ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
শপথ নিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (ইউএনবি)— ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ সোমবার। এদিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তারা শপথ গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। কিছুক্ষণ পর জামায়াতে ইসলামী ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্য দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
এদিন সকাল সাড়ে দশটার কিছু সময় পরে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
শপথ গ্রহণ শেষে শপথপত্রের নির্ধারিত স্থানে নিজ নির্বাচনি এলাকা উল্লেখ করে তারিখসহ স্বাক্ষর করেন সংসদ সদস্যরা।
একই দিন বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও একই সময়ে শপথ পড়ানো হবে।
সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে এই আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
নতুন সরকারে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও কেনাইনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হচ্ছে নতুন সরকারের শপথ। আজ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি অতিথি।
এদিকে, শপথ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেকরোডে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল সোমবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে যানচলাচলের ডাইভারশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
‘দুর্গ’ রংপুরে অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে রংপুরকে নিজেদের রাজনৈতিক ‘দুর্গ’ হিসেবে দাবি করে আসা দলটি এবার সেখানেই চরম ভরাডুবির মুখে পড়েছে। একসময় দলের প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে এই অঞ্চলে জাপার যে শক্ত ভিত গড়ে উঠেছিল, এবারের নির্বাচনে তা কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দলটির প্রার্থীরা জামানতও হারিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী বলেন, আমরা হেরেছি বেশ কিছু কারণে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি একেবারেই নেই। এছাড়া আমরা ক্ষমতার অংশ থাকলেও রংপুর অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারিনি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতেই লাঙ্গল সামনে রেখে ‘জাতীয় পার্টির জানাজা’ শিরোনামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূলে নেতৃত্ব সংকট, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, ভোটারদের সঙ্গে মৌসুমি যোগাযোগ, আস্থাহীনতা, জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ এবং বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে না পারা—এসব কারণেই এমন ভরাডুবি হয়েছে। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থাকার অভিযোগও দলটির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু একটি পরাজয় নয়; বরং এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ঘুরে দাঁড়াতে হলে জাপাকে তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠন, তরুণ নেতৃত্ব তৈরি এবং স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় ‘দুর্গ’ স্থায়ীভাবে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিভিন্ন আসনের ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেছে, রংপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট। সেখানে জামায়াতের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট।
রংপুর-৩ আসনে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট।
রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৫ আসনে জাপার এস এম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট। জামায়াতের গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট।
রংপুর-৬ আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। অথচ এই আসনে এক সময় শেখ হাসিনা লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন।
একইভাবে কুড়িগ্রামের চারটি, গাইবান্ধার পাঁচটি, লালমনিরহাটের তিনটি, নীলফামারীর চারটি, পঞ্চগড়ের দুটি, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি এবং দিনাজপুরের ছয়টি আসনেও জাতীয় পার্টির একই চিত্র দেখা গেছে।
অতীতের শক্ত ঘাঁটি থেকে অস্তিত্ব সংকটে
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাপা রংপুর অঞ্চল থেকে ১৭টি, ১৯৯৬ সালে ২১টি, ২০০১ সালে ১৪টি এবং ২০০৮ সালে ১২টি আসন পায়। ২০১৮ সালে রংপুর বিভাগে পায় ৭টি আসন, আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ৩টি।
জোট-মহাজোট রাজনীতিতে প্রভাব কমতে থাকলেও আসনগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের দখলে যায়। তবে আওয়ামী লীগের পতনের পর ‘দোসর’ ইমেজও এবার দলটির বিপক্ষে কাজ করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব সংকট
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে জাপার সাংগঠনিক কাঠামো আগের মতো সক্রিয় ছিল না। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মীসংকট, প্রচারণায় শিথিলতা এবং নির্বাচনি কৌশলে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মাঠপর্যায়ে উপস্থিতিও কম ছিল।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলকে যে আবেগভিত্তিক সমর্থন দিয়েছিল, তার মৃত্যুর পর তা ধরে রাখতে পারেনি জাপা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জিএম কাদের ও রওশনপন্থী বিভাজন তৃণমূলেও প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূল সংগঠন ভেঙে পড়া এবং কমিটিগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে জাপার কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছায়নি। সরকারে থেকেও বিরোধী ভূমিকা—এই দ্বৈত অবস্থান ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
এ অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াত সাংগঠনিকভাবে মাঠে সক্রিয় হওয়ায় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ে। সাবেক ভোটব্যাংকের একটি অংশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছে। বিতর্কিত বা অজনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলটির প্রভাব কমেছে।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার রাশেদা বেগম বলেন, জাপা বহু বছর আমাদের এলাকার এমপি দিয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান বা শিল্পকারখানার মতো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগের সময় সরকারি দল না বিরোধী দল—তা বোঝা যেত না। এলাকার মানুষের জন্য কার্যকর কিছু হয়নি, তাই মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে।
