ঠাকুরগাঁও-১
ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসনেই বিএনপির জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুযারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপুর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। এ ছাড়াও আরেক প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৫১ ভোট।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭১ জন। মোট কেন্দ্র ছিল ১৮৫টি। ভোটে অংশগ্রহণ করেছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০৪ জন। ভোটের প্রদানের হার ৭৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুস সালাম ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৩২ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৪টি। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭১১ টি। ভোট দেওয়ার হার ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো. মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৯১ হাজার ৯৩৪ ভোট।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭০১ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৪২৬ জন। মোট কেন্দ্র ১২৮টি। ভোট দিয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩৪ জন। ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
৮ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ১২৯ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৯টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৪৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অপরদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামী মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৩৬৮ ভোট।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ১০৪টির মধ্যে ৮১টি কেন্দ্রের ফলাফলে মাওলানা আব্দুল হাকিম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৮৯ ভোট এবং ডা. আব্দুস সালাম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৭৮২ এবং
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ) ২৭ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতের মিজানুর রহমান।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে এবার মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে দুইজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৩ জন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৭ জন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
তিনটি আসন মিলিয়ে জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ৫৫ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮৮ জন, পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭ জন।
জেলায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ১০ হাজার ২৯২ জন ভোটার, যার মধ্যে নারী ২ হাজার ৩২৬ জন এবং পুরুষ ৭ হাজার ৯৬৬ জন।
৯ দিন আগে
এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এবার আমরা স্বাধীনভাবে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে, তবে কিছুটা তো শঙ্কা থেকেই যায়। আশা করছি, এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’
ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সব সময়ই ফলাফল গ্রহণ করেছি। ২০০৮ সালে বিএনপি যখন ৩০টি আসন পেল, তখনও আমরা সংসদে গিয়েছি। এবার আমরা আশাবাদী, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।’
জামায়াত ও প্রতিপক্ষের মাঠ গোছানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াত খুব কৌশলী দল। তারা খুব অপপ্রচার চালায়, ধর্মকে ব্যবহার করে, চরিত্র হনন করে। জামায়াত কৌশলগতভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে এবং ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে আমি জনগণকে বোকা ভাবি না। অপরদিকে বিএনপি ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এ ছাড়াও প্রতিপক্ষকে আমরা কোনদিনই দুর্বল মনে করি না। সে যেমনই হোক, তাকে সবল মনে করেই আমরা আমাদের কাজ চালাই।’
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মী এবং প্রিন্ট ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো কখনোই সঠিক রাজনীতি হতে পারে না: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চরমোনাইসহ দেশের আলেম-ওলামারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামি দল নয়। তারা ইসলামের কথা বলে প্রতারণা করছে। তারা বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে, নাউজুবিল্লাহ। কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারেন না। মুসলমান বিশ্বাস করে আমলের ওপর। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাত দেবেন কি দেবেন না, তা আমলের ওপরই নির্ভর করে।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি এলাকার নারগুণ ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মা-বোনদের ভুল বুঝিয়ে বলা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে। ধর্মের নামে এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো কখনোই সঠিক রাজনীতি হতে পারে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে একটি দল রাজনীতিতে সামনে আসছে যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের সঙ্গেই ছিল, একসঙ্গে চলেছে, এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আসছে। এতে আপত্তি নেই, তবে রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না, গিবতকারীদের মতো গিবত গাইবেন না এবং অন্যের কুৎসা রটাবেন না।
তিনি আরও বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় এসেছে, জামায়াতের আমির সাহেব নারীদের নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যে দলের একজন নেতা মা-বোনদের ইজ্জত দিতে ও সম্মান করতে পারেন না, তাদের সম্পর্কে কটু কথা বলে, তারা কখনো বেহেশতে যেতে পারবে? তারা কি ভালো কাজ করতে পারবে?
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ইনশাআল্লাহ জনগণ ভোট দিতে পারবে এবং একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি কাজে বিশ্বাস করে, সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করি।
তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান একেবারেই জিয়ার মতো হয়ে উঠেছেন। দেশে ফিরেই তারেক রহমান বলেছেন— ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, অর্থাৎ তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব সরকার নেবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বপ্রথম ভুট্টা চাষের সূচনা হয়েছে বিএনপির হাত ধরেই। কাজী ফার্মস আনার মাধ্যমে জেলায় ভুট্টা চাষ বেড়েছে, কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় আগামী ১২ তারিখ সকালে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
১৭ দিন আগে