মব জাস্টিস
মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতেই হবে: মির্জা ফখরুল
নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটুকু খারাপ ছিল, সেটাকে উন্নত করার চেষ্টা করতেই হবে।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সবকিছু মিলিয়ে আপনার এই সময়ের চ্যালেঞ্জ, সরকারের চ্যালেঞ্জটা কী—প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে, টু বিল্ড দ্য নেশন (দেশকে গড়ে তোলা)। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি আমাদের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার প্রথম কথাটি ছিল— বাংলাদেশের জন্য, আই হ্যাভ এ প্ল্যান (আমার একটা পরিকল্পনা আছে)। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে।’
তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) হচ্ছে আমাদের প্রধান ইনগ্রেডিয়েন্ট (উপাদান), যাকে নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। আমরা সেই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়; এটার পুরোপুরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, একেবারে গ্রাসরুট (তৃণমূল) মানুষের সঙ্গে।
‘আমার একটা অ্যাডভান্টেজ (সুবিধা) আছে, আমি কিন্তু একসময় নিজে লোকাল গভর্নমেন্টে (স্থানীয় সরকার) ছিলাম। তাই আমরা এই জিনিসগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখি। আমি বিশ্বাস করি যে, আপনাদের এই মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত ডাইনামিক (গতিময়) একটা মন্ত্রণালয়ে পরিণত করতে পারব। মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।’
দেশের ‘আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর’ দাবি করে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না না, অতটা খারাপ না। আপনারা যতটা খারাপভাবে দেখছেন, অতটা খারাপ না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ইমপ্রুভ (উন্নতি) হয়েছে। অর্থনীতি—ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি (ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা)—এটা অনেক ফিরে এসেছে। ব্যাংক তো অনেকটা কন্ট্রোলে (নিয়ন্ত্রণে) এসেছে। এগুলো তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা মনে করি, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটাকে আরও ভালো করতে পারব।’
গেল দেড় বছর ব্যাপক মব জাস্টিস হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। একটা বড় ঝড় গেছে আমাদের। একটা বিপ্লব হয়েছে, বিদ্রোহ হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এসব মুহূর্তের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে—এটা মনে করার কারণ নেই। এক-দেড় বছর আমরা পার হয়েছি একটা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) অধীনে। তারা একটা ইলেকশন দিয়ে গেছে। ইলেকশন করে একটা গভর্নমেন্ট হয়েছে—ইলেকটেড গভর্নমেন্ট (নির্বাচিত সরকার) হয়েছে। এটাই তো একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন)। আমি তো মনে করি, দ্যাটস অলসো এ ভেরি বিগ অ্যাচিভমেন্ট (এটা একটা বড় অর্জন)।’
আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, এটা কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সবাই বলছে—এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন) হয়েছে। এবং এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন হয়েছে বলেই আজকে এটা একসেপ্টেবল টু অল (গ্রহণযোগ্য) হয়েছে, সকলের কাছে।’
আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমরা রাজনৈতিকভাবে পরে আপনাদের জানাব। আমাদের সরকারের আলোচনার পরে জানাব।
অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। কারণ তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি, আমার দলও মনে করে, যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্রে রূপান্তর)। সেটা তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং ইউ মাস্ট গিভ ক্রেডিট টু দেম (তাদের সেই কৃতিত্ব), দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।
৩ দিন আগে
প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগকারী কয়েকজনের ছবি ও পরিচয় শনাক্ত হয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগকারী কয়েকজনের ছবি ও পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে যারা আগুন দিয়েছে, আমি গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকে জানতে পেরেছি, তাদের কিছু ছবি ও পরিচয় আমরা ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা ব্যবস্থা করেছি।
ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে ময়মনসিংহে হিন্দু তরুণ দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়, গর্হিত কাজ। আমরা কোনো ক্রমে আইন হাতে নিতে দেব না। আইন হাতে নেওয়াটা একটা রাষ্ট্রের সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা।’
মব জাস্টিসকে যাতে প্রশ্রয় দেওয়া না হয়, সে জন্য আজ সকালেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টাদের গ্রুপে বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, যে বা যারা এই মানুষটাকে পিটিয়ে মেরেছে এবং আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা এখন সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। কিছু ঘটনা যে ঘটছে না—এমন নয়, তবে আমরা যতটুকু এই পর্যন্ত এসেছি, আমরা আশাবাদী যে নির্বাচন যথাসময়ে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বতঃস্ফূর্ততার মাধ্যমে আমরা নির্বাচন করতে পারব। এই পরিবেশ এখনো বহাল আছে।
ছায়ানটেও হামলা হয়েছে। শিবিরের কেউ কেউ বলেছে যে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকা উচিত নয়—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, কে কী বলল, সেটা তো আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। তবে কথা হচ্ছে যে আমরা যেহেতু সরকারে আছি, সরকার অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠানে কেউ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেবে অথবা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করবে, এটা কোনভাবে কাম্য নয়। আমরা এটাকে অন্যায় ও গর্হিত কাজ বলে বিবেচনা করি। এদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।
