শেখ বশিরউদ্দীন
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সই হচ্ছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
আগামীকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বাণিজ্য চুক্তি সই হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পাশাপাশি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন এই চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিশাল রপ্তানি বাজার (প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা) সুসংহত করতে এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ৪৭টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিলেও বর্তমান সরকার আপাতত ২৫টি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, বাণিজ্য সম্পর্ক সুসংহত করার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে শুল্কহার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যেটা আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম। যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো, আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কম পেতাম। দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলি সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) যে চুক্তি হবে, আমরা চেষ্টা করছিলাম শুল্ক আরও কত কমানো যায়। কতটুকু কমবে আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না বা চাচ্ছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখব। আমরা সামগ্রিক শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা নয়, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস (তৈরি পোশাক), এই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়। আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনও রত রয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ কোটি টাকার রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে। এটা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে এমন বড় চুক্তি কেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, সেই নির্বাচিত সরকারকে বাড়তি চাপমুক্ত রাখতেই অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি সম্পন্ন করে যাচ্ছে।’ চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি স্বাক্ষর শেষে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
১৩ দিন আগে
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারলে মার্কিন শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে: উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপ করা বাড়তি ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরও কিছুটা কমাতে চায় বাংলাদেশ।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ কথা বলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, পাল্টা শুল্ক বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় এসেছে প্রতিনিধি দলটি। তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি নিম্নমুখী করার যে উদ্দেশ্য আমাদের, সেই উদ্দেশ্যসাধন করতে পারলে আমরা আশা করতে পারি যে, আমাদের শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইতোমধ্যে দেশটি থেকে যেসব পণ্য কেনার পরিমাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের পাশাপাশি বিমান কেনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কেনাকাটার বিষয়েও ভালো অগ্রগতি হয়েছে।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
গত ৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করেছে। তবে দেশটির সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। পাল্টা শুল্ক অন্তত ১৫ শতাংশে নামিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় ঢাকা। এ কারণে আলোচনার জন্য ইউএসটিআরের কাছে সময় চেয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে সাড়া দিয়ে ঢাকা সফরে এসেছে সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডেন লিঞ্চের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল। তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
১৬০ দিন আগে
পারকি সৈকতে নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্সের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে: উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন
চট্টগ্রামের আনোয়ারা পারকি সৈকতে নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্সের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র,পাট এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারান পারকি সৈকতে চলমান ‘পারকিতে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘পানি সমস্যাসহ নানা কারণে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তবে প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হবে।’
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম নাসরীন জাহান বলেন, ‘পারকি সমুদ্রসৈকতের পর্যটন কমপ্লেক্স একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প। স্থানীয়দের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা, প্রকল্প পরিচালক মাজেদুর রহমান, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পারকি সমুদ্রসৈকত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমিতে ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এই পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পের প্রথম মেয়াদ দুই বছর ধার্য করা হলেও ২০২০ সালের নভেম্বরেই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পারায় দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের সময়সীমা এবং বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭১ দশমিক ২৫ কোটি টাকা করা হয়। এর পরও ধীরগতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
১৭৮ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে অর্জন অনেক: শেখ বশিরউদ্দীন