তরুণ ভোটার সোহেল রানা জানান, আমরা উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান দেখতে চাই। জাপা এবার আর বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে সরাসরি ১৭টিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং ২টি আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ব্যবধানে জয় এবং জাতীয় পার্টির আসনশূন্য অবস্থান রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই দুই বড় ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে জাপা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জায়গা হারিয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ তীব্র হওয়ায় রংপুরেও তার প্রভাব পড়েছে। ভোটাররা কৌশলগত ভোট দিয়েছেন। জাপা ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য বার্তা পৌঁছাতে পারেনি।
রংপুর জেলা জাপার সভাপতি আজমল হক লেবু বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে জাপা হেরেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। এছাড়া আমাদের কিছু সাংগঠনিক সমস্যাও রয়েছে।’
৫ দিন আগে
নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদিকে আমন্ত্রণ প্রধান উপদেষ্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নয়াদিল্লি থেকে এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে বলে, ‘হ্যাঁ, আমরা অধ্যাপক ইউনুসের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছি। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নিয়ে কাজ চলছে।’
সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁসহ প্রায় ২০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে আতিথ্য দেবে ভারত। এ কারণে মোদির ঢাকায় আসার সম্ভাবনা কম, তবে তিনি তার প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন।
‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি হবে গ্লোবাল সাউথ অঞ্চলে আয়োজিত প্রথম বৈশ্বিক এআই সম্মেলন।
সূত্র আরও জানায়, ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা এবং দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় আসতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একইদিন সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে।
৬ দিন আগে
তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তাদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে সুসমন্বিত মেধা, মননশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য। আশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার মূল্যবান সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে আপনার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সকল উদ্যোগ সফল হোক, এই কামনা করি। মহান আল্লাহ্ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন।
৭ দিন আগে
সংসদ সদস্যরা কী কী সুবিধা পান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
এই সময়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে—সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী কী সুবিধা পান।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য শুধু একটি নির্ধারিত মাসিক বেতনই নন, বরং বিভিন্ন ধরনের ভাতা, আর্থিক সহায়তা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা ভোগ করেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলোতে।
প্রথমেই রয়েছে মাসিক বেতন ও নিয়মিত ভাতা। একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে মাসে ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন বাবদ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই পরিবহন ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া অফিস পরিচালনার খরচ হিসেবে মাসিক ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ বেতনের বাইরে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খরচের জন্য আলাদা ভাতা নির্ধারিত আছে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট ও করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। দায়িত্বকাল পাঁচ বছর পূর্ণ হলে একই সুবিধায় আবারও নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধাও রয়েছে। বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে।
দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ভাতা ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা প্রাপ্য হয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সুবিধা রয়েছে। সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। এছাড়া মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।
দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা প্রযোজ্য। পাশাপাশি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
সবশেষে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সংসদ সদস্যরা যে ভাতাগুলো পান, সেগুলো আয়করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, সংসদ সদস্যদের বেতন ছাড়াও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।
৭ দিন আগে
যেকোনো মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে পারফেক্ট বলব না। তবে অতীতের তুলনায় যেকোনো মানদণ্ডে এই নির্বাচন ভালো হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণার মঞ্চে বসে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। ১৮ কোটি ভোটারের দেশ। আপনাদের সহযোগিতা না হলে এই সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারতাম না। সবার কাছে কৃতজ্ঞ। অনেক দেশে সাড়ে ১৭ লাখ লোকও নেই। অথচ এই পরিমাণ লোক নির্বাচন আয়োজনে কাজ করেছে।’
তিনি বলেন, ভোট গুনতে একটু সময় লাগছে। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকতে চাই। লুকোচুরিতে বিশ্বাস করি না।
সিইসি বলেন, আমাদের কষ্ট, চেষ্টা সার্থক হয়েছে। নির্বাচনের ইতিহাসে যেকোনো মানদণ্ডে ভালো নির্বাচন। নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ফলাফলেও স্বচ্ছতা রাখতে চাই। এটা সম্পূর্ণ হিসাবের ব্যাপার। রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষর করে যে ফলাফল দিবে সেটাই আমরা দেব। কোনো আনঅফিশিয়াল ফলাফল দেব না।
৯ দিন আগে
