সংসদ সদস্য
সচিবালয় থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে ৫০ গাড়ির বহর
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের ৫০টি গাড়ি যাচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫ মিনিট থেকে গাড়িগুলো সচিবালয় ছাড়তে শুরু করে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়িগুলো শপথের পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তাদের বাড়িতে যাবে। প্রতিটি গাড়ির সঙ্গে একজন লিঁয়াজো অফিসার রয়েছেন। গাড়িগুলোর মধ্যে ৩৩টি টয়োটা ক্যামরি এবং ১৭টি মিৎসুবিশি ল্যান্সার।
শপথ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেলা ১২টার পর থেকে একাধিক মাইক্রোবাসে সচিবালয় ছেড়ে সংসদ ভবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার থেকে গাড়িগুলো পরিবহন পুল থেকে সচিবালয়ে আসতে শুরু করে। পরিবহন পুলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ৬৮টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছিলেন। এর মধ্যে ৪৫টি গাড়ি প্রথমে সচিবালয়ে এনে রাখা হয়। এরপর আরও কয়েকটি গাড়ি আসে।
৪ দিন আগে
শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট নেবেন না বিএনপির সংসদ সদস্যরা
শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের সংসদীয় দলের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মূহুর্ত যে দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন, গণতন্ত্রকে ধবংস করে দেওয়া, সংসদকে অকার্য্কর করা এই পর্বের পরে জনগণের অনেক রক্তের বিনিময়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি সংসদ পেয়েছি। এই সংসদের মধ্য দিয়ে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে আমরা আমাদের তরুণ নেতা জনাব তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছি। আমরা আশাবাদী তার (তারেক রহমান) নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের প্রথম এই সংসদীয় দলের সভাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বিএনপির সংসদ সদস্য তারা ডিউটি ফ্রি কোনো গাড়ি নেবেন না এবং কোনো প্লটও নেওয়া হবে না সরকারের কাছ থেকে। এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।’
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য ৪৫টি গাড়ি সচিবালয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ শেষে এসব গাড়িতেই তারা বাসায় ফিরবেন।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান সিইসি। এরপর তারা সেখান থেকে জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় কক্ষে যান। সেখানে সর্বসম্মতি ক্রমে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
শপথ নিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (ইউএনবি)— ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ সোমবার। এদিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তারা শপথ গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। কিছুক্ষণ পর জামায়াতে ইসলামী ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্য দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
এদিন সকাল সাড়ে দশটার কিছু সময় পরে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
শপথ গ্রহণ শেষে শপথপত্রের নির্ধারিত স্থানে নিজ নির্বাচনি এলাকা উল্লেখ করে তারিখসহ স্বাক্ষর করেন সংসদ সদস্যরা।
একই দিন বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও একই সময়ে শপথ পড়ানো হবে।
সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে এই আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
নতুন সরকারে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও কেনাইনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হচ্ছে নতুন সরকারের শপথ। আজ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি অতিথি।
এদিকে, শপথ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেকরোডে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল সোমবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে যানচলাচলের ডাইভারশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
শপথগ্রহণের পর সংসদীয় দলের সভা ডেকেছে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর সংসদীয় দলের সভা ডেকেছে নির্বাচনে বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে এই সভা হবে।
তিনি জানান, ‘সংসদীয় দলের এই সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন ইনশাল্লাহ।’
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একইদিন সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছে। বাকি আসনগুলোতে জয়লাভ করেছে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
৫ দিন আগে
প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি পেল সিলেট
সিলেট জেলা প্রথমবারের মতো নির্বাচিত নারী এমপি পেয়েছে। নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য হলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বিজয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে।
জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের ফলাফল ঘেটে পাওয়া গেছে এ তথ্য।
এর আগে, লুনার স্বামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলী সিলেট-২ আসনে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ৭৯ হাজার ২৫১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে স্বামীর পর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী লুনা। তিনি সিলেট-২ আসনের প্রথম মহিলা সংসদ সদস্য। এছাড়া তিনি সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে এই প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি হয়েছেন।
সিলেট-২ আসনের ১২৮টি (বিশ্বনাথ উপজেলার ৭৪টি ও ওসমানীনগর উপজেলার ৫৪টি) ভোট কেন্দ্রের বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট। তাদের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ৭৯ হাজার ২৫১ ভোট।
এছাড়া সিলেট-২ আসনের অপর ৩ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৪০৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আমির উদ্দিন পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৯ ভোট ও গণফোরাম মনোনীত উদিয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুল হক পেয়েছেন ৬৩২ ভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবি উপজেলার ৭৪টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। অপরদিকে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন।
৬ দিন আগে
