নির্বাচন
শপথ নিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (ইউএনবি)— ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ সোমবার। এদিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তারা শপথ গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। কিছুক্ষণ পর জামায়াতে ইসলামী ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্য দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
এদিন সকাল সাড়ে দশটার কিছু সময় পরে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
শপথ গ্রহণ শেষে শপথপত্রের নির্ধারিত স্থানে নিজ নির্বাচনি এলাকা উল্লেখ করে তারিখসহ স্বাক্ষর করেন সংসদ সদস্যরা।
একই দিন বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও একই সময়ে শপথ পড়ানো হবে।
সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে এই আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
নতুন সরকারে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও কেনাইনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হচ্ছে নতুন সরকারের শপথ। আজ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি অতিথি।
এদিকে, শপথ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেকরোডে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল সোমবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে যানচলাচলের ডাইভারশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
চাঁদপুরে ৩৬ প্রার্থীর ২৫ জনই জামানত হারিয়েছেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনি বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনের প্রার্থী বৈধ ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের ঐ নির্দিষ্ট অংশ (১২.৫ শতাংশ) পেতে ব্যর্থ হন, তবে নির্বাচনের আগে কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট অংকের টাকা (বর্তমানে বাংলাদেশে ২০,০০০ টাকা) আর ফেরত পাবেন না।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলার ৫টি আসনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারণ করে দেওয়া ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোটও পাননি। এমনও প্রার্থী আছেন যারা ১ হাজার ভোটও পাননি। ফলে তাদের জামানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টি জেলার ৪টি আসনে অংশ নিয়ে মোট ভোট পেয়েছে ৩ হাজার ৭৪৬। গণফোরাম ৩টি আসনে পেয়েছে ৮৭৬ ভোট। সেই তুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৪টি আসনে পেয়েছে ৩৮ হাজার ৬৩০ ভোট।
অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলার ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবার পেয়েছে ৭ হাজার ১৫৪ ভোট। ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল বাহাদুর শাহও চাঁদপুর-৫ আসনে জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে, চাঁদপুর জেলায় ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৯৫। এবারের নির্বাচনে জেলায় ভোট দিয়েছেন ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোটার।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আজাদ হোসেন, জাতীয় পার্টির হাবিব খান ও গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর আশরাফীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনে লেবার পার্টি মনোনীত প্রার্থী নাসিমা নাজনীন সরকার, রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়জুন্নুর, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাফ হোসেন, নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মো. এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মানসুর আহমদ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. এমরান হোসেন মিয়াও জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন ১১ দলীয় ছাতা প্রতীকের প্রার্থী (এলডিপি) মো. বিল্লাল হোসেনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে ইসলামী আন্দোলনে মনোনীত প্রার্থী (হাতপাখা) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন শেখ, কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও তরুণ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও সাংবাদিক এএইচএম আহসান উল্লাহ, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর ও গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী ও সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়াকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মুনির চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদ আলম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মকবুল হোসাইন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এমএ হান্নান বিএনপির প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ বাহাদুর শাহ, ইনসানিয়াত বিপ্লব মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মাদ মাহমুদ আলম, জাতীয় পার্টি মনোনীত মির্জা গিয়াস উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী পাটওয়ারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেনও জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এলডিপির নেয়ামুল বশিরকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে এ এইচ এম আহসান উল্লাহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। জামানত হারানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামানত হারানোর কারণ হচ্ছে প্রার্থীদের দলগুলোর তৃণমূলে সাংগঠনিক কাঠামো নাই বা থাকলেও দুর্বল। তাই নির্বাচনে ভালো করা কঠিন। এক্ষেত্রে দলগুলোকে আগামীতে আরও বেশি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হতে হবে।
চাঁদপুরের সুশাসনের জন্যে নাগরিকের (সুজন) সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন বলেন, নিজেদের পরিচিতি ও অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য নির্বাচনে অনেকে প্রার্থী হন। আবার নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণের জন্যেও দলের প্রার্থী হয়ে নিয়ম রক্ষা করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, ছোট দলগুলোর জয়-পরাজয় বা জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়াটা তাদের জন্যে বড় বিষয় নয়। দলকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাই বড়ো বিষয়। আবার দেখা গেছে, অনেকে নির্বাচনে দাঁড়ায় বটে, কিন্তু নির্বাচনের কয়েকদিন আগে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য সম্ভাব্য বিজয়ী দলের প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করে হাত মেলায়।