ভোট পড়তে পারে ৬৮ শতাংশ: ইনসাইট ইন্টারন্যাশনালের জরিপ
দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এখন কেবলই ভোটের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। তবে ভোটের মাঠে ভোটারদের উপস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে অনেকের মনে রয়েছে সংশয়।
এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনসাইট ইন্টারন্যাশনাল দিয়েছে আশাব্যঞ্জক তথ্য। প্রতিষ্ঠানটির একটি জরিপ বলছে আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে না থাকলেও ভোটার উপস্থিতির হার হতে পারে ৬৭ দশমিক ৭০ শতাংশ।
মডেলভিত্তিক এই অনুমান বহুস্তরীয় বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে (এমআরপি) তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৪ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের এ জরিপে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন জেলার ২ হাজার ৪৩৪ জন ভোটার।
জরিপে জেলা পর্যায়ে ভোটার উপস্থিতির সম্ভাবনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়েছে। তুলনামূলক বেশি ভোটার জরিপে অংশ নেওয়া জেলাগুলোতে ভোটার উপস্থিতির পূর্বাভাস মোটামুটি স্থিতিশীল হলেও স্বল্প ভোটার অংশগ্রহণকারী জেলাগুলোতে অনিশ্চয়তা বেশি ধরা পড়েছে। উপস্থিতির হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ফরিদপুর (৮৫.৫ শতাংশ), সাতক্ষীরা (৮০.৭ শতাংশ) এবং ঢাকা (৭২.২ শতাংশ)।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গবেষক জাহিদ হাসান জানান, এই হার সরাসরি জরিপের মৌলিক সংখ্যা নয়, বরং বয়স, লিঙ্গ ও জেলা কাঠামো অনুযায়ী পরিসংখ্যানগত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনসংখ্যা-স্তরের বিশ্লেষণধর্মী পূর্বাভাস।
গবেষণায় ভোটদানে আগ্রহ বৃদ্ধির সঙ্গে কয়েকটি সম্পর্কিত বিষয় পাওয়া গেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির উপাত্ত বিশ্লেষক আরমান হোসেন। তিনি বলেন, তরুণ ও প্রথমবার হওয়া ভোটারদের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ অধিক হারে লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার উৎসাহ সবচেয়ে বেশি।
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ভোটদানের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে বলে জরিপের বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দেখা গেছে, যারা আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে উপস্থিতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি; বিপরীতে যারা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি বা অনুসরণ করেননি, তাদের ভোট দেওয়ার আগ্রহ অপেক্ষাকৃত কম।
ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকির বিষয়টিও জরিপে স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে। নির্বাচনের দিন সহিংসতার আশঙ্কা ভোটদানে বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে উঠে এসেছে এই গবেষণায়। যেসব উত্তরদাতা ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাদের মধ্যে ভোটদানের ইচ্ছাও তুলনামূলক কম।
মডেলভিত্তিক পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় প্রতি ১০ জনে একজন উত্তরদাতা বলেছেন, ভোটের দিন নিজ ভোটার এলাকায় থাকা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন ভ্রমণ ব্যয়, কাজের চাপ, সময়ের অভাব ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের মতো কিছু বিষয়। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এই আশঙ্কা ও অনীহা বেশি দেখা গেছে।
জরিপের গবেষকরা বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের চূড়ান্ত উপস্থিতি নির্ভর করবে মূলত তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ের ওপর—একেকটি কেন্দ্রে বেশি সংখ্যক ভোটার দেখা যাচ্ছে কিনা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপদ পরিবেশ। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকলে অনিচ্ছুক ভোটাররাও ভোট দিতে যেতে উৎসাহিত হবে। আবার ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিরাপদ থাকলে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়বে।
ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়াতে গবেষণায় কয়েকটি বিষয় সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভোটকেন্দ্রে দৃশ্যমান নিরাপত্তা জোরদার, ভোটার তথ্য প্রচার বৃদ্ধি এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতার স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ ভোটার উপস্থিতি কেবল তাদের অংশগ্রহণের প্রতিফলন নয়; এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা ও জনগণের ম্যান্ডেটকেও শক্তিশালী করে।
রাত পোহালেই ঐতিহাসিক এক নির্বাচনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। তবে ইনসাইট ইন্টারন্যাশনালের এই জরিপ আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্নই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কত ভোটার তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।
১০ দিন আগে
গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার প্রত্যাশায় ঐতিহাসিক ভোটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এখন কেবলই ভোটের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যাশা নিয়ে ১৭ বছর পর অর্থবহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো জাতি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।
সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সনাতন পদ্ধতিতে (ব্যালট পেপার) ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে কমিশন। প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং আরও প্রায় ১০ লাখ নির্বাচনকর্মীর উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটাররা ২ হাজার ২৮ জনের মধ্য থেকে ২৯৯ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
ভোটারের হিসাব-নিকাশ
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল।
ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মাত্র ৮১ জন নারী। জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি।
পোস্টাল ভোট
এবার প্রবাসী, সরকারি কর্মচারী এবং ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে, সেগুলো গণনা করা হবে বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে ১১ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে ৫ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার ১২০টির বেশি দেশ থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯২ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৬ জন। এসব ভোটের ৯ লাখ ৬৩ হাজার ৩১৮টি ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