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে অনেক অর্জন হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, আমরা কাঠামোগত সংস্কার করে একটি পর্যায়ে উপনীত হতে পারবো, যার মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দেশকে সুষ্ঠু অর্থনীতি ও বৈষম্যহীন যাত্রায় অগ্রসর করতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট ) বিকালে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মিলনায়তনে ছাত্র জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে জুলাই পুনর্জাগরণ উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পড়ুন: দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর: বাণিজ্য উপদেষ্টা
উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ স্বল্প সময়ে শতভাগ বাস্তবায়ন করা না গেলেও উপযুক্ত রোডম্যাপ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কিভাবে আরও ভালো পারফর্ম করা যায় ,একটা ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যায়, এ ব্যাপারে সকল উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।
জুলাই পরবর্তী এক বছরে অনেক অর্জন হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আমরা বাজার ব্যবস্থায় সিন্ডিকেশন নির্মূল করতে পেরেছি। টিসিবির কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পেরেছি। এক কোটি পরিবারকে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমাদের ম্যাক্রো ইকনোমিতে ব্যালেন্স সারপ্লাস, আমাদের ফিনান্সিয়াল একাউন্টে আমরা সারপ্লাস, রিজার্ভ যেটা সম্ভবত ১০ বিলিয়নে নেমে গিয়েছিল সেটা এখন ৩০ বিলিয়নে উঠে এসেছে। রপ্তানি বিগত ৩২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। বৈষম্য দূরীকরণেও আমাদের অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন , জুলাইয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল এবং আমরা যে সমন্বিতভাবে, সমস্বরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে না বলতে পেরেছি তার জন্য আমাদের মূল্য দিতে হয়েছে। ছোট্ট শিশু প্রিয়া গোপ থেকে ইয়ামিনকে জীবন দিতে হয়েছে। জুলাই-আগস্টে আরও যে স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে তা অবর্ণনীয়। সেই দায়বোধ থেকে জুলাইকে স্মরণ করতে এসেছি, আরও বেশি জানতে এসেছি।
বিশেষ অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো দুইজন জুলাই যোদ্ধার স্মৃতিচারণ, শোন মহাজন, টেস্টিমনি অব মার্টায়ার্স ফ্যামিলি ও কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা তথ্যচিত্র প্রদর্শন, জুলাই কেন্দ্রিক গীতি আলেখ্য ও আলোচনা সভা।
পড়ুন: আগামী বছর চামড়া সংরক্ষণে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের তাৎপর্যকে হৃদয়ে ধারণ করে যদি আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা যায়— তবেই আমরা বৈষম্যহীন, মানবিক ও কল্যাণমূলক একটি টেকসই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর ক্রণিক ক্যাপিটালিজম হয়েছে। কতিপয় মানুষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কাঠামো, ন্যায়ভিত্তিক নীতি কাঠামো ও ন্যায়ভিত্তিক আচরণ প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সায়লা আক্তার শশী জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন।
১৯৮ দিন আগে
শুল্ক নিয়ে আলোচনায় সোমবার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
নতুন করে আরোপিত শুল্ক নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মাহবুবুর রহমান রবিবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
বাণিজ্য সচিব জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হার কমানোর লক্ষ্যে তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য সোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন। ওয়াশিংটনে ২৯ ও ৩০ জুলাই দুপক্ষের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে এটি তৃতীয় আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর: বাণিজ্য উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আগের দুই দফার আলোচনা ইতিবাচক ছিল বলে আমরা মনে করি। এবার ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) সঙ্গে মূল বৈঠক হবে। আশা করছি, এবারের আলোচনাতেও ভালো কিছু হবে।
১ আগস্টের আগেই ইতিবাচক কোনো ঘোষণা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং কেনার একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি গম কেনার চুক্তিও হয়েছে। সয়াবিন ও তুলা কেনার বিষয়েও আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়লেও দেশের বাজারে ভোক্তাদের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
২০৯ দিন আগে
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অদম্য পথযাত্রার সূচনা করেছে জুলাই অভ্যুত্থান: শেখ বশিরউদ্দীন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের আন্দোলন সংগ্রামের একটি মাইলফলক। এটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র গড়ার অদম্য পথযাত্রার সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
শনিবার (২৬ জুলাই ) দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, জুলাই আন্দোলন আমাদের রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই অধ্যায় কেবল প্রতিবাদ কিংবা বিরোধের নয়—এটি আশাবাদ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক সাহসী আহ্বান। এটি বাংলাদেশে নতুন এক বৈষম্যহীন ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র গড়ার জন্য অদম্য পথযাত্রার সূচনা করেছে। ছাত্ররা এই আন্দোলনে পথ দেখিয়েছিল, আর আপামর জনগণ সেদিন এই আন্দোলনে শরিক হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়িয়েছি, কার্যকরী পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট হয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা জনগণের উপর আস্থা রাখতে শিখেছি। জনগণ শুধু সংখ্যা নয়, জনগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অর্জন আমাদের সকলের।
পড়ুন: পুরোনো আইনে বাংলাদেশকে আর চলতে দেবো না: নাহিদ ইসলাম
উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা যদি সেবাকে দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তবেই বুঝবো জুলাই গণআন্দোলনের মূল শিক্ষা আমরা ধারণ করতে পেরেছি। আমরা যেন এমন একটি রাষ্ট্র ও প্রশাসন গড়ে তুলি, যেখানে নাগরিকের কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হবে না, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে তথ্যভিত্তিক ও জনস্বার্থে —যেখানে প্রশাসন জনগণের সবচেয়ে বড় মিত্র হয়ে উঠবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত (উপদেষ্টা পদমর্যাদা ) লুৎফে সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) আব্দুন নাসের খান। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ৪ আগস্ট দৃষ্টি হারানো মো. সাব্বির আহমেদ জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে চিত্রাঙ্কন ও রক্তদান কর্মসূচি। উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন রক্তদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা করেন। এছাড়াও জুলাই অভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করতে পর্যটন মেলার আয়োজন ছিল। মোট ১০টি স্টল মেলায় অংশ নেয়। অতিথিদের নিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টি হারানো ১১ জন জুলাই যোদ্ধার হাতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের দেওয়া পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য (ঢাকা- জেদ্দা- ঢাকা ) ২টি করে টিকিটের কনফার্মেশন লেটার ও স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে দেওয়া ওমরাহ হজ পালনের অন্যান্য ব্যয়ের পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
এরপর জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিন জনের হাতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিট তুলে দেন তিনি। এ ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সংস্থার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
২১০ দিন আগে
দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর: বাণিজ্য উপদেষ্টা
দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াচ্ছে যে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বা সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে—এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টাকে বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই। আপনার মতো আমিও একজন বাংলাদেশি। বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আমরা কেন কাজ করব? এটা সম্পূর্ণ অবান্তর প্রশ্ন।’
আরও পড়ুন: শুল্ক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় বাণিজ্য উপদেষ্টা
উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি আমরা দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে চুক্তি করি, তাহলে তো আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের প্রয়োজনই হতো না। নির্দিষ্ট কোনো কিছু মেনে নিয়ে কাজটা করে ফেললেই হয়ে যেত। স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার প্রশ্ন আসলে পরিশ্রমের দরকার নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নের ভিত্তিতে মূল ধারার গণমাধ্যম প্রশ্ন করবে এটা আমার কাছে রিয়েলিস্টিক মনে হচ্ছে না।’
২১২ দিন আগে
কোরবানির চামড়ার উপযুক্ত দাম নিশ্চিতে সংরক্ষণে সহায়তা দেবে সরকার : বাণিজ্য উপদেষ্টা
কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও কোরবানি বিষয়ক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক শেখ বশিরউদ্দীন।
বুধবার (২১ মে) দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কোরবানির চামড়ার ওপর এতিমের হক রয়েছে। চামড়ার সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদরাসা ও এতিমখানায় ৩০ হাজার টন লবণ সরবরাহ করবে সরকার, যাতে তারা চামড়া সংরক্ষণ করতে পারে যতক্ষণ না ন্যায্য দাম পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানকে চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একটি নির্দেশনামূলক ভিডিও তৈরি করে তা প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।’
আরও পড়ুন: ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নষ্ট করা হয়েছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে একসঙ্গে কাঁচা চামড়া বাজারে আসায় সেগুলো পচে যেত। এ বছর সে সমস্যা হবে না। বৃহস্পতিবার (২২ মে) আবারও বৈঠক হবে, যেখানে এ বছরের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হবে এবং তা গত বছরের তুলনায় বেশি হবে।’
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্ধারিত পশুর হাটের বাইরে কেনা-বেচা নিরুৎসাহিত করা হবে এবং হাটের হাসিল পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরবরাহ ও চাহিদা সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যদি ন্যায্য মূল্য না পাওয়া যায়, তাহলে সরকার প্রয়োজনে কাঁচা চামড়া রপ্তানি করবে।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, ‘বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রাণীদের প্রতি নৃশংসতা ও ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ রোধে কাজ করছে সরকার।’
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ বলেন, ‘চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ কাজ করবে এবং সেনাবাহিনী সার্বিক সহায়তা দেবে। একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠন করা হবে এবং ৯৯৯ ও হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
এ বছর কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতসহ কোরবানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কমিটি করে প্রজ্ঞাপন জারী হয় গত মঙ্গলবার (২০ মে)।
কোরবানির সময় চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য গত ২০ মে সরকার ১৭ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। বাণিজ্য উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক এবং বাণিজ্য সচিব সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কমিটি কোরবানির চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, যথাযথ লবণ সরবরাহ, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ, হাট ব্যবস্থাপনা, পশু পরিবহন ও চামড়া শিল্প নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