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ মঙ্গলবার বিকেলে, এমপিদের সকালে
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বঙ্গভবনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, একইদিন (মঙ্গলবার) সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন হয়। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তারপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, আমাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদে। তখন রাষ্ট্রপতিকে তিনি সরকারপ্রধান করার অনুরোধ করবেন। রাষ্ট্রপতি দলনেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন।
রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
৬ দিন আগে
গণভোট ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে গণভোটের ফলাফলের গেজেটও প্রকাশ করা হয়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট দুটি ইস্যু করেন।
গেজেটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের পাশাপাশি তাদের পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।
গতকাল (শুক্রবার) ইসি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রাখে।
নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া যে দুইটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও ৪) ফলাফল স্থগিত আছে, সেখানেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির জোটসঙ্গীদের মধ্যে বিজেপি (আন্দালিব রহমান পার্থ), গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জিতেছে ৬৮টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের অন্য শরিকরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে, যার মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন পেয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের পৃথক গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ভোটার সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। অপরদিকে, ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। গণভোটে বাতিল হওয়া ব্যালটের সংখ্যাও ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকারের অনুপস্থিতি বা পদত্যাগের কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অথবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি এই শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধানের ১৪৮ (২) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে না পারেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই শপথ পাঠ করাবেন।
৭ দিন আগে
সংসদ সদস্যরা কী কী সুবিধা পান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
এই সময়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে—সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী কী সুবিধা পান।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য শুধু একটি নির্ধারিত মাসিক বেতনই নন, বরং বিভিন্ন ধরনের ভাতা, আর্থিক সহায়তা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা ভোগ করেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলোতে।
প্রথমেই রয়েছে মাসিক বেতন ও নিয়মিত ভাতা। একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে মাসে ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন বাবদ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই পরিবহন ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া অফিস পরিচালনার খরচ হিসেবে মাসিক ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ বেতনের বাইরে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খরচের জন্য আলাদা ভাতা নির্ধারিত আছে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট ও করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। দায়িত্বকাল পাঁচ বছর পূর্ণ হলে একই সুবিধায় আবারও নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধাও রয়েছে। বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে।
দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ভাতা ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা প্রাপ্য হয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সুবিধা রয়েছে। সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। এছাড়া মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।
দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা প্রযোজ্য। পাশাপাশি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
সবশেষে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সংসদ সদস্যরা যে ভাতাগুলো পান, সেগুলো আয়করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, সংসদ সদস্যদের বেতন ছাড়াও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।
৭ দিন আগে
বেকারদের ভাতা দিলে বেকারত্ব বাড়বে, আমরা কর্মসংস্থান করব: ডা. শফিকুর
বেকারদের বেকারভাতা দিলে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা দল সরকারে আসার আগে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ার কথা বলছে। বলছে কৃষক কার্ড দেবে, দেবে বেকারভাতা। ওই সব ধোঁকা আর বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। বেকারদের বেকারভাতা দিলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।’
তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, আমরা এই যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করব, ৫শ’ বেড হাসপাতাল, ভবদহ সমস্যার সমাধান করা হবে। যশোরবাসীর এসব ন্যায্য অধিকার।’
পরে তিনি যশোরের বিভিন্ন আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
২৫ দিন আগে
ব্যারিস্টার সুমন গ্রেপ্তার
সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সোমবার গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।
সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের সময় অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর থানায় এখনও আসামি রাখার যথাযথ ব্যবস্থা করা যায়নি। তাই সুমনকে পল্লবী থানায় নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাবেক মন্ত্রী ইমরান গ্রেপ্তার
বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের আগে ব্যারিস্টার সুমন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বলেন, 'আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। আদালতে দেখা হবে। আমার জন্য দোয়া করবেন সবাই।’
গত ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন সুমন।
আরও পড়ুন: সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার গ্রেপ্তার
৪৮৭ দিন আগে