অধ্যাপক ইউনূস
ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতির মধ্যে বিদায়ী ভাষণ দিলেন অধ্যাপক ইউনূস
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভাষণ শেষে তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) নতুন সরকারের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ।
গত বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়ে পরবর্তী সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট যায় ৭৭টি আসন।
৫ দিন আগে
বিদায়ী সাক্ষাতে সেনাপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা তার দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
৫ দিন আগে
সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।
‘দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।’
আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে।
‘একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সকল শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান, আপনারা সকলে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করুন। গণতন্ত্রের এ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’
১০ দিন আগে
শেরপুরের সহিংসতায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে: অন্তর্বর্তী সরকার
শেরপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতির মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকার এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতার ফলে প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে থাকাকালে সরকার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামসহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই।
শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে সরকার বলেছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া সব রাজনৈতিক দল, নেতা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সকলের প্রতি শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২৩ দিন আগে
ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ উদ্বোধন করলেন অধ্যাপক ইউনূস
দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রদর্শনী ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, আগামী বিশ্ব হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের বিশ্ব। আমরা এখন যেগুলো চিন্তাও করতে পারছি না, সেগুলো বাস্তব হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতি দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। আমরা যদি নিজেদের গতি দ্রুত না করি, ওই গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান না করি, কী পরিমাণ দ্রুতগতিতে আমরা পিছিয়ে পড়ব, চিন্তাও করা যায় না।
তিনি বলেন, এই খাতটাই (প্রযুক্তি) হচ্ছে মূল খাত। এই খাত থেকেই ভবিষ্যত রচনা হবে। তাই এই খাতকে প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
এক্সপোতে উদ্ভাবন, ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল প্রযুক্তি, ই-স্পোর্টস ও বি-টু-বি (B2B) জোনের পাশাপাশি পণ্যে বিশেষ ছাড় ও অফারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এক্সপোটি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর এক্সপোর থিম সং পরিবেশন করা হয় এবং একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন প্রদর্শিত হয়।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিসিএস সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং বিএইচটিপিএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ১০০ থেকে ১৪০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষার আশ্বাসও দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা মানবসম্পদ উন্নয়নে যথাযথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ডিজিটালি দক্ষ জাতি গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল সেবা রপ্তানিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিগগিরই বাংলাদেশ অন্য দেশের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে বিশ্বকে নতুন প্রযুক্তি উপস্থাপন করতে সক্ষম হবে।
এই এক্সপোর উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আকর্ষণ, সক্ষমতা ও সাফল্য তুলে ধরা এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া।
এক্সপোতে পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক বিনিয়োগ, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার, অর্থায়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বুদ্ধিমান সমাজ গঠন, ইনোভেশন ইকোসিস্টেমে বিদ্যমান ব্যবধান দূর, ডিপ-টেক ভ্যালু চেইন, উৎপাদন ও রপ্তানি ভিশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে।
অনলাইন বা সরাসরি নিবন্ধনের মাধ্যমে সবার জন্য এক্সপোতে প্রবেশ উন্মুক্ত। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেন্যুটি সম্পূর্ণ ওয়াই-ফাই কভারেজের আওতায় থাকবে।
এই এক্সপো বিভিন্ন শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
২৪ দিন আগে
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মান নির্ধারণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, শ্রম আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিপুল সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করবে এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদাররাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক পাঠাবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।’
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারাই বিজয়ী হবেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী।
এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশ উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশনে-সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগসহ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক কমানো সম্ভব হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। কৃষিপণ্য, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গেও কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।
দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আসিয়ানের সদস্যপদ চাইছে এবং ইতোমধ্যে আঞ্চলিক ব্লকের সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতি আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। আগামী সরকার এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা বিধিনিষেধ নিয়েও আলোচনা করেছে।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
২৯ দিন আগে
শিক্ষা যেন কেবল নিজের উন্নতির জন্য না হয়: সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার
আগামীকাল শুক্রবার হিন্দুদের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। এ উপলক্ষে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এদেশে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। এদেশ আমাদের সবারর। ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়, বাংলাদেশ সকল মানুষের জন্য এক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। সরস্বতী পূজার এই পবিত্র উৎসব উপলক্ষে আমি প্রত্যাশা করি, আমাদের শিক্ষা যেন কেবল নিজের উন্নতির জন্য না হয়, বরং সমাজের উন্নতির জন্য হয়। আমরা যেন আমাদের জ্ঞান দিয়ে অন্যকে সাহায্য করি, দুর্বলদের পাশে দাঁড়াই এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।
পরিশেষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
৩০ দিন আগে
আজ থেকে পরীক্ষা শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল: প্রধান উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ, ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা আসলে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবে, এটাই আমাদের কাজ। জাতির জন্য এটা বড় এক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের নিতে হবে এবং এই বিশাল কাজটি শেষ করে তাকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যেন কোনোকিছুর অভাব বোধ না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি কোথাও যেন কোনো গলদ না থাকে। ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। এখন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আমরা এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করব। সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করব, কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে।
তিনি বলেন, বডি ক্যামেরার নানা সম্ভাবনার দিক আছে। এটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে বিশাল মাত্রায় সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজন হলে আরও কম দিনের ব্যবধানে বৈঠকে বসা হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এবার নির্বাচনকে ঘিরে দেশ ও বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক নির্বাচন কভার করবেন এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছেন, আমাদেরও এ বিষয়ে সুপার সিরিয়াস থাকতে হবে। আমাদেরই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা প্রত্যেকেই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলছেন। আশা করি, তারা কেউই এই মনোভাব থেকে সরে যাবেন না।
বৈঠকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে।
তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় তিনশ’ জনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের দুজন প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রার্থীরা আজ মধ্যরাত থেকে শুরু করে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন ইসি সচিব।
সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবার একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সময় প্রয়োজন হবে। এটিকে ঘিরে যেন কোনো অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
৩১ দিন আগে
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও জুলাই সনদে ইতালির পূর্ণ সমর্থন
ইতালির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে বৈশ্বিক গুরুত্বের নতুন কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইতালি এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায়, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির সঙ্গে যাতে আগামীতে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করা যায়।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ সময় ইতালির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই সনদের প্রতি তার সমর্থনের কথা জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অভিবাসন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং জুলাই সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়।
জুলাই সনদের প্রশংসা করে মাত্তেও পেরেগো বলেন, ইতালি এই সনদে বর্ণিত সংস্কারের রূপরেখাকে সমর্থন করে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে রোমের পক্ষ থেকে তিনি পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতালিতে বাংলাদেশি সম্প্রদায় বেশ ভালোভাবে একীভূত হচ্ছে। তবে ভূমধ্যসাগরীয় পথে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
৩১ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক হবে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য উপস্থিত থাকবেন। আলোচনায় নির্বাচনকালীন পরিবেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এটি হবে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এর আগে, গত বছরের ১৩ জুন লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম একান্ত বৈঠক হয়। তখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ডরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষ যৌথ বিবৃতি দেয়।
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে তিনি অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হলেও দেশে ফেরার পর আজকের বৈঠকই হবে দুজনের প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংস্কার বিষয়ে গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত গণভোট হওয়ার কথাও রয়েছে।
৩৭ দিন আগে