এ ছাড়াও ৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৬ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভোটকর্মী ও বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।
গণভোট
নতুন কয়েকটি বৈশিষ্ট্যে অনন্য এবারের নির্বাচন। দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট।
গতানুগতিক পদ্ধতির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো এবার তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর হাইব্রিড ডাক ভোটের প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এছাড়া ভোটগ্রহণের সময় ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৯ ঘণ্টা করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রার্থীর নাম বা প্রতীকসংবলিত ভোটার স্লিপ বিতরণের সুযোগও দেওয়া হয়েছে এবার।
এ ছাড়াও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার) প্রথমবারের মতো রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৬৪ জেলা প্রশাসকসহ মোট রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৬৯ জন।
ব্যবহার করা হচ্ছে ভোট পর্যবেক্ষণে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা ও ড্রোন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি
এবারের সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।
তিনি জানান, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনি পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে ১ লাখ সেনাসদস্য, ৫ হাজার নৌবাহিনী সদস্য, ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনী সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ, ৯ হাজার ৩৪৯ জন এসআইএফ (সাবেক র্যাব) এবং ৫ লাখ ৭০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
যান চলাচল
ভোটের দিন যান চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন মোটরসাইকেল, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ থাকবে। মোটরসাইকেল চলাচলে ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টরা যে যানবাহন ব্যবহার করবেন, তাতে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকর্মী
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং অর্ধলক্ষাধিক পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
সরাসরি ভোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে এবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ২৯৯টি পৃথক কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা হবে। সব মিলিয়ে এবার মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৫৮টি।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপারসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামাদি। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, যেটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গণভোটের জন্য থাকবে গোলাপি ব্যালট।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট নিয়ে ইসির প্রস্তুতির কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষ, যেখানে মার্কিং প্লেস বা ভোটে সিল দেওয়া হয় সেখানে ভোটার ফোন দিতে পারবেন না। ভেতরে ভোটার ছাড়া কেউ যেতে পারবেন না। এমনকি ভোটারও ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এটা একদম পরিষ্কার করে দিলাম। কারণ মোবাইল এখন আমাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।’
তিনি জানান, ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনি কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে, জুলাই মাসে যে নীতিমালা করা হয়েছে সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের জন্য তা অনুযায়ী তারা সবকিছু ব্যবহার করতে পারবেন। নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, একজন সাংবাদিক মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে তো ঢুকতে পারবেনই, এমনকি উনি কক্ষে ঢুকে ভিডিও করতে ও ছবি তুলতে পারবেন। তাকে অনুমতি দেওয়া সময়ের মধ্যে তিনি এসব করতে পারলেও কক্ষের ভেতরে গিয়ে সাক্ষাৎকার নিতে বা সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটারসহ সবাইকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ‘অতি প্রতীক্ষিত’ নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ এবং নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তাতে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ভোটার তরুণ। এই বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটারকে কেন্দ্রমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভোটের ফল
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের পাশাপাশি সারাদেশের রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়ে পৃথক ফলাফল পরিবেশন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসাররা ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই ফলাফল গণনা করবেন এবং প্রাপ্ত ফলাফল (ফর্ম-১৬ ও গণভোটের ফলাফল) সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। সেখান থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্যগুলো কেন্দ্রীয় সার্ভারে এবং স্থানীয়ভাবে বড় পর্দায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভিপিএন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার ফলাফল সংগ্রহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিটিসিএলের বিশেষ ভিপিএন (VPN) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে টেলিটক ও গ্রামীণফোনের উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসাররা মোবাইল অ্যাপ বা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে ফলাফল সরাসরি আপলোড করবেন, যা একই সঙ্গে সংসদীয় আসনভিত্তিক এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের হার হিসেবে সংরক্ষিত হবে।
দুই ঘণ্টা পরপর তথ্য দেওয়ার বিষয়ে ইসি সূত্রে জানা গেছে, কেবল চূড়ান্ত ফলাফল নয়, কাল ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হারের তথ্যও মিডিয়া সেন্টারে জানানো হবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে তদারকি করা হবে।
