন্ড গুলি করে। এতে ইমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এ সময় বাজার ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরে তিনটি গুলি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তার পরিবার জানায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৪ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনকালে পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দায়িত্ব পালনকালে মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক পোলিং কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে সরাইল সদরের জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে দায়িত্ব পালনের সময় তার মৃত্যু হয়।
মুজাহিদুল সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ইসলামি ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক ছিলেন।
সরাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোট গ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পরই মুজাহিদুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৯ দিন আগে
আচরণবিধি লঙ্ঘন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীকে জরিমানা
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান ও জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী আমিনুল ইসলামকে জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম কায়সার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের জরিমানা করেন। দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই নির্বাচনি প্রচারণাকালে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এ জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কায়সার জানান, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনি জনসভাকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি ভঙ্গ করে তোরণ নির্মাণ করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী রঙিন ব্যানার এবং বিএনপি প্রার্থী রঙিন ফেস্টুন ব্যবহার করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী তার প্রতীক নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে বড় প্রদর্শন করেছেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ৩০ হাজার এবং বিএনপির প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন এবং তোরণ অপসারণ করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারামুক্ত আসামির ঠিকানা ব্যবহার করে পালিয়েছে হত্যা মামলার আসামি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে যাওয়া এক আসামির নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে কৌশলে পালিয়ে গেছেন হৃদয় (২৮) নামে হত্যা মামলার আরেক আসামি।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়।
হৃদয় জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি দুই সদস্য হলেন চাঁদপুরের জেলার এবং ফেনীর জেল সুপার ।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, কসবা থানার একটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানামূলে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জেলা কারাগারে যান হৃদয়। পরবর্তীতে গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে জামিনে কারামুক্ত নবীনগর থানার একটি মামলার আসামি দিদার হোসেনের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে জামিনপ্রাপ্ত অন্য বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার সময় কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কারাগারের ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো.ছগির মিয়া বলেন, অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে হৃদয় নামের এক আসামি কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
২০ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন তারেক রহমান, গণজোয়ারের প্রস্তুতি জেলা বিএনপির
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফর শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ায় আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
এ উপলক্ষে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জনসভা ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত জনসমাগম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
তিনি বলেন, সিলেটে মাজার জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে সরাইলে তারেক রহমানের এই জনসভা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে। তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
খালেদ হোসেন বলেন, জনসভা সফল করতে জেলা বিএনপি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মঞ্চ নির্মাণ, আধুনিক শব্দব্যবস্থা স্থাপন, শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সহ-সভাপতি এ বি এম মমিনুল হক, জেষ্ঠ্য যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম চপলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
জেলা বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করবে।
৩৩ দিন আগে
রুমিন ফারহানাকে শোকজ, সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে স্বশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখা দিতে বলা হয় তাকে।
এর আগে, রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়েছে। সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই অভিযোগ আনা হয়।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে গত শনিবার এ চিঠি পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