৫ দিন আগে
মাদারীপুরে ১৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
মাদারীপুরে তিনটি আসনের ২৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত ষোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮৯ জন। ১০২টি কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১০টি। এই আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ‘রিকশা’ প্রতীকের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী নাদিয়া চৌধুরী ৬৪ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে তার নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল কামান ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। অন্য ৭ প্রার্থী মোট ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
মাদারীপুর-২ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৩২ জন। ১৪৫টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪টি। ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট পান। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুস সোবহান খান ৩৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এ আসনে ।
মাদারীপুর-৩ আসনে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৬ জন ভোটার। ১৩৪টি কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১ হাজার ২৩৭টি। ৯৫ হাজার ১৮৮টি ভোট পেয়ে জয়ী হন বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. রফিকুল ইসলাম ৮৪ হাজার ৬৪৬ ভোট পান। এ আসনে অন্য ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুই প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দলটির প্রার্থীরা মোট বৈধ ভোটের শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহম্মদ আলী জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে যারা মোট বৈধ ভোটের শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পান, তাদের জামানত ফেরত দেওয়া হয় না। এ বিধান অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজী ১০ হাজার ১২২টি ভোট পেয়েছেন। তবে এটি জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ১১ হাজার ৪১টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শরীফুজ্জামান শরীফ ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৩টি ভোট।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনেও ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব ৬ হাজার ৩৭৪টি ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করতে পারেননি। এ আসনে ২ লাখ ৮ হাজার ১১টি ভোট পেয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন নির্বাচিত হয়েছেন। ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৭টি ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন বিএনপির মাহমুদ হাসান খান বাবু।
এবারের নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার দুই আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে। নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেননি।
তবে দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা দাবি করেছেন, ভোটের পরিবেশ ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।
৫ দিন আগে
‘দুর্গ’ রংপুরে অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে রংপুরকে নিজেদের রাজনৈতিক ‘দুর্গ’ হিসেবে দাবি করে আসা দলটি এবার সেখানেই চরম ভরাডুবির মুখে পড়েছে। একসময় দলের প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে এই অঞ্চলে জাপার যে শক্ত ভিত গড়ে উঠেছিল, এবারের নির্বাচনে তা কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দলটির প্রার্থীরা জামানতও হারিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী বলেন, আমরা হেরেছি বেশ কিছু কারণে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি একেবারেই নেই। এছাড়া আমরা ক্ষমতার অংশ থাকলেও রংপুর অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারিনি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতেই লাঙ্গল সামনে রেখে ‘জাতীয় পার্টির জানাজা’ শিরোনামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূলে নেতৃত্ব সংকট, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, ভোটারদের সঙ্গে মৌসুমি যোগাযোগ, আস্থাহীনতা, জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ এবং বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে না পারা—এসব কারণেই এমন ভরাডুবি হয়েছে। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থাকার অভিযোগও দলটির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু একটি পরাজয় নয়; বরং এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ঘুরে দাঁড়াতে হলে জাপাকে তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠন, তরুণ নেতৃত্ব তৈরি এবং স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় ‘দুর্গ’ স্থায়ীভাবে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিভিন্ন আসনের ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেছে, রংপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট। সেখানে জামায়াতের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট।
রংপুর-৩ আসনে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট।
রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৫ আসনে জাপার এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট। জামায়াতের গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট।
রংপুর-৬ আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। অথচ এই আসনে এক সময় শেখ হাসিনা লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন।
একইভাবে কুড়িগ্রামের চারটি, গাইবান্ধার পাঁচটি, লালমনিরহাটের তিনটি, নীলফামারীর চারটি, পঞ্চগড়ের দুটি, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি এবং দিনাজপুরের ছয়টি আসনেও জাতীয় পার্টির একই চিত্র দেখা গেছে।
অতীতের শক্ত ঘাঁটি থেকে অস্তিত্ব সংকটে
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাপা রংপুর অঞ্চল থেকে ১৭টি, ১৯৯৬ সালে ২১টি, ২০০১ সালে ১৪টি এবং ২০০৮ সালে ১২টি আসন পায়। ২০১৮ সালে রংপুর বিভাগে পায় ৭টি আসন, আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ৩টি।
