জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
ফ্যাসিবাদের পরিণতির কথা মাথায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়েছিল অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মদদদাতা, ইন্ধনদাতা, পক্ষপাতিত্বকারী, সহায়তাকারী, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ অনেকেরই পূর্বপরিচিত। তারা সরকার যন্ত্রেরই অংশ ছিল। আজকে তাদের অনেকের করুণ পরিণতি সম্পর্কে সবাই অবহিত আছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত, অনেকে পলাতক, দেশান্তরিত, জেলে আছেন, আইন-আদালত সামলাচ্ছেন। এমনকি তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও আজ কঠিন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি আশা করি।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
তিনি বলেন, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
উপদেষ্টা এ সময় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি যাতে নির্বাচন তথা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে না পারে এবং জনগণের আস্থা হারাতে না পারে, সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগ এই সেলে করা যাবে।
তিনি জানান, এই সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার, যেটি জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) প্রস্তুত করেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষও যুক্ত থাকবে। অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং এর দ্রুত প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদেরও দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারেন। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের ‘স্টিল ফ্রেম অব ব্যুরোক্রেসি’ নিশ্চিত করতে হবে যাতে কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ফাঁকি দিতে না পারে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই বিদেশ সফর ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স—এসআইএফ-এর (সাবেক র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
সভায় খুলনা বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক,জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবির খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবারে তিনটি বিষয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সম্ভব হয়নি। সেগুলো হলো: নির্বাচন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার।
উপদেষ্টা এগুলোর সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৭ দিন আগে
পূজার মতো নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে, আশা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘পূজা যেমন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, পুলিশের দেড় লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার, র্যাবের ১০ হাজার, কোস্ট গার্ডের প্রায় ৫ হাজার এবং আনসারের প্রায় ৬ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে।
সভায় উপদেষ্টা বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়ন করা হচ্ছে। সেখানে বডি ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হচ্ছে। আর ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ তো থাকছেই। গত দুর্গাপূজায়ও এ অ্যাপের মাধ্যমে আমরা সাফল্য পেয়েছি। সুতরাং, কেউ কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঘটানোর চেষ্টা করলে পার পাবে না।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদেশের আপামর জনসাধারণ ও রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক আর সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
১৯ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে 'জুলাই বীরত্ব' ও 'জুলাই আত্মত্যাগ' গ্রাফিতির উদ্বোধন
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি 'জুলাই বীরত্ব' ও 'জুলাই আত্মত্যাগ'র উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গ্রাফিতির উদ্বোধন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে অঙ্কিত গ্রাফিতির মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বীর যোদ্ধা ও শহীদ হওয়া বীরদের আত্মত্যাগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গ্রাফিতিটিতে জায়গা পেয়েছে জুলাই আন্দোলনের বীরযোদ্ধা রিকশা চালক মোহাম্মদ সুজন, আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের বীরত্ব, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ ও নিহত শহীদ গোলাম নাফিজ।