রিটানিং কর্মকর্তা কারণ দর্শানোর নোটিশে লেখেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন চারশো থেকে পাঁচশো লোকের উপস্থিতিতে জনসভায় বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনসভা বন্ধ করতে বললে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বিভিন্নরকম হুমকি প্রদান করেন তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবার সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে জনসমাবেশে অংশ নেন রুমিন ফারহানা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনি প্রচারণায় প্রশাসনের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন। তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ যারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এইরকম (বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচু করে) দেখায় আপনাদের। প্রশাসনে বসে আছেন, আপনারা খোঁজ নিন। সব জায়গায় সভা হচ্ছে। আপনি পারলে থামাতেন। আজকে আমি ভদ্রতা দেখিয়ে থামিয়েছি। নেক্স টাইম (পরবর্তী সময়ে) এই ভদ্রতাটা করব না।’
৩৩ দিন আগে
মন্ত্রীত্ব কেন, সমগ্র দুনিয়া দিলেও জনগণকে ছেড়ে যাব না: রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সহ-আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রীত্ব তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার কোনো কিছুর জন্য আমার এই মানুষদের ছাইড়া যামু না।’
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের ইসলামাবাদ পাবলিক স্কুল মাঠে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক নেতাকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন রুমিন ফারহানা। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং নিষেধ সত্ত্বেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
এ বিষয়ে উঠান বৈঠকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে শুধু একটা কষ্টের কথা বলি। আমার প্রাণের দল, যে দলের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা, সেই দলটি হচ্ছে বিএনপি। আমার নেতা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আমাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার ভালোবাসার আশ্রয়ে ও সহযোগিতায় আমি এতদূর এসেছি।’
খালেদা জিয়াকে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘আমার মা যেদিন মারা গেছেন, সেইদিন আমি বহিষ্কার হয়েছি। আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে বহিষ্কার করা যায় নাই। মা, দেশনেত্রী হাসপাতালে যাওয়ার তিন দিন আগে ২০ নভেম্বর বলেছিলেন, রুমিন আর সোহেলের খবরটা কী? কেন রুমিনকে নমিনেশন (মনোনয়ন) দেওয়া হইল না? দল তার কোনো জবাব দিতে পারেনি।’
রুমিন বলেন, ‘আমার দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। এখন আমাকে সকাল-বিকাল টেলিফোন করে বলে— মন্ত্রীত্ব দিয়ে দেব, আসনটা ছেড়ে দেন। আমার জান থাকতে, আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রীত্ব তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার কোনোকিছুর জন্য আমার এই মানুষদের ছাইড়া যামু না।’
তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা আমাকে মালা দিয়ে বরণ করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আল্লাহ যেন আমার ভাগ্যে এই মালা লিখে রাখেন।’
এই নেত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমি কী করেছি? কার পক্ষে ছিলাম? কাদের জন্য লড়াই করেছি?—তা আপনারা সবাই জানেন। এখন হলো মিডিয়ার যুগ। সবার হাতে হাতে মোবাইল-টেলিফোন। সবই দেখা যায়— কে রাস্তায় লড়াই করেছে? কে পুলিশের বাধার মুখে গিয়েও রাস্তায় বসে পড়েছে? আওয়ামী লীগ কাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পরও আবার সেখানে গিয়ে মিটিং করেছে? সংসদে দাঁড়িয়ে কে বলছে, এই সংসদ অবৈধ? এসব সকলেরই জানা।’
এদিন রুমিন ফারহানা আসার খবরে বিকাল ৩টার পর থেকে স্কুল মাঠে মানুষের ঢল নামে। উপস্থিতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয়দের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
গ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে পারব। উপরে আল্লাহ আর নিচে আপনারাই আমার ভরসার জায়গা।’
৩৪ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোটরসাইকেলে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাইমন (২০) এবং একই গ্রামের মাকরুল মোল্লার ছেলে আব্দুর রহমান (২৩)।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল আলম চৌধুরী জানান, মোটরসাইকেলটির আরোহী ২ জন রাতে ওই মহাসড়কের সরাইলের বিশ্বরোড থেকে আশুগঞ্জ আসার পথে সোনারামপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলে দুইজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবাররের লোকজন তাদের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতাল এসে তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি।
৩৭ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নদীতে ডুবে তানিশা মনি (৫) ও তাবাসসুম (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধায় উপজলার গোয়লনগর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তানিশা মনি কদমতলী গ্রামের জুনায়েদ মিয়ার এবং তাবাসসুম একই গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশু নিহত
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় কদমতলী গ্রামের নদীতে এখন থৈ থৈ পানি। শনিবার বিকেলে দুই শিশু বাড়ির পাশে খেলা করছিল। পরিবারের অজান্তেই তারা বাড়ির পাশে নদীর পানিতে পড়ে যায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও দুজনকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে বাড়ির পাশে নদীতে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরীন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
১৯৫ দিন আগে