জোট-মহাজোট রাজনীতিতে প্রভাব কমতে থাকলেও আসনগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের দখলে যায়। তবে আওয়ামী লীগের পতনের পর ‘দোসর’ ইমেজও এবার দলটির বিপক্ষে কাজ করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব সংকট
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে জাপার সাংগঠনিক কাঠামো আগের মতো সক্রিয় ছিল না। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মীসংকট, প্রচারণায় শিথিলতা এবং নির্বাচনি কৌশলে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মাঠপর্যায়ে উপস্থিতিও কম ছিল।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলকে যে আবেগভিত্তিক সমর্থন দিয়েছিল, তার মৃত্যুর পর তা ধরে রাখতে পারেনি জাপা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জিএম কাদের ও রওশনপন্থী বিভাজন তৃণমূলেও প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূল সংগঠন ভেঙে পড়া এবং কমিটিগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে জাপার কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছায়নি। সরকারে থেকেও বিরোধী ভূমিকা—এই দ্বৈত অবস্থান ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
এ অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াত সাংগঠনিকভাবে মাঠে সক্রিয় হওয়ায় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ে। সাবেক ভোটব্যাংকের একটি অংশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছে। বিতর্কিত বা অজনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলটির প্রভাব কমেছে।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার রাশেদা বেগম বলেন, জাপা বহু বছর আমাদের এলাকার এমপি দিয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান বা শিল্পকারখানার মতো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগের সময় সরকারি দল না বিরোধী দল—তা বোঝা যেত না। এলাকার মানুষের জন্য কার্যকর কিছু হয়নি, তাই মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে।
তরুণ ভোটার সোহেল রানা জানান, আমরা উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান দেখতে চাই। জাপা এবার আর বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে সরাসরি ১৭টিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং ২টি আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ব্যবধানে জয় এবং জাতীয় পার্টির আসনশূন্য অবস্থান রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই দুই বড় ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে জাপা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জায়গা হারিয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ তীব্র হওয়ায় রংপুরেও তার প্রভাব পড়েছে। ভোটাররা কৌশলগত ভোট দিয়েছেন। জাপা ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য বার্তা পৌঁছাতে পারেনি।
রংপুর জেলা জাপার সভাপতি আজমল হক লেবু বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে জাপা হেরেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। এছাড়া আমাদের কিছু সাংগঠনিক সমস্যাও রয়েছে।’
৫ দিন আগে
নির্বাচন ঘিরে ৯৯৯-এ ৮৩৮০টি ফোনকল, অভিযোগ ৩৭১৩টি
জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ অপারেশনাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে মোট ৮ হাজার ৩৮০টি নির্বাচনসংক্রান্ত ফোনকল এসেছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মহিউল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
এই বিশেষ কার্যক্রম ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা চালু ছিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্থাপিত ‘আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিবিড়ভাবে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে সেবাপ্রত্যাশী নাগরিকদের ৯৯৯ নির্বাচনসংক্রান্ত জরুরি সেবা দিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগসমূহ ৯৯৯ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই সময়ে ৯৯৯ নির্বাচন সংক্রান্ত মোট ৮ হাজার ৩৮০টি ফোনকল গ্রহণ করে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৭১৩টি ফোনকল ছিল নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে মারামারি, নিষিদ্ধ সময়ে নির্বাচনি প্রচারণা, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম এবং আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ।
এসব ফোনকলে ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভবে সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবগত করে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এছাড়া বাকি ৪ হাজার ৬৬৭টি ফোনকল নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়ে করা হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত জোটের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ এনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন: অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, আমরা লক্ষ করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আমরা পরাজিত হয়েছি। আমরা এসব আসনের তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে সেখানে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছি।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভোট গণনার সময় অনেক কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনাকক্ষে উপস্থিত এজেন্টরা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে গেলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট গণনার জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হলে তা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। একইসঙ্গে অনেক স্থানে ফলাফল শিটে ঘষামাজা, কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং আমাদের প্রার্থীর মূল এজেন্টের স্বাক্ষর না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হলেও তাদের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। তিনটি আইনি ধাপ রয়েছে—নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট।
গেজেট প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায়, অর্থাৎ নির্বাচনের মাত্র এক দিন পরই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীরা অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা কমিশনকে অভিযোগগুলো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। আইনি পথ খোলা থাকলেও আমাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।’
