সিলেট
সিলেটে ভূমিকম্প, উৎপত্তি ছাতকে
সিলেটে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। আর মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উত্তপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জের ছাতকে।
জানা গেছে, সিলেট নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ এবং এর গভীরতা স্বল্পমাত্রার হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে।
২ দিন আগে
সিলেটে দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, মানা হচ্ছে না সিসিকের মূল্যতালিকা
শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান মাস। রোজার শুরুতেই সিলেট মহানগরীতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ, মাংস, ফলমূলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নগরীর আম্বরখানা, বন্দরবাজার, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার ও কাজিরবাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মাংস ও মাছের দোকানগুলোতে আগের তুলনায় বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ব্রয়লার মুরগির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি যে মুরগি ১৬৫ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল, তা এখন স্থানভেদে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছেই কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ফলমূলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে। ইফতারে বহুল ব্যবহৃত কলার দাম হালিপ্রতি আকারভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি আপেল ও কমলার দামও আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
লেবু ও শসার দামেও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। কয়েকদিন আগেও যে লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় হালি বিক্রি হয়েছিল, তা এখন আকারভেদে ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে তার প্রভাব পড়েছে।
নগরীর তালতলা এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদির বলেন, রমজান এলেই বাজারে চাপ বাড়ে, তবে এবার আগেভাগেই দাম বেড়ে গেছে। নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারের দামের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে, বন্দরবাজারের এক মাংস বিক্রেতা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম এবং চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ কারণেই বাজারে দাম সমন্বয় হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরভবনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার রমজানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানান। সেখানে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা, ছাগল ও ভেড়ার মাংস ১০০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ভেজাল প্রতিরোধ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিক্রেতারা এই তালিকার পরিবর্তে সিসিককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মূল্য তালিকা না টাঙিয়ে বিক্রি করছেন প্রকাশ্যেই। নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
তারা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় কেউ নির্ধারিত মূল্য মানছেন না। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একই বাজারে ভিন্ন দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস।
ক্রেতারা বলছেন, রমজান উপলক্ষে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। বর্তমানে বাজারের অস্থিরতা রোজাদারদের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। সিসিকের নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে মাংস বিক্রি করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
সিলেটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা ও বিয়ানীবাজার উপজেলার আছিরগঞ্জ এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
আজ সকাল ৯টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার আছিরগঞ্জ এলাকার বসন্তপুরে হাইড্রোলিক ট্রাক্টর ও টমটমের সংঘর্ষে কামাল হোসেন নামের এক টমটমযাত্রী নিহত হন।
নিহত কামাল হোসেন (৪২) বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া ইউনিয়নের বড়াউট গ্রামের মক্তার আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, ঘটনার পর পুলিশ ট্রাক্টরটি জব্দ করলেও চালক পালিয়ে গেছেন।
এর আগে, সকাল ৮টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় অপর সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক ফরহাদ হাসান (৩০) নিহত হয়েছেন।
ফরহাদ বিয়ানীবাজার উপজেলার মাটিজুরা গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সকালে দুর্ঘটনার শিকার মোটরসাইকেল ও চালকের নিথর দেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
৩ দিন আগে
প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি পেল সিলেট
সিলেট জেলা প্রথমবারের মতো নির্বাচিত নারী এমপি পেয়েছে। নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য হলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বিজয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে।
জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের ফলাফল ঘেটে পাওয়া গেছে এ তথ্য।
এর আগে, লুনার স্বামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলী সিলেট-২ আসনে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ৭৯ হাজার ২৫১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে স্বামীর পর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী লুনা। তিনি সিলেট-২ আসনের প্রথম মহিলা সংসদ সদস্য। এছাড়া তিনি সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে এই প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি হয়েছেন।
সিলেট-২ আসনের ১২৮টি (বিশ্বনাথ উপজেলার ৭৪টি ও ওসমানীনগর উপজেলার ৫৪টি) ভোট কেন্দ্রের বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট। তাদের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ৭৯ হাজার ২৫১ ভোট।
এছাড়া সিলেট-২ আসনের অপর ৩ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৪০৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আমির উদ্দিন পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৯ ভোট ও গণফোরাম মনোনীত উদিয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুল হক পেয়েছেন ৬৩২ ভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবি উপজেলার ৭৪টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। অপরদিকে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন।
৬ দিন আগে
সিলেটে জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক ৩
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জাল ভোট দেওয়ার সময় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ২টি ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন বর্ণি মাঝপাড়ার বাসিন্দা কাউসার ও ফাহিম আহমদ।
