ইভারস ইয়াবস
বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ২০০৮ সালের পর প্রথম ‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ নির্বাচন এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত বলে উল্লেখ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। তবে নারী প্রার্থীর স্বল্পতা, বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং কিছু প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস ইয়াবস এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনটি ছিল সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক এবং নবায়ন করা আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে নির্বাচনটি অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং মৌলিক স্বাধীনতা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একইসঙ্গে নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক পরিসর তাদের অংশগ্রহণে বাধা তৈরি করেছে।
ইভারস ইয়াবস জানান, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে এবং অংশীজনদের আস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনি আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য উপযোগী হলেও আইনি নিশ্চয়তা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
কমিশন গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বজায় রেখেছে, তবে কঠোর প্রচারণাবিধি সবক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পক্ষপাতের অভিযোগও উঠেছে।
নির্বাচন প্রস্তুতি পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিদেশে থাকা প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নির্বাচনকর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং সামগ্রী বিতরণও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র প্রতিবন্ধী ও সীমিত চলাচলক্ষম ভোটারদের জন্য সহজ প্রবেশযোগ্য ছিল না।
ভোট গণনা ও ফল সংকলন মোটামুটি দক্ষতার সঙ্গে হলেও কিছু ক্ষেত্রে অখণ্ডতা রক্ষার ব্যবস্থা পুরোপুরি অনুসরণ হয়নি এবং তিনটি ঘটনায় ফল সংকলনে স্বচ্ছতার ঘাটতি লক্ষ করা হয়েছে। তবুও দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি এবং নিয়মিত ফল প্রকাশ জনআস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ৬০০-এর বেশি আপিল নিষ্পত্তি এবং দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থী পুনর্বহালকে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, দুই হজারের এর বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোটাররা বিস্তৃত রাজনৈতিক বিকল্প পেয়েছেন। প্রচারণা ছিল প্রাণবন্ত এবং প্রার্থীরা সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করেছেন, যদিও শেষদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পারস্পরিক অভিযোগ বেড়ে যায়।
নারীর অংশগ্রহণ কম হওয়াকে বড় হতাশা হিসেবে উল্লেখ করে ইভারস ইয়াবস বলেন, মাত্র ৪ শতাংশ প্রার্থী নারী ছিলেন। পিতৃতন্ত্র, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি ও চরিত্রহনন নারীদের অংশগ্রহণে বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে। আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং জনপরিসরে ধর্মীয় বক্তব্যের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যাতে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নারী প্রচারকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সম্পত্তিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।
অনলাইন প্রচারণায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণে।
ইভারস ইয়াবস জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অন্তত ৩০টি ভুয়া তথ্যের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। জাতীয় ফ্যাক্ট চেকিং উদ্যোগগুলো সক্রিয় থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিক্রিয়া ধীর ছিল।
নাগরিক সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ৮১টি নাগরিক পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তরুণ কর্মীরা দেশজুড়ে ভোটার শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে গণতান্ত্রিক চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
ইয়াবস বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার প্রতিফলন ঘটায় না, এমন পুরোনো চর্চা পরিত্যাগের সময় এসেছে। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা জোরদারের মাধ্যমে নতুন পথরেখা নির্ধারণ করতে হবে।’
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলের প্রধান টমাশ জদেচোভস্কি বলেন, ‘দেশ এখন একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। নতুন সংসদ ও সরকারকে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।’
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। ভোটের দিন মিশনের ২২৩ জন পর্যবেক্ষক রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষকরা এই মিশনে যুক্ত হন। দেশের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে মিশনটি। এরপর আগামী মাসগুলোতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের উন্নয়নকল্পে সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
৭ দিন আগে
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য আজ বড় একটি দিন: ইয়াবস
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের এই দিনকে একটি ‘বড় দিন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস ইয়াবস।
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য আজ একটি বড় দিন। আমরা সবাই সবার অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নিউ বেইলি রোডে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন শুরুর প্রায় আধঘণ্টা আগে থেকেই এই পর্যবেক্ষক দলটি ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের সামনে ব্যালট বাক্স উল্টেপাল্টে দেখানোর পর ভোটগ্রহণের জন্য রাখেন। এরপর নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইভারস ইয়াবস। তিনি বলেন, ‘এখানে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন শুরু হয়েছে। আমরা সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেখেছি।’
শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দিনের বাকি সময়েও তিনি পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানান।
ইইউয়ের প্রধান পর্যবেক্ষক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল কেন্দ্র পরিদর্শনের পর দুপুর ১২টায় তিনি আরও তথ্য জানাবেন।
ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেশের ৬৪টি জেলায় ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে ইইউ। এসব পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটগ্রহণ সমাপ্তি, ব্যালট গণনা এবং ফলাফলের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
সাংবাদিকদের ইয়াবস বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় শহর, মফস্বল ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। সারা দিন তাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হবে।’
সারা দেশে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা অবদান রাখছেন।
৯ দিন আগে
নির্বাচনি পরিবেশ ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক: ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান
বাংলাদেশে একটি নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইয়াবস। তিনি বলেছেন, ‘সামগ্রিক নির্বাচনি পরিবেশ ইতিবাচক। এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সংবাদ সম্মেলনে ইভারস ইয়াবস এসব কথা বলেন।
ইভারস ইয়াবস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে। গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রার্থী এবং দেশের এলাকায় সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সাধারণ পরিবেশ খুব ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। যাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই জোর দিয়ে বলেছেন যে এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, ‘মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।’
নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইয়াবস বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক বিষয়। নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে সব সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ মিশনের বিশেষ নজরে থাকবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় ইইউ মিশনের ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে বলে জানান তিনি। ইয়াবস জানান, এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাবদ্ধসহ নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা শহর, নগর ও গ্রামে প্রায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে উপস্থিত থাকবেন। তাদের সারা দিনের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হবে।
এই পর্যবেক্ষক বলেন, দেশজুড়ে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার মাধ্যমে তারা এই নির্বাচনের স্বচ্ছতায় অবদান রাখছেন। এই বিশাল এবং নিবেদিতপ্রাণ মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অটুট অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
প্রাক-নির্বাচনি প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং তখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
‘নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকরা ইউরোপের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে আগ্রহী।’
এর আগে, গত মাসে মিশনটির ৫৬ জন প্রতিনিধি দীর্ঘ মেয়াদে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ঢাকায় আসেন। তারা নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রস্তুতি, নির্বাচনি প্রচারণা, ভোটার শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে যোগাযোগ।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদল মিশনটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। পূর্ণ সক্ষমতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই মিশনে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন।
নির্বাচনের দুই দিন পর, অর্থাৎ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি প্রাথমিক বিবৃতি দেবে ইইউ মিশন। ওইদিন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাদের। তার দুই মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে তারা।
ইভারস ইয়াবস জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’ অনুযায়ী তাদের মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের সবাই কঠোর আচরণবিধি মেনে চলবেন।
১১ দিন আগে
নির্বাচনে তিন বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইয়াবস।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয়ের বিশেষ গুরুত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নাগরিকরা কতটা নির্ভয়ে ও নিরাপদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন, নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।’
ইভারস ইয়াবস জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা, অংশগ্রহণমূলক প্রকৃতি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইসঙ্গে এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ইইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে ইয়াবস বলেন, আপনার সুন্দর দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উভয় দিক থেকেই সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আমরা এখানে এসেছি। এই লক্ষ্যে আমাদের এই নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং আমরা এই নির্বাচনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মিশনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে, যেখানে আমাদের কাজ হলো কেবল পর্যবেক্ষণ করা, তবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নয়। এই কারণে, যেহেতু নির্বাচন খুব নিকটে, আমি কোনো দলের নিয়ম লঙ্ঘন বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করব না।’
ইভারস ইয়াবস বলেন, আমরা নির্বাচনের পরপরই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আমাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রদান করব এবং দু মাস পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করব।
ইইউ এর এই পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, এই মিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে একমাস আগে শুরু হয়েছে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দল (এলটিও) ইতোমধ্যে ঢাকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
ইয়াবস বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যার মধ্যে প্রধান অংশীদার হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্তৃপক্ষ, প্রার্থী, দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন এনজিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন পর্যবেক্ষক আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী বাম্বি এবং ক্রিশ্চিয়ান এখানে এক মাস ধরে কাজ করছেন এবং আগামীকাল (আজ) ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেবেন, যারা নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে প্রচার এবং ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন। এটি কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন নয়; সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও কানাডার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশও এতে অংশগ্রহণ করছে।
