উইলিয়াম বি মাইলাম
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইলামের মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিবের শোক
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কূটনীতিক উইলিয়াম বি মাইলাম মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। এই কূটনীতিক চলতি বছরের মার্চ মাসেও ঢাকা সফর করেছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকবার্তায় উইলিয়াম বি মাইলামের মৃত্যুতে গভীর শোক জানান এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মাইলামের ছিল গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। ১৯৬২ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেওয়া এই পেশাদার কূটনীতিক ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নিষ্ঠাবান নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার পর হাজারো মানুষের জীবনরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’ সংগঠনে উইলিয়াম বি মাইলামের অবদান স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের এক অভিজ্ঞ ও পরিচিত কূটনীতিকের জীবনাবসান হলো।
উল্লেখ্য, কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণের পরেও মাইলাম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মতামতধর্মী ত্রৈমাসিক সাময়িকী সাউথ এশিয়া পার্সপেকটিভসের সম্পাদক ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইট টু ফ্রিডম’–এর প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক চিন্তনপ্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার ছিলেন।
১ দিন আগে
বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় জোর সাবেক দুই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
স্বাধীনতার অধিকার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় জোর দিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই রাষ্ট্রদূত বলেছেন, অধিকারের সঙ্গে দায়িত্বের বিষয়টিও চলে আসে। একটি চমৎকার সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষায় আরও বেশি অবদান রাখার মধ্য দিয়ে আমরাও এই যাত্রার অংশ হতে চাই।
সম্প্রতি রাজধানীর বারিধারার গার্ডেন গ্যালারি কসমসে ‘মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা: জুলাই বিপ্লবের আগে-পরে’ শিরোনামের একটি সংলাপে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা।
সাবেক এই দুই রাষ্ট্রদূত হলেন দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কূটনীতিক উইলিয়াম বি মাইলাম ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা জন এফ ড্যানিলোভিচ।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইট টু ফ্রিডমেরও প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম বি মাইলাম। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি।
আলোচনায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন কসমস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ খান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কসমস গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মাসুদ জামিল খান। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা কুরিয়ারের নির্বাহী সম্পাদক শায়ান এস খান এবং কসমস ফাউন্ডেশন ও বে অব বেঙ্গলের গবেষণা সহযোগী উমরান চৌধুরী।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ‘স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে’ উত্তরণে সফল হোক, চায় ইইউ
ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, “মুক্তচিন্তা ও স্বাধীনভাবে কথা বলার সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল দেড় দশকের লুণ্ঠনপরায়ণ রাজনীতি। তবে প্রবল বিক্ষোভের তোড়ে ভেসে গেছে তারা, যেটিকে ‘মনসুন বিপ্লব’ বলা হয়।”
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তাল সাগর আর অস্থির জলরাশির ভেতর দিয়ে খুবই সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যস্থাকে এমন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যা আমাদের জাতীয় লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে হবে।’
৩৫১ দিন আগে