ঝিনাইদহ-১
সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আসাদুজ্জামান
রাজনীতিতে যেখানে বিজয়ের পর প্রার্থীদের মাঝে দেখা যায় দূরত্ব, বিরূপতা ও প্রতিহিংসার ছায়া, সেখানে ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের ভোটাররা। জয়-পরাজয়ের বিভাজনরেখা সরিয়ে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুসারে, ঝিনাইদহ-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। এতে ১ লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আসাদ।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোট গণনা শেষে রাতেই জানা যায় আসাদুজ্জামানের জয়ের খবর। এরপর আজ (শুক্রবার) সকাল হতেই ফুলের মালা হাতে তিনি ছোটেন মতিউর রহমানের বাড়িতে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে তাদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ।
কুশল বিনিময়ের পর আসাদুজ্জামান নিজের বিজয়মাল্য পরিয়ে দেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গলায়। মুহূর্তটি উপস্থিত দুপক্ষের নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের কাছে প্রতীকী বলে মনে হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় সম্পর্কের অটুট বন্ধন।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা অতীতে জয়-পরাজয়ের পর উত্তেজনা, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বহুবার দেখেছেন। কিন্তু এবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বিষয়টি শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ সময় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান তার সমর্থক ও গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, “ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন যেন অটুট থাকে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাব।’
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করবে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার এই বার্তা শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের জন্যে তাৎপর্যপূর্ণ।
ভোটের ফলাফল সংখ্যায় মাপা যায়, কিন্তু আন্তরিকতার এই দৃশ্য মনে রাখবে ঝিনাইদহ-১ আসনের আপামর মানুষ। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের স্থান রয়েছে, নাদপাড়া গ্রামের একটি উঠানে তারই নীরব সাক্ষী হয়ে রইল একটি ফুলের মালা।
৮ দিন আগে
ঝিনাইদহ-১ আসনে বেসরকারি ফলে নির্বাচিত বিএনপির আসাদুজ্জামান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বেসরকারি এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী, নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার বিপরীতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৫৭৭।
একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৯৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ২৭৫ জন।
৯ দিন আগে
ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে বাধা নেই
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।
এর ফলে আগামী ৫ জুন এই আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণে আর কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আরও পড়ুন: দেশব্যাপী অবরোধের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন চলছে
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এক প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী এম. সাঈদ আহমেদ রাজা, আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ (এসকে) মোরশেদ ও আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি।
অন্যপক্ষে ছিলেন- আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম।
গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে এ আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নজরুল ইসলামের এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৬ মে হাইকোর্ট উপনির্বাচন স্থগিত করে আদেশ দেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাইকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু ওই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ঘোষিত ফলাফল বাতিল করতে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম দুলাল বিশ্বাসকে বিজয়ী ঘোষণার দাবিতে করা ইলেকশন পিটিশন হাইকোর্টে বিচারাধীন।
বিচারাধীন ইলেকশন পিটিশন নিষ্পত্তির আগেই উপ-নির্বাচন হয়ে গেলে পিটিশনটি অকার্যকর হয়ে যাবে। সেজন্য উপ-নির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানায়। হাইকোর্ট ২১ দিনের জন্য এই উপ-নির্বাচনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। একইসঙ্গে আগামী রবিবার থেকে ইলেকশন পিটিশনের উপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিত
পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওই আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. নায়েব আলী জোয়াদ্দার। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত বুধবার আদেশ দেন।
ভোটে কারচুপির অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাস দুলালের পক্ষে হাইকোর্টে করা ইলেকশন পিটিশনে বলা হয়, ভোট গ্রহণ শেষে ৭ জানুয়ারি বিকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঝিনাইদহ-১ আসনে ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হয়।
কাস্টিং ভোটের ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলামের সই করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ ছিল।
কিন্তু ওই আসনের চূড়ান্ত ফলে ৯ শতাংশ ভোট বেড়ে যায়। ওই আসনে ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ কারণে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭৮ ভোট কাস্টিং দেখানো হয়, যা প্রথম প্রতিবেদনের চেয়ে বেশি ২৮ হাজার ৩৮৯ ভোট। এসব ভোট নৌকা প্রতীকে কাস্টিং দেখানো হয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়।
এরপর ৮ জানুয়ারি ভোটের ফলের গেজেট স্থগিত রাখতে এবং ১০ জানুয়ারি জারিকৃত গেজেট বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী এসব ঘটনা তুলে ধরে হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল বিশ্বাস।
পরে ওই পিটিশনের শুনানি নিয়ে গত এক ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই মাসের জন্য আব্দুল হাইকে বিজয়ী ঘোষণার গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
একইসঙ্গে এই নির্বাচনে কারচুপি করে ফল ঘোষণার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্বাচন কমিশন, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, ইউএনওসহ ১৭ বিবাদীর প্রতি নোটিশ জারি করেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত।
এদিকে ইলেকশন পিটিশন নিষ্পত্তির আগেই আব্দুল হাই মারা যান। ফলে ওই আসনে উপ-নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসি।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন ও কুমিল্লা সিটি উপনির্বাচন ৯ মার্চ: ইসি
৬৫৪ দিন আগে
ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিত
ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন ২১ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৫ জুন এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করার কথা ছিল।
জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করে এ আদেশ দেন।
গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থী আবদুল হাই জয়ী হন। এরপর গত ১৬ মার্চ আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।
আরও পড়ুন: ইচ্ছেমতো ওষুধের দাম বাড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
পরে আগামী ৫ জুন এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।
৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর জারি করা গেজেট বাতিল চেয়ে একটি নির্বাচনি রিট হাইকোর্টে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে এ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল স্থগিত করে আগামী রবিবার (১২ মে) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ওই আসনের গেজেটের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে নির্বাচনি আবেদন করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।
গত ১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান গেজেট প্রকাশের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন।
দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আবদুল হাই ইন্তেকাল করেন।
আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ইলেকশন পিটিশন নিষ্পত্তির আগেই উপনির্বাচন হলে পিটিশনটি অকার্যকর হয়ে যাবে। সেজন্য উপনির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানাই। হাইকোর্ট ২১ দিনের জন্য এই উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। একইসঙ্গে আগামী রবিবার থেকে নির্বাচনি পিটিশনের উপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি ঝিনাইদহ-১ আসনে প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোট পড়ে। কিন্তু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ভোট পড়েছে ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা প্রথম প্রতিবেদনের চেয়ে ২৮ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ৮ জানুয়ারি ও ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত ভোটের ফল ও গেজেট প্রকাশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রংপুরে শ্রম আদালতের মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
৬৫৬ দিন আগে