ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে সেনা ট্রাক-বাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫ জন
ময়মনসিংহে সেনাবাহিনী সদস্যবহনকারী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে উভয় গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় কাকলি রাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সেনাবাহিনীর ট্রাকচালক সার্জেন্ট রেজাউল (৩৬) ও বাসচালক আব্দুল বাসেত (৫০)। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, আজ (বুধবার) সকালে সেনাবাহিনী তাদের ক্যাম্প কার্যক্রম শেষ করে ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহ ফেরার পথে বালিয়া মোড়ে পৌঁছালে শেরপুরগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ১৫ জন।
আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৬ জনকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে ট্রাকটির ড্রাইভার সার্জেন্ট রেজাউল করিম (৩৬) এবং যাত্রীবাহী বাসের চালক আব্দুল বাসেত (৫০) মারা যান।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে দুর্ঘটনার শিকার যান সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৩ দিন আগে
শেরপুরে বিএনপি কর্মীর ওপর হামলা, অভিযোগের আঙুল জামায়াত সমর্থকদের দিকে
শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এক বিএনপি কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া-বালুরঘাট এলাকার কান্দাপাড়া-নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়াকে (৩৫) শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায়, নাকে-মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
রাসেল মিয়া শেরপুর-১ (সদর) আসনে হেরুয়া বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন। তিনি ইদ্রিস গ্রুপের জিহান অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন।
হাসপাতালের বেডে থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি শেরপুর শহর থেকে মোটরসাইকেলে করে হেরুয়া এলাকার নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এবং মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করেন।
তিনি বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। আমি বিএনপি করি, ধানের শীষের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলাম, এ কারণেই রাতে বাড়ি ফেরার পথে আমার ওপর জামায়াত সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। জাময়াত সমর্থক স্থানীয় কেরামত, জামাল, সোহেল, মনির ও তার ভাইসহ ১২/১৩ জন মিলে আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার মোটরসাইকেলের পিছু পিছু একটি মোটরসাইকেলে করে ৩ জন আসছিলেন। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং সামনে তখন আরও ৮/৯ জন ছিলেন। তারা সবাই মিলে লাঠিসোটা নিয়ে আমার ওপর আক্রমণ করলে আমি দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেই। সেই দোকানে ঢুকেও তারা আমাকে মারধর করেছেন। স্থানীয়রা তাদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন। এ সময় তার ওপর হামলাকারীদের বিচার ও শাস্তির দাবি করেন তিনি।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা রাতেই জেলা সদর হাসপাতালে আহত রাসেল মিয়াকে দেখতে যান এবং ঘটনার বিস্তারিত শুনেন।
ওসি সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৬ দিন আগে
সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু হত্যা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ইমন মিয়া (৯)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে ইমন প্রতিবেশী আতাহার আলীর গাছ থেকে সুপারী চুরি করে। এতদিন কিছু না বললেও শুক্রবার ইমনকে প্রতিবেশী আতাহার আলী তার ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে ঘরের দরজা লাগিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে ইমনের পরিবার তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বর্তমান পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফেরদৌস আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সুপারী চুরির ঘটনায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে নির্বাচনি সহিসংতার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
৭ দিন আগে
শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ নিহত ২
শেরপুরে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালনের জন্য আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর-জামালপুর সড়কের সদর উপজেলার শিমুলতলি এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান (৩১) ও গৃহবধু মাহফুজা বেগম (১৯)।
রোকনুজ্জামান জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে চাকরি করছিলেন। শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব ছিল তার। অপরজন মাহফুজা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কাতলামারি গ্রামের নীরব মিয়ার স্ত্রী ছিলেন।
আহতরা হলেন— শ্রীবরদী উপজেলার দয়ারচর গ্রামের শাহীন মিয়া (৩০), শহরের চকপাঠক এলাকার রায়হান মিয়া (৩০), নিহত মাহফুজার ৩ মাস বয়সী ছেলে আব্দুর রহমান, সদরের গাজীর খামার এলাকার মোহাম্মদ আলী (২৮) ও জামালপুরের উপজেলার খইর এলাকার সুরাইয়া বেগম (২২)। আহতদের মধ্যে ৩ জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ও ২ জন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশ ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ (বুধবার) রোকনুজ্জামান জামালপুর ব্রিজ মোড় থেকে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে শেরপুর শহরে আসছিলেন। পথিমধ্যে শিমুলতলি এলাকায় একটি পিকআপের সঙ্গে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এ সময় অটোরিকশার যাত্রী রোকনুজ্জামান ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাহফুজা নিহত হন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, শিমুলতলির ওই দুর্ঘটনায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
শেরপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত, আহত ৩
শেরপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনাদুটি ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের রাঙাডুবা তিন রাস্তার মোড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের ধাক্কা লাগে। এতে অজ্ঞাত এক নারী (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহত নারীর বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও তিনি পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।
এর আগে, সকাল ১০টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া এলাকার মিয়া খালি মোড়ে বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ৩ যাত্রী আহত হন বলে জানান স্থানীয়রা।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অপর ২ জনকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