এ সময় তাদের পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা, শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে থাকবেন বলে জানান ইয়াবস।
ইইউয়ের এই পার্লামেন্ট সদস্য আরও বলেন, ঢাকায় আমাদের মূল দলে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা, যেমন: আইনি বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশ্লেষক এবং মিডিয়া বিশ্লেষক রয়েছেন। তারা প্রথাগত ও সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে তারা কোনোভাবেই এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন না বা কাউকে কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না।
এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন আয়োজন করা মূলত বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজ এবং এখানে বাইরের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
ইয়াবস বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুঁজে পাওয়া।
বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করতে এবং সবুজ শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আমাদের কাছে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৪ দিন আগে
নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতির আহ্বান ইইউয়ের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইয়াবস বলেছেন, ব্যালটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন—এই দুটি ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তিনি সমাজের সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের বিশ্বাসযোগ্য উপস্থিতির ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াবস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে নির্বাচন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে এখানে আমাদের কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে।’
তফসিল অনুযায়ী, বর্তমানে মনোনয়নপত্র নিয়ে আপিল শুনানি চলছে, যা চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, যা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। তারপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনের দুই দিন পর, অর্থাৎ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি প্রাথমিক বিবৃতি দেবে ইইউ মিশন। ওইদিন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাদের। তার দুই মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে তারা।
ইভারস ইয়াবস জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’ অনুযায়ী তাদের মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের সবাই কঠোর আচরণবিধি মেনে চলবেন।
আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ইইউ দেয় গত ১৬ ডিসেম্বর। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইয়াবস প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে ওই দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে সেদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়। এরপর ডিসেম্বরের শেষ দিকে দলটি বাংলাদেশে এসে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সবশেষ আজ (রবিবার) আরও ৫৬ জন পর্যবেক্ষক দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে অবস্থানের জন্য ঢাকা পৌঁছেছেন। দেশের ৬৪ জেলায় দলটি তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের পর এটিই বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।
এ বিষয়ে প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়াবস বলেন, ‘পারস্পরিক সম্মান ও গণতান্ত্রিক নীতিতে অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউয়ের অংশীদারত্বের গুরুত্ব পুনরায় নিশ্চিত করে এই মিশন।’
ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরের শুরুতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চলমান নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষ তথ্য নেন ইয়াবস।
মিশনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন পর্যবেক্ষকরা। সেইসঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও তার বাস্তবায়ন, নির্বাচনি প্রচারণা এবং নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিসহ পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবেন তারা। এছাড়া রাজনৈতিক দল এবং নারী, তরুণ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীসহ সব নাগরিকের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিসর মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইয়াবস জানিয়েছেন, এ ছাড়াও ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখছে, তা পর্যালোচনার জন্য ইইউ মিশনের আলাদা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিট রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, জাতীয় আইন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনি মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাও মূল্যায়ন করবে এই মিশন।
প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, ‘তিনটি মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে আমরা নির্বাচনের কারিগরি মূল্যায়ন করে থাকি, সেগুলো হলো: স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও হস্তক্ষেপ না করা। এ লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘমেয়াদি, দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ করা যায়—এমন একটি শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করব। আমরা পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করব, তবে ভোটের ফল নিয়ে প্রত্যয়ন করব না। এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের জনগণের।’
পূর্ণ সক্ষমতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই মিশনে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ সদস্যের একটি মূল বিশ্লেষক দল, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, নির্বাচনের ঠিক আগে মোতায়েনযোগ্য ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইইউ সদস্যরাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে পর্যবেক্ষকেরা থাকবেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে।
৪১ দিন আগে