উদ্বোধনের সময় উপদেষ্টা বলেন, যারা জুলাই আন্দোলন ও গ্রাফিতির বিরুদ্ধে তারা আর কখনো ফিরে আসবে না। যারা জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের মনে কখনো সৃন্দেহ রাখবেন না যে এই গ্রাফিতি থাকবে না। সামনে নির্বাচিত সরকার আসলেও এই গ্রাফিতি না রাখার কোনো কারণ নেই বলে উল্লেখ করে তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি "জুলাই বীরত্ব" ও "জুলাই আত্মত্যাগ" স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তরুণ সমাজের আত্মত্যাগের কথা আমাদের জাতিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে গ্রাফিতি অঙ্কনের এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হতে। আমাদের দায়িত্ব হবে তাদের এ ত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা এবং একইসাথে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তাঁদের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই পুনর্জাগরণ ও তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই বিপ্লবের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে মূল উপজীব্য করে ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টার নির্দেশনা এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে।
১৫৪ দিন আগে
পূজায় মদ-গাঁজার আসর বসানো যাবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজায় মদ-গাঁজার আসর বসানো যাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভার আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে টানা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে এবং নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। পূজা উপলক্ষে বসা মেলায় কোনোভাবেই মদ-গাঁজার আসর চালানো যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে সারাদেশের প্রতিটি মণ্ডপেই আনসার মোতায়েন থাকবে।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হয়েছে, স্বীকার করলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, ঢাকায় প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট লাইনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কার পর কে বিসর্জন দেবে তার ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, এ বছর সারাদেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপ রয়েছে। পূজা আয়োজন কমিটি কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। গতবার শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করা হয়েছিল। এবার আরও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
১৬৬ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৬০৪ বার সড়ক অবরোধ হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১২৩টি সংগঠন মোট ১ হাজার ৬০৪ বার সড়ক অবরোধ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও এর আশপাশের সড়কে এক হাজার ৬০৪টি অবরোধ হয়েছে। ১২৩টি সংগঠন এগুলো করেছে।
তবে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি অনুরোধ জানান, এগুলো যেন সড়কে না করা হয়। কারণ এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নামে ভুয়া অডিও রেকর্ড, মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ
তিনি বলেন, যানজটের একটা বড় কারণ হলো, একটি সড়কের যদি কোনো একটা কোণা ব্লক হয়ে যায়, তাতে ঢাকা শহর অ্যাফেক্টেড হয়। আমি সবার কাছে অনুরোধ করব, এগুলো যেন একটি সুনির্দিষ্ট জায়গায় করা হয়। মাঠ রয়েছে, কিংবা আমাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রয়েছে— এসব জায়গায় করা হলে জনদুর্ভোগটা কম হবে।
১৭৪ দিন আগে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নামে ভুয়া অডিও রেকর্ড, মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামে তৈরি একটি ভুয়া বা এআই-জেনারেটেড অডিও কল রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে এটি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কণ্ঠ নয়; কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট বা বিকৃত করা একটি কণ্ঠস্বর। যেকোনো সচেতন ব্যক্তি, যিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কণ্ঠ সম্পর্কে অবগত, সহজেই বুঝতে পারবেন যে এটি তার কণ্ঠস্বর নয়।
‘ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত ২৫ সেকেন্ডের ওই অডিওতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ভিপি নুরের বিষয়ে এক অজ্ঞাতনামা পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিতে শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আজ সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ, ঢাকায় সমাবেশ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের ভুয়া অডিও কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও বেআইনি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গুজব ছড়াচ্ছে এবং তারা প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভুয়া অডিও রেকর্ড বা অন্য যেকোনো বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করা হচ্ছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭৫ দিন আগে
হারানো এলএমজি ও অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে কেউ যদি একটি এলএমজির তথ্য দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে সেই অস্ত্র উদ্ধার করা হলে তথ্যদাতাকে ৫ লাখ এবং প্রতি রাউন্ড গুলির জন্য ৫০০ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কেউ যদি একটি চায়না রাইফেলের সন্ধান দিতে পারে এবং সেটি উদ্ধার হয়, তাহলে তথ্যদাতা ১ লাখ টাকা পাবে। এসএমজির ক্ষেত্রে দেড় লাখ, এলএমজির ক্ষেত্রে ৫ লাখ এবং প্রতি রাউন্ড গুলির জন্য ৫০০ টাকা দেওয়া হবে। কেউ যদি একটি গুলি এনে দেয়, তাহলে সে ৫০০ টাকা পাবে। কেউ এলএমজি এনে দিলে ৫ লাখ পাবে। পিস্তলের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার, শর্টগানের তথ্য দিলে ৫০ হাজার টাকা পাবে। এসব তথ্য যারা দেবেন, তাদের তথ্য গোপন রাখা হবে।
আরও পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে বড় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
উপদেষ্টা আরও বলেন, এখন প্রচুর পরিমাণ রিক্রুটমেন্ট হচ্ছে। আপনারা বলতেন আমাদের বদলি বানিজ্য, ভর্তি বানিজ্য নিয়ে। ভর্তি বানিজ্যের ক্ষেত্রে যদি কোনো দুর্নীতি হয় এবং সেই তথ্য কেউ দিতে পারেন, তাহলে তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে। এ জন্য আমরা শর্টগানের মতো টাকা ডিক্লেয়ার করিনি। এই নিয়োগ বানিজ্য যাতে বন্ধ হয়, তাতে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। গত এক বছরে আপনারা কোথাও নিয়োগ বানিজ্যের খবর দিতে পারেননি। চেয়ারে বসার পর আমাদের বন্ধু, বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কেউ যদি কোথাও আমাদের কেউ গিয়ে চাঁদাবাজিতে জড়িত হয়, তাহলে আমাদের জানান। আমরা যদি কেউ দুর্নীতি করি, সেটাও আপনারা লিখে দেন। কিন্তু কেউ রং রিপোর্টিং করবেন না।
রাস্তা বন্ধ করে গাজীপুরের কমিশনারের যাতায়াত বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া উচিত। আমরা প্রথম ধাপে তাকে নোটিশ দেব। আপনারা এটা জানতে পারবেন।
তিনি বলেন, মব কমে আসছে, তবে নির্মূল হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি এগুলো নিয়ন্ত্রণের। নির্বাচনের আগে যত সম্ভব অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছি। নির্বাচন নির্ভর করে রাজনৈতিক দল ও জনগণের ওপর। জনগণ যে নির্বাচনমুখী হয়েছে, তার প্রমাণ হলো আপনারা। কারণ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আজকের মিটিংয়ে আপনারা প্রশ্ন করছেন নির্বাচন নিয়ে।
১৮০ দিন আগে
আওয়ামী লীগ অপকর্ম করতে চাইলে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম যেহেতু নিষিদ্ধ, সেহেতু তারা কোনো অপকর্ম করতে চাইলে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শনিবার (২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট ঘিরে দেশে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সজাগ রয়েছে। তাছাড়া সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই যেভাবে এ বিষয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, তাতে কোনো শঙ্কা নেই।
আরও পড়ুন: রায়েরবাজারে অজ্ঞাত ১১৪ জুলাই শহীদের গণকবর রয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আওয়ামী লীগের গুপ্তভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ও গোপন প্রশিক্ষণের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি কোনো বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
এ সময় তিনি বলেন, এটা তদন্তের বিষয়। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মিডিয়া সত্য প্রচার করার কারণেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমি সবসময়ই বলে আসছি—আমাদের সাংবাদিকরা সত্য প্রচার করছেন বলেই বিদেশি মিডিয়াগুলোর টোন আস্তে আস্তে নিচে নেমে যাচ্ছে। তারা কিন্তু এখন আগের মতো সরব হতে পারছে না।
২০৩ দিন আগে
গোপালগঞ্জে পরিস্থিতির কারণে গুলি করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পরিস্থিতিগত কারণে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী গুলি করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর এই জেলায় জারি করা ১৪৪ ধারা পর্যায়ক্রমে উঠিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রবিবার (২০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গুলি ছোড়া নিয়ে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যে সময় যে পরিস্থিতি, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়।’