১১ দিন আগে
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বাদল মারা গেছেন
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করেছেন।
কিডনি জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাদল দীর্ঘদিন যাবত কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। গতকাল (মঙ্গলবার) শবে বরাতের রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা হাসাপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়া হলে রাত দেড়টার দিকে স্বদেশ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বাদলের মৃত্যুর সংবাদে তার নির্বাচনি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত, বিএনপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
১৭ দিন আগে
শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেপ্তার
শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে ঝিনাইগাতী বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান রুবেল (২৮) ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক।
এদিকে, রুবেলকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গতকাল (সোমবার) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মামুন অর-রশীদ মামুন ও সদস্যসচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দ। বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতে ইসলামী দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়ট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রুবেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিতীয় কর্মকর্তা মো. আবুল হাশিম স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রুবেলকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রুবেল জামায়াত নেতা রেজাউল হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তাকে আাদলতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে, উচ্চ আদালত থেকে গতকাল (সোমবার) রেজাউল হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ ৪০ আসামির ৬ সপ্তাহের আগাম জামিনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ও জেলা জামায়াত নেতারা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের হাইকোর্টে আগাম জামিনের প্রতিবাদ জানিয়ে বাদী মারজিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেছেন, রেজাউল হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। অথচ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামিদের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন বাতিলের দাবি জানান।
এ সময় জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেছেন, আগাম জামিনে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে জামিনে থাকা এসব আসামি ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনকালে বাদী মারজিয়ার পাশে বসা ছিলেন নিহত রেজাউলের বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে ২৮ জানুয়ারি প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০/৫০০ জনকে আসামি করে শনিবার ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
১৮ দিন আগে
ল্যাম্প পোস্ট চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত, দুই যুবক নিহত
ময়মনসিংহ নগরীর জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন— নগরীর মাদরাসা কোয়ার্টার এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে হৃদয় (২৫)। অপরজনের নাম রাকিব মিয়া, তবে তার পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নগরীর জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠের পরিত্যক্ত টিনশেডের পেছনে অকেজো ল্যাম্প পোস্ট চুরি করতে ওঠেন রাকিব। তিনি ল্যাম্প পোস্টে উঠে কাটার সময় পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে তার শরীর ঝলসে যায়। বিষয়টি তার অন্য বন্ধু হৃদয় দেখতে পেয়ে তাকে বাঁচাতে যান। বাঁচাতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই রাকিবের মৃত্যু হয়, গুরুতর আহত হন হৃদয়। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে দুজনকে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
৩২ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলাম (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মাঝে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী রুবেলের কর্মী ছিলেন।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান সালমান ওমর রুবেল। উদ্বোধন শেষে ফিরে আসার সময় এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থকরা হঠাৎ রুবেলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। এ সময় নজরুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সালমান ওমর রুবেল বলেন, আমাদের অফিস উদ্ধোধন করে বের হওয়ার সময় পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে প্রিন্স ভাইয়ের লোকজন। আমার কর্মী নজরুল হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তারে দাবি জানাচ্ছি।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আমি হালুয়াঘাটে আছি। এই ব্যাপার নিয়ে আমি পুরোপুরি অবগত নই। তবে প্রাথমিকভাবে যেটুকু শুনেছি এটা তাদের পারিবারিক কোনো একটা সমস্যা নিয়ে ঝামেলা। এটাকে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা করছে তারা। যে মেরেছে তিনি আমাদের দলের সাবেক কর্মী। তবে এটা যদি এরকম হয়ে থাকে, আমরা ব্যবস্থা নেব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুনেছি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালসান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩৫ দিন আগে
পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার ৭
ময়মনসিংহ সদরের দিঘারকান্দা এলাকায় মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামির বাবাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, ওইদিন বিকেলে দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় মামলার আসামি স্থানীয় আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে তার পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
অভিযানে পুলিশের দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ। আহত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে আমার নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমকে) হাসপাতালে ভর্তি করান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাতেই আরিফুলের বাবা সাগর আলীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া রাতভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৩৮ দিন আগে