এছাড়া, রনিখাই হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে একই অভিযোগে আরও ১ জনকে আটক করা হয়।
এ তথ্যটি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, জাল ভোট দেওয়ার সময় মোট ৩ জনকে আটক করা হলেও রনিখাই হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আটক হওয়া ১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৯ দিন আগে
সিলেটে সাড়ে ৬ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩৫ শতাংশ
সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিলেটে দুপুরে এ তথ্য জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
তিনি বলেন, দুপুর পর্যন্ত সিলেটের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে নগরী ও তিনটি উপজেলার অন্তত ২১টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের দিকে তা বেড়ে যায়। দিনজুড়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক জানান, গতকাল রাতে দুয়েকটি স্থানে সামান্য উত্তেজনা দেখা দিলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আজকের ভোটগ্রহণে কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রতি সহনশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, কিন্তু বিজয়ী হবেন ছয়জন। জনগণ যে রায় দেবেন, সেই ফলাফল সবাইকে মেনে নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, এবার সিলেটে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৬১০ জন এবং ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৬টি।
৯ দিন আগে
সিলেটে কোথাও কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, কোথাও ফাঁকা
সিলেটে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। সিলেট নগরের অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আবার কোনো কোনো ভোটকেন্দ্র অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে নগরের সারদা হল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রচুর নারীরাও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
তবে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নগরের মদন মোহন কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্র অনেকটাই ফাঁকা। দুই একজন করে ভোটাররা এসে ভোট দিচ্ছেন।
এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, এখানে ২ হাজার ৯৩৩ জন ভোটার রয়েছেন। প্রথম ২ ঘণ্টায় ১৫৪ জন ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়বে।
ভোটের লাইনে থাকা তোপখানা এলাকার সাথি রানী দাস বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে সকালেই চলে এসেছি। ভোটের পরিবেশ খুব ভালো।
কাজিরবাজার এলাকার বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, সকালে ঝামেলা কম হবে মনে করে এসেছিলাম। এখন দেখি দীর্ঘ লাইন।
সকালে নগরের কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা তৈয়বুন্নেছা। তিনি বলেন, আইডি কার্ড না আনায় প্রথমে ভোট দিতে পারিনি। পরে বাসা থেকে ছেলে আইডি কার্ড নিয়ে আসে। এরপর ভোট দিয়েছি।
সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে ভোটগ্রহণ। দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সকাল ৮টায় শিবগঞ্জ স্কলার্স হোম কেন্দ্রে ভোট দেন সিলেট-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। আর ১০ টার কিছু আগে সারদা হল কেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তারা দুজনই ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেছেন, সিলেট অঞ্চলে সাধারণত মানুষ সকালে একটু দেরিতে ভোটকেন্দ্রে আসেন। সেই তুলনায় বিভিন্ন কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত যে ভোটের হার দেখা গেছে, তা মোটামুটি সন্তোষজনক। দিন শেষে ৫০–৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
বেলা ১১টা পর্যন্ত কোথাও ১০ শতাংশ, কোথাও ১২ বা ১৫ শতাংশ, আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে। এখন পর্যন্ত সামগ্রিক পরিবেশ ভালো রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তবে গত রাতে দু-একটি স্থানে সামান্য সমস্যা হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থী ও ভোটারদের উদ্দেশে সরওয়ার আলম বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সবাইকে সহনশীল আচরণ করতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, নির্বাচিত হবেন ছয়জন। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবেন, সেই ফলাফল সবাইকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সামগ্রিক ভোটের হার এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন হলেও দিনের শেষে ভালো একটি উপস্থিতি থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরওয়ার আলম। তার মতে, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে, যা দিন শেষে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
৯ দিন আগে
সিলেটে কেন্দ্রের ভেতরে জামায়াত-বিএনপির হাতাহাতি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর
সিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জ উপজেলায় এক প্রার্থীর এজেন্টের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মহিশাষী কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাতের বেলা কারও কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘এক প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়ার জন্য ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক পরিচয়ে ঢোকার চেষ্টাকালে তিন তরুণকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী।
এছাড়া গভীর রাতে নগরীর চৌখিদিখি পেট্রোল পাম্প থেকে কিছু বাঁশের লাঠি উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তবে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, ‘দুয়েকটি কেন্দ্রে রাতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বড় কোনো ঘটনা নয়। দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনের আছে।’
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেটের সব আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনি কাজের সমন্বয়ক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ভোটে জিততে পারবে না জেনেই জামায়াত সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সারা রাত এসব কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
জামায়াতের দলীয় নেতা-কর্মীরা কোনো কেন্দ্রে যায়নি জানিয়ে সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ‘বরং সিলেট নগরের কয়েকটি স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন। ভোট চলাকালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই।’
৯ দিন আগে
টানা ৫ দিন বন্ধ সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আজ বুধবার থেকে টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত টানা ৫ দিন তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নির্বাচন শেষে আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যথারীতি বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে জানিয়েছে স্থলবন্দর সূত্র।
তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত মালিক, কর্মচারী, হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ও ট্রাকচালকরা ভোট প্রদানের জন্য নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। এ কারণে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী সোমবার সকাল থেকে আবারও নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে।
১০ দিন আগে
নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না সিলেটের ৩ প্রার্থী
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ করে সিলেটের ছয়টি আসনের প্রার্থী এবং ভোটাররা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ভোটের জন্য। তবে এবারের নির্বাচনে অন্য আসনের প্রার্থী হওয়ায় তিন জন নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না।
সিলেট জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি আসনে এবার ৩৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ ভোটার।
সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে সিলেট-১ আসন গঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে। সিলেট-২ আসন গঠিত হয়েছে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে। সিলেট-৩ আসন দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। সিলেট-৪ আসন গঠিত হয়েছে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। সিলেট-৫ আসন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে। সিলেট-৬ আসন গঠিত হয়েছে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সিলেট জেলার ৬টি আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৩ এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৬১০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন।
নির্বাচনি আসনের হিসাব অনুযায়ী সিলেট-১ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৩ জন, সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ জন, সিলেট-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৬ জন, সিলেট-৪ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩, সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ জন এবং সিলেট-৬ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের ৮ প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণবজ্যোতি পাল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া।
সিলেট-২ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমীর উদ্দিন এবং গণফোরামের মো. মুজিবুল হক।
সিলেট-৩ আসনের ৬ প্রার্থী হলেন বিএনপির মোহাম্মদ আবদুল মালিক, জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনুল বাকর এবং ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী।
সিলেট-৪ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতের জয়নাল আবেদীন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ডালিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ এবং গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম।
সিলেট-৫ আসনের ৪ প্রার্থী হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, খেলাফত মজলিসের মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদ এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন।
সিলেট-৬ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী, জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. আবদুন নূর, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম।
সিলেটের ৬টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ১৬টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে ২১৭টি কেন্দ্র। এই ২১৭টির মধ্যে বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২টি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৪টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ১২টি, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৪৬টি, কানাইঘাট উপজেলায় ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১টি, সদর উপজেলায় ৪৫টি, জকিগঞ্জ উপজেলায় ৯টি, জৈন্তাপুর উপজেলায় ২৪টি এবং বালাগঞ্জ উপজেলায় ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া সিলেট নগরীতে মোট ২৯৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. সম্রাট তালুকদার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ নয়, আমরা ভোটকেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ দুইভাবে ভাগ করেছি। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা আছেন সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা কাজ করছি।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর সব ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না ৩ প্রার্থী
নির্বাচনে নিজ আসনে নিজের ভোট দিতে পারবেন না সিলেটের ৩ প্রার্থী। এই তিন প্রার্থী যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে আসনে তাদের ভোট না থাকায় এবারের নির্বাচনে তারা নিজের ভোট নিজেকে দিতে পারবেন না।
ভোট না দিতে পারা প্রার্থীরা হলেন— সিলেট-১ (সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনের গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন এবং সিলেট-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী।
এসব প্রার্থীদের নির্বাচনি হলফনামা ও ভোটার তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-১ আসনের ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনের ভোটকেন্দ্র তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণভাগ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
একই আসনে কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমনের ভোট তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সুনামগঞ্জ জেলায়। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভোটার। তার ভোটকেন্দ্র প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জামতলা সুনামগঞ্জে।
সিলেট-২ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর ভোট তার বর্তমান ঠিকানা সিলেট সিটি করপোরেশনের মজুমদারি এলাকায়। তার ভোটকেন্দ্র সিলেট সিটি করপোরেশনের আম্বরখানা গালস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পিংকি সাহা বলেন, যার ভোট যেখানে তাকে সেখানেই ভোট দিতে হবে। তবে কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচনি এলাকার ভোটার না হন তবে তিনি আবেদন করলে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
এ ব্যাপারে সিলেট-১ আসনের বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন বলেন, আমার ভোট সুনামগঞ্জে। পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করিনি। যেহেতু সিলেট-১ আসন আমার নির্বাচনি এলাকা, তাই ভোট দিতে সুনামগঞ্জ যেতে পারব না।
সিলেট-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার ভোট সিলেট সিটি করপোরেশনে। পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করিনি। নির্বাচনের দিন সময় হলে সিটি করপোরেশনে ভোট দিতে যাব।
১০ দিন আগে