জনসাধারণের জন্য ফলাফল দেখার সুযোগ সারাদেশের মানুষ যাতে ঘরে বসেই দ্রুত ফলাফল জানতে পারে, সেজন্য ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ অ্যাপে লাইভ আপডেট দেওয়া হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে বেসরকারি ফলাফল প্রচারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, ভোট শেষ হওয়ার পর গণনা সম্পন্ন হলে মধ্যরাত থেকেই সংসদীয় আসনভিত্তিক প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল আসতে শুরু করবে। তবে ভোটগ্রহণের পরদিন সকালেই দেশের বেশিরভাগ আসনের ফলাফল জানা যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
১০ দিন আগে
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কেন্দ্রের ভেতর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে এবং নির্বাচন বাধাগ্রস্তকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব সদস্যসহ নির্বাচন কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি এ সভায় অংশ নেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা শুরু হয় এবং দুপুর দেড়টার দিকে তা শেষ হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাছিমুল গণি। সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
নির্বাচন পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। দেশের ইতিহাসে এত বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কোনো নির্বাচনে ব্যবহার হয়নি। এবারের নির্বাচন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে কখনো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে ভেতরে যেতে পারত না। এবার তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। নির্বাচনে বাধাদানকারীদের কোনো প্রকার ছাড় নেই।’
বোরকা পরে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে নারী আনসার সদস্য থাকবে। সন্দেহ হলে প্রয়োজনে তারাই ব্যবস্থা নেবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক) লে. জেনারেল আব্দুল হাফিজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাছিমুল গণি, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক, র্যাবের মহাপরিচালক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন কাজে নিয়োজিত সেনা কর্মকর্তা, বিজিবি কর্মকর্তা এবং নির্বাচন অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তারা।
১১ দিন আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অপ্রতুল, অংশগ্রহণ মাত্র ৪.০৪ শতাংশ
দেশের নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি বহুদিনের হলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিত্র ভিন্ন বাস্তবতাই তুলে ধরছে। ব্যালটে নারী প্রার্থীর উপস্থিতি এবারও উদ্বেগজনকভাবে কম।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ৩০টির বেশি দল কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, যা জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মোট ২ হাজার ৫৬৮ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী, যা মোটের মাত্র ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ হাজার ৮৪২ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৭৭৯ জন ও নারী প্রার্থী ৬৩ জন। সে হিসাবে নারী প্রার্থী মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
পরবর্তীতে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করার পর ৪১৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গত ২০ জানুয়ারি ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৮০, অর্থাৎ মোট প্রার্থীর ৪ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, দলবদ্ধ প্রার্থীর মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নারীর অংশ ১০ শতাংশ।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মান নির্ধারণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা যথাক্রমে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ ও ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
জুলাই সনদ ও পূর্ববর্তী নির্বাচন
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ধারা ২২(খ)-(ঘ) অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু জুলাই সনদ যেহেতু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তাই কার্যত সেই নিয়মও এখন অচল।
অথচ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৫টিরই কোনো নারী প্রার্থী নেই।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর এক প্রতিবেদনে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নবম, দশম, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণের হার উল্লেখ করা হয়েছে।
তাতে দেখা গেছে, পুরুষ প্রার্থীদের তুলনায় নবম (২০০৮) নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের হার ছিল তিন দশমিক ৫১ শতাংশ বা ৫৫ জন, দশম (২০১৪) নির্বাচনে পাঁচ দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ৩০ জন এবং একাদশ (২০১৮) নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র মাত্র দশমিক ৮১ শতাংশ বা ৭৩ জন।
মানবপাচার, অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা কমছে
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২০ জন নারী, যা মোট নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ৬.৬৭ শতাংশ। এই হার ছিল পূর্বের চারটি সংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
নবম জাতীয় সংসদে নারী সদস্য ছিলেন ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, দশম জাতীয় সংসদে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও একাদশ জাতীয় সংসদে মাত্র ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
দলভিত্তিক পর্যালোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে খুব কম দলই নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সর্বোচ্চ ১৫টি আসনের জন্য নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল, কিন্তু যাচাই প্রক্রিয়ার পর বৈধ নারী প্রার্থী মাত্র ১১। নাটোর-৩ থেকে ফাতেমা খানামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়ন যাচাই হয়নি।
অন্যান্য দল থেকে মনোনীত নারী প্রার্থীরা হলেন: বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-মার্ক্সবাদী: ৯, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসড) ও ইনসানিয়ত বিপ্লব বাংলাদেশ: ৬, গণসম্মতি আন্দোলন ও জাতীয় পার্টি: ৫, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: স্বপ্ন নাকি অধরা বাস্তব?