২৭৬ দিন আগে
১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নষ্ট করা হয়েছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
বিগত ১৫ বছর ধরে দেশের সরকারি-বেসরকারি উভয়খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ভেঙে ফেলা হয়েছে, এতে করে দেশে বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশে প্রতিযোগিতা নীতি: সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা এবং এগিয়ে যাওয়ার পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন এই নষ্ট কাঠামোর কারণে প্রচুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে রেমিটেন্স ও রপ্তানির ক্ষেত্রে এরইমধ্যে কিছু ভালো ফলাফল এসেছে। ধীরে ধীরে অন্যান্য ক্ষেত্রেও উন্নতি হবে।’
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধ্বংসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে ‘ক্রনিজ’ (চক্র) তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘এই গোষ্ঠীগুলো সম্পদের অসম বণ্টন ঘটিয়েছে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের বাজারে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।’
আরও পড়ুন: বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য-শিল্প প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘প্রতিযোগিতা কমিশনও এই ধ্বংসের শিকার হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ খুব বেশি এর সুফল পায়নি। অথচ মানুষ তাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিযোগিতার সুফল দেখতে চায়। এ কমিশনকে সে জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা জোটবদ্ধ হয়ে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে কম দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের ধ্বংস করছে। প্রতিযোগিতা কমিশনকে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত ও কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেশীয় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য (আইন) ড. আফরোজা বিলকিস, ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অফিসের ইকনোমিক অ্যাডভাইজর ইসাম মোসাদ্দেক এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫ থেকে ৬টি প্রতিষ্ঠান একই উৎস থেকে পণ্য ক্রয় ও বাজারজাত করে। তাদের খরচ ও মোটামুটি একই রকম হওয়ায় বাজারে খুব বেশি প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। বর্তমান সরকার বাজারকে প্রতিযোগিতামূলক করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
আরও পড়ুন: থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শূন্যে নামাতে জরুরি কর্মপরিকল্পনা: বাণিজ্য উপদেষ্টা
প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য গুটিকয়েক কোম্পানির সিন্ডিকেট ভেঙে সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করা। আমরা শুধু কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করি না, বরং ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষাও দিয়ে থাকি।’
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশন শুধু কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করে না, সুরক্ষাও দেয়। ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান যারা বাজারে অসম প্রতিযোগিতায় পড়ছে, তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। গুটিকয়েক কোম্পানি সিন্ডিকেট ভেঙে সব কোম্পানিকে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
২৭৭ দিন আগে
স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন: উপদেষ্টা
স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যসহ সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে দাবি করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
এ বাস্তবতা তুলে ধরে বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রবিবার (১৮ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এমন মন্তব্য করেন।
‘আমরা নিশ্চয় এই অবস্থানগুলোকে তুলে ধরবো এবং সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবো। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভৌগলিকভাবে সংযুক্ত দুটি দেশ আমরা। এটা বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার একটা প্রক্রিয়া। উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এটার একটা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত আনতে পারবো। আমাদের আরও কিছু বন্দর এখনও খোলা আছে,’ বলেন শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। স্থানীয় স্থলবন্দরে বিশেষ করে আখাউড়া ও ডাউকি সীমান্তভিত্তিক কিছু সিদ্ধান্তের কথা শুনেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে জানার পর সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। এখন বিষয়টি বিশ্লেষণ করবো।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বাণিজ্য চুক্তি সই, শুল্কবাধা দূর করার পরামর্শ
তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যকে স্বাভাবিক বাণিজ্য প্রবাহ বলে মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা যেটা আমাদের থেকে নেয়, সেটা সুলভ মূল্যের কারণেই নেয়। আমরাও একই কারণে তাদের পণ্য কিনি। সুতরাং এখানে স্বাভাবিক বাণিজ্য প্রবাহের বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরবো।’
‘আমরা আমাদের বৈচিত্রকরণ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি ঘটাবো,’ যোগ করেন শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে খুব বেশি যে আসবাব যায়, তা না। পোশাকপণ্য যায়, আমরা প্রতিযোগিতা সক্ষমতার মাধ্যমেই এগুলো পাঠিয়ে থাকি। দুপক্ষের জন্যই লাভজনক বিধায় এগুলো যায়। আশা করি, উভয় দেশের ভোক্তা ও উৎপাদনের স্বার্থে এটা চলমান থাকবে।’
এর আগে ট্রান্সশিফমেন্ট সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ায় কী ধরনের প্রবাহ পড়েছে, জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, ‘ট্রান্সশিফমেন্টের কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করে নিজস্বভাবেই এই সমস্যা সমাধান করেছি।’
২৭৯ দিন আগে