৬২ দিন আগে
মব জাস্টিস কমাতে কাজ করছি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
মব জাস্টিস যত কমিয়ে আনা যায় এ লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২তম সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘মব জাস্টিস যত কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি বলবো না যে মব জাস্টিস ইলিমিনেট (দূর) হয়ে গেছে। এখনও হচ্ছে, যেমন রংপুরে একটি মব জাস্টিস হয়েছে। ঢাকায় তুলনামূলক কমেছে, তবে আশেপাশে মব জাস্টিস দু-একটি হয়েই যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এটি যতটা কমিয়ে আনা যায়।’
গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে একজন রিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে (ধানমন্ডি ৩২ নম্বর) যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা ছিল।’
পড়ুন: জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ নেই: ইসি সচিব
সভায় কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকায় ১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামীতে এমন আরও পরিকল্পনা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ছুটি নেওয়া ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির ৬০ দিন হলে বরখাস্ত হয়। এটি চলতেই থাকবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি সাধারণ জনগণ বা নির্দোষ জনগণ যাতে কোনো অবস্থায় শাস্তির আওতায় না আসে। যে দোষী সে কোনো অবস্থায় ছাড়া পাবে না। আমরা সব সময় চুনোপুঁটি ধরি। রুই–কাতলা ধরা পড়ে না। রাঘব বোয়ালদের ধরার চেষ্টা চলছে।’
১৮৭ দিন আগে
পাঁচ আগস্টের আগে মব জাস্টিসের সংস্কৃতি ছিল না: জাহিদ হোসেন
গত বছরের পাঁচ আগস্টের আগে বাংলাদেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা মব জাস্টিসের সংস্কৃতি ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ পেশাজীবী জোটের সমন্বয়ক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা মব জাস্টিসের সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল না। এখন শিশুদের কাছেও এই শব্দগুলো পরিচিত। অনেকেই ২৮ অক্টোবর পল্টনের সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা বলবেন, কিন্তু মানুষ অতীত থেকে শিক্ষা নেয়।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা জামায়াত-শিবিরের ৬ নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ২৮ অক্টোবর ছিল বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিন। সেদিন ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে অস্ত্র তুলে গুলি এবং মানুষ পিটিয়ে মারার ঘটনা গভীর আলোড়ন তুলেছিল। ২৮ অক্টোবরের আগের দিন এবং পরের দিনও দেশের বিভিন্ন জায়গায় রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘাত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে যেন নির্বাচন না হয় তার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে চলা ভোট ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নেয়। যেটি ফ্যাসিস্টদের পালাতে বাধ্য করে। জনগণকে দাবি আদায়ে আর রাস্তায় নামতে হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, আমরা লক্ষ করছি, ১১ মাস পার হয়ে গেলেও অনেকেই আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা লালন করছেন। সুপরিকল্পিতভাবে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।
এ কারণে জনগণ ন্যায্য বিচার নিশ্চিতে বিগত সরকাররে আমলে ধ্বংসপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগকে দ্রুত পুনর্গঠন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি গণতন্ত্রও বটে। আমরা বারবার বলেছি ৫ আগস্টের ঐক্য নষ্ট কোরো না। পালিয়ে যাওয়া পতিত ফ্যাসিস্টরা তোমাদের ব্যর্থ করতে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তোমরা শুনলে না। তাই অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, হঠাৎ করে একদল মানুষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কুৎসিত ভাষায় কথা বলছে। এমনকি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারী আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে বিদ্রুপ করেছে। এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষা নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের ভাষা।
গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাতে প্রচুর লুটের টাকা আর অবৈধ অস্ত্র আছে। তাই তারা প্রকাশ্যে হামলা চালাচ্ছে।
আগামী নির্বাচনের তারিখ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে জাহিদ হোসেন বলেন, গণতন্ত্র নিয়ে লুকোচুরি খেলা বন্ধ করুন। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিন। জনগণ যাকে উপযুক্ত মনে করবে, তার হাতেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে।
২১৮ দিন আগে
মব জাস্টিস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদাকে আটকের সময় যেভাবে মব জাস্টিজ করা হয়েছে তা কাম্য নয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনায় বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২৩ জুন) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাকে হর্টিকালচার সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তারের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়; তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেপ্তার হয়েছেন নুরুল হুদা।’
আরও পড়ুন: সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা আটক