বাকি দলগুলোর মধ্যে এবি পার্টি, গন ফোরাম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি অফ বাংলাদেশ (সিপিবি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, আমজনতার দল, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক পার্টি ১ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কয়েকজন নারী প্রার্থী প্রার্থিতা হারিয়েছেন। ৩৭ জন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৬ জন বৈধ মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা হলেন: সাবিনা ইয়াসমিন (নাটোর-২), ডা. তাসনিম জারা (ঢাকা-৯), মেহেরজান আরা তালুকদার (জামালপুর-৪), অখতার সুলতানা (ময়মনসিংহ-৬), তাহমিনা জামান (নেত্রকোনা-৪) ও রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)।
এ দিকে জামায়াতে ইসলামী (২৭৬ প্রার্থী), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৬৮), জাতীয় পার্টি (২২৪), গণঅধিকার পরিষদ (১০৪), খেলাফত মজলিশ (৯৪) এবং অন্যান্য ছোট দলগুলো, যেগুলোর প্রার্থী সংখ্যা ৪০-এর কম, কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।
এর সম্ভাব্য প্রভাব কী
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল ১ জনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, এমন তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির এক রিপোর্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও বাংলাদেশের ইতিহাসে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনেও নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। তবুও দেশের নারীরা এখনও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত বলে উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ।
বিশ্ব সঙ্গীতশিক্ষাকে গুরুত্ব দিলেও উল্টো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ
নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ফোরাম ফর উইমেন্স পলিটিকাল রাইটস (এফডব্লিউপিআর) বলেছে, দলগুলোকে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। তাদের মতে, নারীর মনোনয়ন প্রতীকী উদ্যোগ নয়, সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নারী প্রার্থী মনোনয়নের সংকট: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ব্যবধান এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের নেতারা নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণের অত্যন্ত কম হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঋতু সাত্তার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন, কিন্তু তারা সংসদে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সামিনা ইয়াসমিন বলেন, নারীর ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি। তিনি বলেন, ‘৫১ শতাংশ ভোটারকে বাদ দিয়ে ৪৯ শতাংশের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় যাওয়া কি সম্ভব? এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন।’
সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ
সামিনা আরও জানান, ফোরাম নারীদের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা পর্যবেক্ষণ করছে নারীরা কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে তা মোকাবিলা করছেন এবং ভবিষ্যতে কার্যকর সমাধানের পথ কী হতে পারে।
তিনি আরও বলেছেন, নারীর অধিকার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার পরও এই নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম রয়েছে, যা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
এ দিকে, নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক ৭১টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’।
কুকি-চিনের উত্থান বনাম বান্দরবানের পর্যটন: ক্ষতির পাহাড়
সমাজে নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি যেভাবে চলমান, সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণে শঙ্কা বোধ করছেন দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি সমাজে পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিত্রের প্রতিফলন এবং একই সঙ্গে পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতি টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল।
নির্বাচন ও রাজনীতিতে নারীর দৃশ্যমান অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বলছে, একটি গণতান্ত্রিক, সমতাপূর্ণ সমাজ কাঠামো তৈরি করতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তফসিল অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় নির্বাচনী প্রচরণা, যা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
২৯ দিন আগে