আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২
আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ, আট জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও রাজসাক্ষীকে খালাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন— আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগকর্মী রনি ভূঁইয়া।
এ মামলায় সাবেক মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৮ আসামির মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফীক্ যাবজ্জীবন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজুকে যাবজ্জীবন, সাবেক এসআই মালেককে মৃত্যুদণ্ড, এসআই আরাফাত উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, এএসআই কামরুল হাসানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, মামলার রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাতক আট আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপনকে যাবজ্জীবন, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদকে মৃত্যুদণ্ড, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে যাবজ্জীবন, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাসকে যাবজ্জীবন, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহাকে মৃত্যুদণ্ড ও যুবলীগের রনি ভূইয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। এর মধ্যে কনস্টেবল শেখ আবজালুল হক আদালতে দোষ স্বীকার করলে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এতে শহিদ হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলি করে হত্যার পর লাশগুলো একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকেও ওই লাশের স্তূপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ভ্যানটিতে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবরের ৬ তারিখ ধানমন্ডিস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত কার্যালয় অভিযোগ পত্র জমা দেয়া হয়। একই দিনে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখ তদন্ত কর্মকর্তা তার তদন্ত রিপোর্ট প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেন।
তদন্ত থেকে বিচারিক প্রক্রিয়া
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২ জুলাই প্রসিকিউশন ১৬ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ এ ‘ফরমাল চার্জ’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়। এ মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৩ জনকে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাঁদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ গঠন ও সূচনা বক্তব্য
গত বছরের (২০২৫) ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই দিন বিচারকার্যের শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে করা আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, কিন্তু এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানান। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও রাজসাক্ষীর জবানবন্দি
এ মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহিদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহিদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি।
বিচার চলাকালে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল এসআই শেখ আবজালুল হকের রাজসাক্ষী হওয়া। গত বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দিলেও, তার দেওয়া তথ্যের পূর্ণতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি নিজের জানা সব তথ্যই প্রকাশ করেছেন। সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আরেক আসামি আরাফাত হোসেন।
যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণা
গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষের নিযুক্ত ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। গত ২০ জানুয়ারি উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও যুক্তিখণ্ডন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান
এ মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, কনস্টেবল মুকুল এবং রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক।
বাকি আট আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
পলাতকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য গত ২৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেন।
১৬ দিন আগে
আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় ১৬ জনের বিচার শুরু
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) আসামিদের অব্যাহতির আবেদনের নাকচ করে দিয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ এ মামলা শুরু করেছেন।
তিন সদস্যের এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
১৬ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা আটজনকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়। তারা হলেন—ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল হোসেন ও কনস্টেবল মুকুল। এদের মধ্যে সাতজন তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
অন্যদিকে নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেছেন আসামি সাবেক এসআই শেখ আফজালুল হক। ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী তাকে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
এই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক এসআই বিশ্বজিৎ সাহাসহ আট আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে দুজন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করছেন।
গত ২ জুলাই প্রসিকিউশন ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ৬২ জন সাক্ষী, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গ্রহণ করেন। অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ আগস্ট শুরু হয়। ১৩ আগস্ট শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের জন্য ২১ আগস্ট দিন ঠিক করা হয়। সে অনুযায়ী আজ অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
আরও পড়ুন: চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরে নিহত ৫ জনের লাশ এবং আহত ব্যক্তিকে পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
ওই সময় নিহত হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন; একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
১৮৪ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা: পলাতক ২৬ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২৬ পলাতক আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২
বৃহস্পতিবার(১০ জুলাই) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে সকালে এ মামলার চার গ্রেপ্তারকৃত আসামি- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার মোট আসামি ৩০ জনের মধ্যে ২৬ জনই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে, গত ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ৩০ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যা ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
আরও পড়ুন: ছেলের কবরের পাশে দিন কাটে আবু সাঈদের মায়ের, বিচার নিয়ে সংশয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ ছোড়া গুলিতে আহত হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদেই সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
২২৬ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি-প্রক্টরসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২)।
সোমবার (৩০ জুন) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নাজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে, ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম আদালতে অভিযোগগুলো পাঠ করে শোনান। অভিযোগগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তালিকায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদ ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানের নামও রয়েছে।
এ ছাড়াও আসামির তালিকায় রয়েছেন— বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, পুলিশ কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী। তারা ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে বেরোবি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
এর আগে, ২৪ জুন হত্যা মামলার আলামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক আরএমপি কমিশনারসহ মোট ৩০ জন ব্যক্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আবু সায়েদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
গত বছর ১৬ জুলাই রংপুরের পার্কমোড় এলাকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২৩৬ দিন আগে
বিচারপতি নজরুলকে চেয়ারম্যান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ মে) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রাপ্ত অভিযোগ ও অভিযুক্তের সংখ্যা, দ্রুত বিচার-নিষ্পত্তির প্রয়োজন, কাজের চাপ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালটি গঠন করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের সদস্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ এবং মাদারীপুরের জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আরও পড়ুন: হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
২৮৯ দিন আগে