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে ১১ দলীয় জোট।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ার মতো ঘটনার উদাহরণ দেন। ২০১৮ সালের মতো ঘটনা আবারও ঘটছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। আমার নিজ আসনেই তিনজন নারী আহত হয়েছেন। আমরা ৫৪ জেলার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধ না হলে জোট রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাশাপাশি সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
জোটের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন জানিয়ে আজাদ বলেন, শপথ নেওয়ার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শপথ নিয়ে সংসদে যাব এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। একইসঙ্গে রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকবে।
৬ দিন আগে
কুমিল্লায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসন থেকে মোট ৮৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, আর টিকেছে ২৬ জনের। এ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রায় ৬৮ শতাংশেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
কুমিল্লার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা-১ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৭ জনের।
এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ওমর ফারুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বশির আহমেদ, বাংলাদেশ জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আবুল কালাম, এবি পার্টির মো. সফিউল বাসার ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান।
কুমিল্লা-২ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম ও জাতীয় পার্টির মো. আমির হোসেন।
কুমিল্লা-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ৯ জন। তাদের মধ্যে ৭ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ওই প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আবদুল কাইয়ুম, আমজনতার দলের চৌধুরী রকিবুল হক, গণঅধিকার পরিষদের মনিরুজ্জামান, বিআরপির মো. এমদাদুল হক, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. শরীফ উদ্দিন সরকার ও এনডিএমের রিয়াজ মো. শরীফ।
কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইনসানিয়াত বিপ্লবের ইরফানুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল করিম।
কুমিল্লা-৫ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৮ জনের। এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল ক্বাফী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবুল কালাম ইদ্রিস, ইনসানিয়াত বিপ্লবের তানজিল আহমেদ, এনপিপির মো. আবুল বাসার, জাতীয় পার্টির মো. এমরানুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, এবি পার্টির যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও জেএসডির শিরিন আক্তার।
কুমিল্লা-৬ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ৯ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- জেএসডির ওবায়দুল করিম মোহন, বাসদের কামরুন্নাহার সাথী, গণঅধিকার পরিষদের মোবারক হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মুক্তিজোটের মো. আমির হোসেন ফরায়েজী, বিএমএলের মো. ইয়াছিন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী।
কুমিল্লা-৭ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে ২ জনের। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. এহতেশামুল হক এবং মুক্তিজোটের সজল কুমার কর।
কুমিল্লা-৮ আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির এইচ এম এম ইরফান, বিএসপির মোহাম্মদ গোলাম মোরশেদ, বাসদের মো. আলী আশ্রাফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. গোলাম ছাদেক ও বিআরপির মফিজ উদ্দীন আহমেদ।
কুমিল্লা-৯ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬ জনের, প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু বকর ছিদ্দিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল, মুক্তিজোটের মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেলিম মাহমুদের।
কুমিল্লা-১০ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— মুক্তিজোটের কাজী নুওে আলম ছিদ্দিকি, আমজনতার দলের আবদুল্লাহ আল নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামসুদ্দোহা, গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহমেদ।
কুমিল্লা-১১ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৫ জনের। এই আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৭ জন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেম কংগ্রেসের আ ফ ম আবদুর রহিম, মুক্তিজোটের মোহাম্মদ ইউসুফ, গণফ্রন্টের মো. আলমগীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মহিউদ্দিন।
৬ দিন আগে
তারেক রহমানকে মিষ্টি ও ফুল পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান এই ফুল ও মিষ্টি গ্রহণ করেন। এ সময় গুলশান কার্যালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম মেহিদী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের আমার সকল ভাইবোন ও সাধারণ মানুষকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাদের সবাইকে জানাই অগ্রিম রমজান মোবারক। এই বিশাল জয়ের জন্য আমার ভাই তারেক, তার দল এবং অন্য সকল দলকে অভিনন্দন। প্রার্থনা করি আপনারা সবাই ভালো ও সুখে থাকুন।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন হয়। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
অন্যদিকে, একইদিন সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
৬ দিন আগে
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ মঙ্গলবার বিকেলে, এমপিদের সকালে
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বঙ্গভবনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, একইদিন (মঙ্গলবার) সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন হয়। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তারপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, আমাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদে। তখন রাষ্ট্রপতিকে তিনি সরকারপ্রধান করার অনুরোধ করবেন। রাষ্ট্রপতি দলনেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন।
রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
৬ দিন আগে