গত বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশ এবং সেনাবাহিনীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। সংঘর্ষের পর ওই জেলায় কারফিউ জারি করে সরকার। এখন কারফিউ প্রত্যাহার করে ১৪৪ ধারা জারি রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গোপালগঞ্জে ধাপে ধাপে ১৪৪ ধারা উঠিয়ে নেওয়া হবে। অন্যায় করলে সে গ্রেপ্তার হবে। আমি একটি কথাই বলেছি— কোনো অবস্থাতেই যেন দুষ্কৃতিকারী ছাড়া না পায়, আর যে অপরাধ করেনি সে যেন ধরা না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, গোপালগঞ্জে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমি অস্বীকার করছি না। এটা তো রাজনীতি। রাজনীতি করতে গেলে অনেক কিছুই অনেক সময় ঘটে। আগে যখন আমরাও রাজনীতি করেছি, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটাই হচ্ছে আসল বিষয়। আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি কি না, সেটাই প্রশ্ন।
গোপালগঞ্জে মৃত্যুর ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি— একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ মামলা করবে কি না, সেটি একটি কমিটি গঠন করে তারাই সিদ্ধান্ত দেবে। গোপালগঞ্জে গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না। যারা অন্যায় করেছে, তাদেরকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
এছাড়া, গোপালগঞ্জের ঘটনায় ৯টি শিশুকেও আটকে রাখা হয়েছে বলে তথ্য দেন একজন সাংবাদিক। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এরকম কোনো খবর আমার কাছে নেই। এরপর তিনি জানতে চান, কোন গণমাধ্যমে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। তখন তাকে জানানো হয়, দৈনিক সমকালে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
ছাত্রলীগের হরতালে কম নাশকতায় স্বস্তি উপদেষ্টার
রবিবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হরতাল নিয়ে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের তরফ থেকে একটি হরতাল ডাকা হয়েছে। হরতাল আদৌ হয়েছে কি না, সেটা বলেন? দুটি গাড়িই (পোড়ানো) হয়েছে, সত্যি কথা। নাশকতা হয়েছে। তবে অন্যান্য হরতাল আহ্বান করার সময় এই নাশকতা আরও বেশি হয়েছে। সেখান থেকে আমরা অনেকটাই কমিয়ে আনতে পেরেছি কি না, সেটি আপনারা দেখবেন।
আগামী ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে কি না— এ প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না কেন? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে, আরও তো অনেক সময় বাকি আছে। আমাদের প্রস্তুতি আছে, আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, নিয়মিত অনুশীলন করাচ্ছি। আল্লাহ চাইলে (নির্বাচন) করতে কোনো অসুবিধা হবে না।
তিনি বলেন, ‘আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে আমরা শুনলাম, তারা কিভাবে কাজ করছেন, আগে কী পরিস্থিতি ছিল, এখন কী পরিস্থিতি রয়েছে। তারা ফিডব্যাক দিয়েছেন। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি হয়নি, সেটি আপনারা বলতে পারবেন।’
আরও পড়ুন: প্রয়োজনে লাশ উত্তোলন করে গোপালগঞ্জে নিহতদের ময়নাতদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
২১৬ দিন আগে
নির্বাচনের সব প্রস্তুতি আছে, মব মোকাবিলায় সচেষ্ট সরকার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের সব প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আছে। পাশাপাশি আগামী কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া মব ভায়োলেন্স মোকাবিলায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
রবিবার (৬ জুলাই) শিল্প পুলিশ সদর দপ্তর এবং উত্তরা পূর্ব থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে না। যারা নির্বাচনের অংশ নেবেন সেসব রাজনৈতিক দলেরও একটি প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। আবার নির্বাচন কমিশনেরও আলাদা প্রস্তুতি আছে। তবে আইনশৃঙ্খলার জায়গা থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের এখনো পাঁচ-ছয় মাস বাকি। এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। যারা বলছেন নির্বাচনের পরিবেশ নেই, তারা কেন এমন কথা বলছেন, সেটি তারাই ভালো জানেন।’
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি মব ভায়োলেন্স প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স প্রায় বন্ধ হয়ে আসলেও আবার নতুন করে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও রংপুরে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মব ঠেকাতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
থানার ওসিদের দখল বাণিজ্যের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। ওসিদের দখল বাণিজ্য নিয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য বা অভিযোগ আসেনি।’
শিল্প পুলিশ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিল্প পুলিশের জনবল বাড়েনি। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিল্প পুলিশের জনবলের পরিধি বাড়ানোর ওপরও এ সময় গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া ফেরত ৩ বাংলাদেশি জঙ্গি নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
২৩০ দিন আগে