‘তবে তাকে গ্রেপ্তারের সময় যেভাবে মব জাস্টিজ করা হয়েছে তা কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেছে। এ ঘটনার তদন্ত হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কৃষিজমি দখল রোধে কৃষিজমি সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বিদেশি ফলের পাশাপাশি দেশীয় ফলের উৎপাদন বাড়াতে হবে, যেন এসব ফল হারিয়ে না যায়।’
পরিদর্শনের সময় গাজীপুর জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, কালিয়াকৈর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ, হর্টিকালচার সেন্টারের এনামুল হকসহ পুলিশ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপদেষ্টা হর্টিকালচার সেন্টারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নানা দিক নির্দেশনা দেন।
২৪৩ দিন আগে
মব জাস্টিস-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার: তথ্য উপদেষ্টা
এখন থেকে কেউ মব জাস্টিস কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ওই স্থান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘যে অপরাধী তাকে আমরা ওখানেই গ্রেপ্তার করব। আমরা একদিনও অপেক্ষা করব না। ওখান থেকেই তুলে নিয়ে আসব।’ রবিবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এসব কথা বলেন।
বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন ও হয়রানির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,‘ আইন হচ্ছে অন্ধ, যেই অপরাধী হন, তার জাত-পাত, বর্ণ দেখা হবে না। লিঙ্গ দেখা হবে না, নারী কী পুরুষ।’
তিনি বলেন, ‘যিনি মব জাস্টিস করুন না কেন—ধার্মিক হোক, অধার্মিক হোক না কেন—তাকে আইনের আওতায় নেওয়ার বিষয়ে আজ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আজ আমরা প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি— সামনে থেকে মব জাস্টিস পরিস্থিতি তৈরি হলে, থানা ঘেরাও থেকে শুরু করে কোনো ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, আমরা কঠোর ভূমিকা রাখব।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা সেখানেই আমরা নেব। এ বিষয়ে সকল অংশীজনদেরকে বলে দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন: নতুন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম
উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে যেসব জায়গায় মব জাস্টিসের ঘটনা ঘটেছে, যথাযত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলা হলে বা আমাদের দিক থেকেও যদি আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। এই যে মব জাস্টিস- এখানে ওখানে গিয়ে ডাকাতি, এর ওর সম্পত্তি দখল বা এজাতীয় যতগুলো ঝামেলা আছে, যতগুলো জটিলতা এই সমাজে তৈরি হয়েছে, অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, এখন থেকে এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স ভূমিকা উত্তীর্ণ হব। যেখানে মব জাস্টিস পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে সে যেই হোন না কেন। সে ধর্মের যে লিঙ্গের যে বর্ণের হোন না কেন- এখন থেকে কঠোর ভূমিকা অবতীর্ণ হব।’
শাহবাগের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা নজরদারিতে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত সাত-আট মাসের যে যেখানেই ঝামেলা করেছে, যে যেখানে মব জাস্টিস করেছে—আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয় আছে। আমরা বলেছি আরও কার্যকর পদ্ধতিতে সবকিছু নজরদারিতে আনার জন্য। আজকে থেকে আমরা সমন্বিতভাবে সব তথ্য সংগ্রহ করে, যে অপরাধী তাকে আমরা ওখানেই গ্রেপ্তার করব। আমরা একদিন অপেক্ষা করব না। ওখান থেকেই তুলে নিয়ে আসব।’
তিনি আরও জানান, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সচেতনতা বাড়াতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কর্মসূচি নেওয়া হবে। এছাড়া যে ইস্যুগুলো রয়েছে যেমন আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত, মব জাস্টিস ইস্যু আছে, মিলিটেন্সি ইস্যু হয়তো সামনে আসতে পারে, আরও কিছু ইস্যু আছে—যে সবগুলো আছে সেগুলো যাতে মিডিয়ায় ভালোভাবে উপস্থাপিত হয়, সেই বিষয়ে মনিটর করার চিন্তা-ভাবনা করছি। সেগুলোতে মিডিয়া কিভাবে ফোকাস করবে এ বিষয়ে আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা মিডিয়াগুলোর সঙ্গে বসব। আমরা এই স্টাবলিশমেন্টটা ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করব, যাতে জনগণ সঠিক তথ্যটা পেতে পারে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ৬ থেকে ৭ মাস ধরে এই সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভেতর ও ভারত থেকে কমিউনিকেশন ওয়ার ফেয়ার চলছে। আমাদের জায়গা থেকেও আমরা এখন থেকে কাউন্টার কমিউনিকেশন ওয়ার ফেয়ারে যাব।’
৩৪৯ দিন আগে
আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা: পুলিশ
আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গণপিটুনির ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
মব জাস্টিস বা গণপিটুনির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দেশের সব সচেতন নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করছে পুলিশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি কোথাও কোথাও গণপিটুনি দিয়ে মানুষ হত্যার নৃশংস ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ধরনের মব জাস্টিস কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর।’
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই উল্লেখ করে পুলিশ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘কেউ অন্যায় করলে বা অপরাধী হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওই ব্যক্তির বিচারের বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি অন্যায় বা অপরাধ করলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে; কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।’
দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কোনো ব্যক্তি অন্যায় বা অপরাধ করলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
আরও পড়ুন: পুলিশকে জনবান্ধব ফোর্সে রূপান্তরের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
৫১৯ দিন আগে